April 22, 2009

Sheikh Hasina visits Saudi Arabia

সৌদি বাদশাহর সঙ্গে বৈঠক

জনশক্তি রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের

আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে আরও জনশক্তি নিতে সৌদি বাদশাহ আবদুলস্নাহ বিন আবদুল আজিজকে অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি একইসঙ্গে বাংলাদেশের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারেরও আহ্বান জানান। সৌদি সফরের প্রথম দিনে গত রাতে ওই দেশের রাজধানী রিয়াদে দ্বিপৰীয় বৈঠককালে তিনি এ আহ্বান জানান। বৈঠকে জনশক্তি খাত ছাড়াও দু'দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে বিনিয়োগসহ দ্বিপৰীয় স্বার্থসংশিস্নষ্ট সকল বিষয়ে আলোচনা হয়। মুসলমানদের দুই পবিত্র মসজিদের সংরৰক সৌদি বাদশাহ'র সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এ বৈঠকে সফরসঙ্গী মন্ত্রীরাও উপস্থিত ছিলেন। গত রাতে রিয়াদে বাদশাহ'র আল হামাম প্রাসাদের রাজকীয় দরবার হলে এ বৈঠক হয়। মুসলিম উম্মাহর অভিভাবক হিসেবে পরিচিত সৌদি বাদশাহ'র আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন পাঁচ দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে সৌদি আরব রয়েছেন। দ্বিপৰীয় ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশী শ্রমিকদের দুর্দশাসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এর আগে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স সৌদ আল ফয়সাল বিন আবদুল আজিজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কনফারেন্স প্যালেসে সাৰাৎ করেন। বৈঠকে জনশক্তি রপ্তানিসহ বিভিন্ন দ্বিপৰীয় বিষয় আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সৌদি আরবে বাংলাদেশী শ্রমিকদের বর্তমান অবস্থা নিয়ে তার উদ্বেগের কথা জানান এবং উদ্বেগ কাটাতে সৌদি সরকারের সহায়তা কামনা করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপুমনি, প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ ও শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ান উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ও সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী উভয়ে ভবিষ্যতে দু'দেশের চমৎকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। একই স্থানে সৌদি আরবের শ্রমমন্ত্রী ড. আবদুল ওয়াহেদ বিন আল হুমাইদীর সঙ্গে শ্রম ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ বৈঠক করেন। গতকাল সকালে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রিয়াদ পেঁৗছান। রিয়াদের বাদশাহ খালেদ আনত্দর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান শূরা কাউন্সিলের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ড. সৌদ বিন সায়ীদ আল মা'তামি। এসময় সৌদি আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ফজলুল করিম ও বাংলাদেশে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুলস্নাহ বিন নাসের আল বুসাইরি উপস্থিত ছিলেন। সেখান থেকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে তাকে কনফারেন্স প্যালেসে নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার মধ্যরাতে বাংলাদেশ বিমানের ঢাকা-রিয়াদ ফ্লাইটে রিয়াদের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়ে যান। এটি তার প্রথম বিদেশ সফর। তার সফরসঙ্গী হিসেবে বোন শেখ রেহানা, ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ৪২ সদস্যের দলে রয়েছেন সরকারের চার মন্ত্রী- পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপুমনি, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ ও শ্রম প্রতিমন্ত্রী বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান। প্রধানমন্ত্রীকে জিয়া আনত্দর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদায় জানাতে মন্ত্রিসভার সদস্যরা ছাড়াও সরকারের ঊধর্্বতন কর্মকর্তারা, তিন বাহিনী প্রধান ও ঢাকার কূটনৈতিক কোরের ডীন সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত ডোরা র্যাপোল্ড উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে গত রাতেই রিয়াদ থেকে মক্কা নগরীর উদ্দেশে রওনা হবেন বলে জানা গেছে। রাতেই তার ওমরাহ হজ করার কথা রয়েছে। এ সময় তার বোন শেখ রেহানা ও ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়সহ অন্য সফরসঙ্গীরাও হজ আদায় করবেন। আজ তিনি পবিত্র নগরী মদিনা যাবেন এবং মহানবী (সা.)-এর রওজা মোবারক জিয়ারত করবেন এবং নামাজ আদায় করবেন। ২৪শে এপ্রিল রাতে বাংলাদেশ বিমানের জেদ্দা-ঢাকা ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা করবেন বলে জানা গেছে। ২৫শে এপ্রিল তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

April 21, 2009

অন্যায় শাস্তির অভিযোগ জলিলের

পদে রেখেও কাজ করতে না দেয়াকে অন্যায় শাস্তি বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল। তিনি বলেছেন, দলের প্রতি এখনও তার আনুগত্য অন্য যে কারও চেয়ে বেশি এবং নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে চান তিনি। গতকাল একটি বে-সরকারি টিভি চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমি আওয়ামী লীগের একমাত্র অত্যাচারিত ব্যক্তি। কোন ব্যাটা আছে যে, ওই পরিস্থিতিতে চিঠি সই না করে পারবে। যেখানে জীবনের ভয়, পরিবার পরিজনের ওপর অত্যাচারের ভয়। সন্তান সন্ততির জীবন নিরাপত্তাহীনতায়। আমি সেই অবস্থায় চিঠিতে সই করেছিলাম। বন্দি অবস্থায় বাইরে যারা ২৪ ঘণ্টা দালালি করেছে তারা ভাল আছে। তিনি বলেন, আমার নেত্রীও তো বলেছিলেন বাঁচার জন্য আমার বিরুদ্ধেও বলার দরকার হলে বলবেন। তারপরও আমাকে শাস্তি দেয়া উনার ঠিক হয়নি। হয় উনি মিথ্যা কথা বলেছেন, সঠিক কথা বলেননি। আর না হয় পরবতর্ীতে তিনি মানুষের দ্বারা ভুল পথে পরিচালিত হয়েছেন। বেগম মতিয়া চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আবদুল জলিল বলেন, মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, জলিল ভাই আপনি একমাত্র লোক যিনি শেখ হাসিনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ওরা সব ভুলে গেছে। নিজের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য সত্য কথা বলতে সাহস পায় না ওরা। সাহস যদি থাকতো তারা বলতে পারতো যে একটি লোকের বিরুদ্ধে অন্যায় হচ্ছে। তিনি বলেন, আমি আমার দলের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক। আমি আমার পার্টির দায়িত্ব পালন করতে চাই। আবদুল জলিল বলেন, তার সব ক্ষোভের কথা দলের সভানেত্রীকে জানিয়েছেন। তবে কোন উত্তর পাননি।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন সেনাপ্রধান

ফুটবলের জন্য বড় অঙ্কের পৃষ্ঠপোষকতা নিয়ে বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদ। গতকাল সকাল ১১টায় তিনি ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকারের কাছে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগপত্র পাঠান। ১২ই এপ্রিল ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে বসুন্ধরা গ্রুপের একটি চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধানের উপস্থিতি নিয়ে সমপ্রতি সমালোচনার ঝড় ওঠে। ওই অনুষ্ঠানে বাফুফের আমন্ত্রণে প্রধান অতিথি ছিলেন সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদ। অনেকেই মনে করছেন, এরই প্রতিক্রিয়া হিসেবে এএনসি চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন সেনাপ্রধান। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাফুফেকে প্রায় ২০০ কোটি টাকা মূল্যের দু'টি খেলার মাঠ উপহার দেয়ার ঘোষণা দেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান। ওয়ান ইলেভেনের পর এটাই ছিল দেশে তার প্রকাশ্য উপস্থিতি। গত রোববার বাফুফের পক্ষ থেকে এ নিয়ে তাদের বক্তব্য তুলে ধরা হয় সংবাদ মাধ্যমের সামনে। ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে সেনাপ্রধানের বিভিন্ন অবদানের কথা তুলে ধরে বলা হয়, তাদের আমন্ত্রণেই মইন উ আহমেদ সারা দেশের ফুটবলের উন্নয়নের স্বার্থে ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে তিনি জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে মাঠ এবং ডিএএফ-এর জন্য অফিস বরাদ্দের ঘোষণা দেন। তবে কিছু মহল ওই ঘটনাটি ভালভাবে নিতে পারেনি। এদিকে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ চেয়ারম্যানের পিএস সেরনিয়াবাত জানান, 'জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ থেকে সেনা প্রধানের পদত্যাগের খবরটি সত্যি। তবে কখন তিনি পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন মন্ত্রণালয়ে তা আমরা বলতে পারবো না। মূলত ব্যক্তিগত কারণে খুব বেশি সময় দিতে পারছেন না বলেই তিনি সরে দাঁড়িয়েছেন বলে আমরা শুনেছি।' সেনাপ্রধান সরে দাঁড়ানোয় চেয়ারম্যান পদে সংবিধান অনুযায়ী আসীন হবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার। আবার তার পদত্যাগের সিদ্ধান্তের পেছনে অনেকে সরকারের হস্তক্ষেপ রয়েছে বলেও মনে করে। ক্রীড়াঙ্গনের সর্বোচ্চ সংস্থার প্রধান হিসেবে অতীতে ক্রীড়া মন্ত্রীকেই দেখা গেছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই আলোচনা ছিল কবে এনএসসি'র শীর্ষপদে রদবদল হবে সে বিষয়টি।


২০০৭ সালের ৮ই জুলাই ফখরুদ্দীন নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্বে থাকাকালে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের দায়িত্ব নেন সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদ। এর আগে এনএসসি'র দায়িত্বে ছিলেন তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা তপন চৌধুরী। সেনাপ্রধান দায়িত্বে থাকাকালে ক্রীড়াঙ্গনের আমূল পরিবর্তন সাধিত না হলেও প্রতিটি ক্রীড়া ফেডারেশনের সঙ্গে একটি করে বাণিজ্যিক ব্যাংককে জুড়ে দেয়ার ঘটনাটি সব মহলেই প্রশংসিত হয়েছিল। তাছাড়া তার দায়িত্বকালে প্রায় সব ক'টি ফেডারেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া প্রতিটি ফেডারেশনকে স্বাবলম্বী করে তুলতে বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে ক্রীড়াঙ্গনের প্রতি আগ্রহী করতে বড় ভূমিকা পালন করেন। সমপ্রতি প্রতিটি উপজেলায় একটি করে খেলার মাঠ তৈরির ঘোষণাও দিয়েছিলেন সেনাপ্রধান।

April 15, 2009

বাড়ি ছাড়তে এ সপ্তাহেই খালেদাকে নোটিশ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ঢাকা সেনানিবাসের বাড়ি ছেড়ে দিতে চলতি সপ্তাহেই নোটিশ দেবে প্রতিরৰা মন্ত্রণালয়। এরপরও বাড়ি না ছাড়লে তার বিরম্নদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবে সরকার। এ নিয়ে রাজপথে আন্দোলন করেও কোন লাভ হবে না বলে আভাস দিয়েছেন আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ। গতকাল আইন মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে এ সংক্রানত্দ বিষয়ে আইন প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট কামরম্নল ইসলাম, মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. আবদুল আজিজ, এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, আইন সচিব কাজী হাবিবুল আউয়াল, প্রতিরৰা সচিবসহ ঊধর্্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ সব কথা বলেন তিনি। ওদিকে প্রায় এক সপ্তাহ হয়ে গেলেও গত বুধবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকের কার্যবিবরণী এখনও জারি করেনি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ওই বিভাগের এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, মন্ত্রিসভার বৈঠকের কার্যবিবরণী চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যেই জারি হয়ে যায়। তবে এবারের কার্যবিবরণী এখনও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে অনুমোদন হয়ে ফেরত আসেনি। তাই জারি করা যাচ্ছে না। দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাড়ি নিয়ে সিদ্ধানত্দের ঘরে কি লেখা হবে এনিয়ে দোটানায় রয়েছে সরকার। এজন্য ঊধর্্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করছেন আইনমন্ত্রী। এর আগে গত রোববারও তিনি আইন মন্ত্রণালয়ে ঊধর্্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। গতকাল নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বাড়ি বরাদ্দ নিয়ে বিএনপি আদালতে গেলে অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেবে সরকার। বিষয়টি দেখবে প্রতিরৰা মন্ত্রণালয়। বাড়ির বরাদ্দ বাতিল নিয়ে বিএনপি'র রাজপথে আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোন রাজনৈতিক দলের নামে বাড়ি বরাদ্দ দেয়া হয়নি। তাদের আন্দোলন করার কথাও না। যার নামে বাড়ি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তিনি এখনও কোন কথা বলছেন না। তার কথা বলা প্রয়োজন। বৈঠকের আলোচনা প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার শফিক বলেন, বৈঠকে খালেদা জিয়ার বাড়ির বরাদ্দ সংক্রানত্দ বিষয়ে এবং তারা আদালতে গেলে সরকারের কি করণীয় এসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে সিদ্ধানত্দ হয়েছে আগামী সপ্তাহে বেগম খালেদা জিয়াকে সময় বেঁধে একটি নোটিশ পাঠানো হবে। নোটিশে তাকে বাড়ি ছাড়তে অনুরোধ করা হবে। এর মাধ্যমে তাকে সরকার সময় দিয়ে সুযোগ দিতে চায়। কিসের ভিত্তিতে নোটিশ দেয়া হবে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, বাড়ি বরাদ্দের আইনগত বৈধতা না থাকায় এ নোটিশ দেয়া হচ্ছে। সেনানিবাসের মতো জায়গায় কারও নামে ৯ বিঘা জমি থাকতে পারে না। সেনানিবাস অ্যাক্ট-১৯২৪ অনুযায়ী সেনা কতর্ৃপৰও কারও কাছে সেনানিবাসের জমি বিক্রি, লিজ, দান করার ৰমতা রাখে না। এছাড়া সরকারও পারে না। তাহলে যারা সেনাবাহিনীর সম্পদ খালেদা জিয়াকে দিয়েছেন তাদের বিরম্নদ্ধে সরকার কোন ব্যবস্থা নেবে কিনা জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, না সরকারের এ ধরনের কোন ইচ্ছা নেই। কারণ সরকারের কোন সংস্থা এ ধরনের ভুল করতেই পারে। তাদের বিরম্নদ্ধে মামলা করলে দেখা যায় সরকারই সব সময় মামলায় হেরে যায়। এছাড়া সেনাবাহিনীর জায়গা সেনাবাহিনীই ব্যবহার করবে। কোন ব্যক্তি তা ব্যবহার করতে পারে না। এর আগে গত বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের জানান, মন্ত্রিসভার বৈঠকে ঢাকা সেনানিবাসের মইনুল রোডের বেগম খালেদা জিয়ার নামে লিজ দেয়া বাড়িটি বাতিলের সিদ্ধানত্দ নেয়া হয়েছে। তবে গত রোববার গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান খান বলেন, বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার ক্যান্টনমেন্টের বাড়ির ইজারা বরাদ্দ বাতিলের বিষয়টি ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডকে খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। বাড়িটির ইজারা নিয়ে কোন অনিয়ম হয়ে থাকলে তাদের আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ইজারা বাতিলের প্রতিবাদ ৪০২ জন শিৰাবিদের

বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সেনানিবাসের বাড়ির ইজারা বাতিলের প্রতিবাদ জানিয়েছেন ৪০২ জন শিৰাবিদ। গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিৰক অধ্যাপক ড. সদরম্নল আমিন স্বাৰরিত এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এ প্রতিবাদ জানান। এতে বলা হয়, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের প্রচেষ্টা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা মনে করি, জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরাতে সরকার যে অনৈতিক সিদ্ধানত্দ নিয়েছে তা প্রত্যাহার করবে। বিবৃতিতে অধ্যাপক ড. আমিনুর রহমান মজুমদার, ড. সিরাজুল ইসলাম, ড. আখতার হোসেন খান, ড. আবদুস সাত্তার, ড. শামসুদ্দীন আহমদ, ড. জাহিদুল ইসলামসহ ৪০২ জনের নাম রয়েছে।

আইনজীবী ফোরামের মানববন্ধন

বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সেনানিবাসের বাড়ির ইজারা বাতিলের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম। গতকাল দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকে এ মানববন্ধন হয়। মানববন্ধনে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, সাইদুর রহমান, গোলাম আরশাদ, গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী আলাল, ফিরোজ শাহ, হেলালউদ্দিন মোলস্না, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, সাবেক এমপি ফেরদৌস আক্তার ওয়াহিদাসহ শতাধিক আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।

April 12, 2009

অস্ত্র বহনকারী মাইক্রোবাসটি ছিল বিডিআর হাসপাতালের


নাশরাত চৌধুরী: বিডিআর বিদ্রোহ চলাকালে বাইরে থেকে অস্ত্র বহনকারী অ্যাশ কালারের একটি মাইক্রোবাস এসেছিল বলে কর্নেল শামস যে দাবি করেছেন তদন্ত কমিটি তার কোন প্রমাণ পায়নি। তদন্ত কর্মকর্তারা প্রায় দেড় মাস তদন্তের পর নিশ্চিত হয়েছেন, বিডিআর বিদ্রোহের দিন বাইরে থেকে ওই মাইক্রোবাসটি প্রবেশ করেনি। কর্নেল শামসের দেখা অস্ত্র বহনকারী ওই মাইক্রোবাসটি বিডিআর হাসপাতালের। ঘটনার দিন বিডিআর জওয়ানরা অস্ত্র ভরে ওই মাইক্রোবাসটি অপারেশনে ব্যবহার করেছে। বর্তমানে ওই মাইক্রোবাসটি বিডিআরের ভেতরে রয়েছে বলে তদন্ত কর্মকর্তারা দাবি করেছেন। একজন তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, বাইরে থেকে মাইক্রোবাসে ভরে পিলখানায় অস্ত্র এসেছে এমন প্রমাণ আগে পাওয়া যায়নি। আর প্রমাণ না পাওয়ার কারণ সম্পর্কে একজন তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার দিন বিডিআর বিদ্রোহের অপারেশনে অ্যাশ কালারের একটি গাড়ি অংশ নিয়েছে। তবে তা বাইরের নয় বিডিআরেরই। বিডিআর জওয়ানদের জিজ্ঞাসাবাদে আমরা এ সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছি। বিডিআরের মাইক্রোবাসের গাড়ির রঙ সাধারণত সাদা হওয়ারই কথা। কিন্তু ওই গাড়িটি কেন অ্যাশ কালারের হলো তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিডিআর জওয়ানদের কাছ থেকে জানা গেছে, ওই মাইক্রোবাসটি অ্যাশ কালারের করা হয়েছিল বিশেষ নির্দেশনায়। কেন ওই ধরনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একজন কর্মকর্তা বলেন, অ্যাশ কালার করার বিষয়টি অপারেশন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেও করা হতে পারে। যাতে সবার ধারণা হতে পারে ব্যতিক্রমী এ মাইক্রোবাসটি দিয়ে বাইরে থেকে অস্ত্র এসেছে এবং বাইরের গাড়ি ব্যবহার করা হয়েছে। এতে ঘটনার মোড় অন্যদিকে প্রবাহিত করার চেষ্টাও করা হতে পারে। এটা পরিকল্পনাকারীদের ও ইন্ধনদাতাদের একটি কৌশল বলে তারা মনে করছেন। এখন তারা জানার চেষ্টা করছেন কার পরামর্শে গাড়ির রঙ পরিবর্তন করা হয়েছে। এদিকে লে. কর্নেল মুকিম-এর একটি চিঠি নিয়েও তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিডিআর বিদ্রোহ চলাকালে তার হাতের লেখা একটি চিঠি মিডিয়ার কাছে পেঁৗছে যায়। সেদিন রাতে বিভিন্ন জায়গায় ওই চিঠির কপি ফ্যাক্সযোগে পাঠানো হয়। চিঠিতে তিনি ঘটনার জন্য দায়ী করেন বিডিআরের মহাপরিচালককে। সেখানে তিনি সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের বিভিন্ন নেতিবাচক দিক তুলে ধরছেন। পাশাপাশি সেনাবাহিনীর হাতে দু'জন রাষ্ট্রপতির নিহত হওয়ার ঘটনার কথাও লিখেছেন। তার ওই চিঠি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়। ওই চিঠি পাওয়ার পর এ নিয়ে তদন্ত কর্মকর্তারা খোঁজখবর নেন। সূত্র জানায়, চিঠিটি লে. কর্নেল মুকিমের হাতের লেখা বলে তারা নিশ্চিত হয়েছেন। তারা জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পেরেছেন, তিনি জীবন বাঁচাতে ওই দিন ওই ধরনের একটি চিঠি লিখতে রাজি হন। তিনি যখন ওই চিঠি লেখেন তখন বিডিআর জওয়ানরা তাকে গান পয়েন্টে রেখেছিল। চিঠি লেখা শেষ হলে ওই চিঠি তাকে দিয়েই জওয়ানরা বিভিন্ন মিডিয়া অফিসে ফ্যাক্স করে পাঠায় বিডিআর হেডকোয়ার্টার থেকে। ওই চিঠি নিয়ে তদন্ত শেষ হয়ে যায়নি এখনও। লে. কর্নেল মুকিম-এর বক্তব্যের সত্যতা জানার জন্য তাদেরকে খোঁজা হচ্ছে যারা তাকে গান পয়েন্টে রেখেছিল। এদিকে বিদ্রোহের পর বিডিআরের সেক্টর কমান্ডার, ব্যাটালিয়ন কমান্ডারগণসহ সকল সেনা কর্মকর্তা পুলিশ প্রহরায় দায়িত্ব পালন করছেন। তারা নিজেদের নিরাপত্তার জন্য অস্ত্র বহন করতে পারছেন না। একেকটি ব্যাটালিয়নে ৫০ জন করে পুলিশ সদস্যকে নিযুক্ত করা হয়েছে যারা একেকটি সেক্টর ব্যাটালিয়নের কমান্ডারসহ সকল কর্মকর্তার নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছেন। একজন ব্যাটালিয়ন কমান্ডার বলেন, আমরা এখনও নিরাপদ বোধ করছি না। তাই পুলিশের প্রহরায় দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এদিকে ঢাকার বাইরে কোথাও সেক্টর হেডকোয়ার্টার ও ব্যাটালিয়ন হেডকোয়ার্টার থেকে সীমান্তে বিশেষ টহল দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। আগে সেক্টর ও ব্যাটালিয়ন কমান্ডারগণ নিজে ফোর্স নিয়ে সীমান্তে বিশেষ টহল ও বিশেষ বিশেষ অভিযানে গেলেও এখন তা যেতে পারছেন না। কেবল বিডিআর সদস্যরাই অস্ত্র নিয়ে সীমান্ত পাহারা দিচ্ছেন। এর কারণ ব্যাখ্যা করে বিডিআরের একজন ব্যাটালিয়ন কমান্ডার বলেন, আমাদের ব্যাটালিয়নে যে সব অস্ত্র ছিল তা বিদ্রোহের পর সিজ করে অস্ত্রাগার সিলগালা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোন অস্ত্র বের করা হয়নি। কবে নাগাদ বের করা সম্ভব হবে তা নিশ্চিত নয়। এদিকে বিডিআর বিদ্রোহের পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরকার পালিয়ে যাওয়া জওয়ানদের কাজে যোগ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ওই নির্দেশ পেয়ে অনেক জওয়ান ঢাকায়, অনেকে স্ব স্ব ব্যাটালিয়নে ও সেক্টরে যোগ দিয়েছেন। ঢাকায় বিডিআর সপ্তাহ উপলৰে ঢাকার বাইরে বিভিন্ন সেক্টর ও ব্যাটালিয়ন থেকে যারা ঢাকায় এসেছিলেন তাদের বেশির ভাগই ঢাকায় কাজে যোগ দিয়েছেন। তবে পালিয়ে যাওয়া অনেকেই যোগ দিয়েছে স্ব স্ব সেক্টর ও ব্যাটালিয়নে। ওইসব জওয়ানকে এখন সেক্টর ও ব্যাটালিয়নের অন্য সব জওয়ানের কাছ থেকে আলাদা করে রাখা হয়েছে, তাদের ওপর নজরদারি করা হচ্ছে। তাদের সকলের মোবাইল ফোন সিজ করা হয়েছে। সেগুলোতে ব্যাটালিয়ন কমান্ডারগণ খুঁজে দেখেছেন কোন সন্দেহজনক মেসেজ ও ডিভিও ফুটেজ রয়েছে কিনা। ঢাকায় বিডিআর সপ্তাহ উপলৰে যারা ঢাকায় এসেছিলেন তাদের মধ্যে যারা বিদ্রোহে অংশ নিয়েছেন এবং অংশ নেয়ার পর পালিয়ে গেছেন বা ঢাকার বাইরে কাজে যোগ দিয়েছেন তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকায় বিডিআর সদর দপ্তরে নিয়ে আসা হবে। একজন ব্যাটালিয়ন কমান্ডার বলেন, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করার নির্দেশ না দেয়ায় আমরা তা করতে পারিনি, আলাদা করে রাখা হয়েছে মাত্র। তাদের ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হবে এমনটাই জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, ওই সব পালিয়ে যাওয়া জওয়ানরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারবে বলে মনে করছেন ব্যাটালিয়ন কমান্ডাররা।

হুমায়ূন আহমেদ ক্যামেরার সামনে

দেশে এখন এত চ্যানেল আর নাটক-অনুষ্ঠানের রকমারী আয়োজনের ভিড়ে এমন কোন তারকা কিংবা স্বনামধন্য ব্যক্তিকে খুঁজে পাওয়া যাবে না, যিনি এসবে শামিল হননি একবারও। এর মধ্যে ব্যতিক্রম শুধু একজন। তিনি জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক, চলচ্চিত্রকার, নাট্যকার, গীতিকার হুমায়ূন আহমেদ। যাকে আজ অবধি কোন টিভি চ্যানেল কিংবা অন্য কোন ব্যক্তিগত উদ্যোগে ক্যামেরার সামনে বসাতে পারেনি একবারও। তিনি নিজেও নিজের নাটক কিংবা চলচ্চিত্রে নিজেকে দাঁড় করাননি কখনও, যেমনটি ঘটে অন্য অনেক নির্মাতার বেলায়। এবার সেই অসাধ্য বিষয়টিকে সাধ্যে রূপ দিয়েছে নতুন চ্যানেল দেশ টিভি। পহেলা বৈশাখের বিশেষ একটি আয়োজনে প্রথমবারের মতো ক্যামেরার সামনে হাজির হচ্ছেন তিনি। তাও আবার শুধুমাত্র অতিথি হয়ে নয়, উল্টো অতিথিদের সঞ্চালক হিসেবে থাকছেন এ আয়োজনে। পহেলা বৈশাখে দেশ টেলিভিশনের বিশেষ আয়োজনের জন্য নির্মিত এ অনুষ্ঠানের নাম 'নুহাশ পলস্নীতে বৈশাখী জলসা'। ভিন্ন ধারার এ অনুষ্ঠানটি নির্মাণ করেছেন হুমায়ূন আহমেদের লম্বা সময়ের প্রধান সহকারী জুয়েল রানা। এ আয়োজন প্রসঙ্গে হুমায়ূন আহমেদ সরাসরি কোন মনত্দব্য না করলেও জুয়েল রানা জানান, এটা আমার পরম সৌভাগ্য। আমি নিজেও ভাবতে পারিনি স্যার প্রথমবারের মতো ক্যামেরার সামনে দাঁড়াচ্ছেন, তাও আবার আমার মতো একজন ক্ষুদ্র মানুষের নির্দেশনায়। কারণ আমি নিজেই দেখছি এই ক্যামেরার সামনে দাঁড় করাবার জন্য কত মানুষের কত রকম অফার, কত রকমের চেষ্টা, পরিকল্পনা এখনও চলছে স্যারকে নিয়ে। অথচ স্যার সবাইকে চমকে দিয়ে আমাকে এই গুরম্ন দায়িত্বটা তুলে দিলেন, যার যোগ্য হয়তো আমি নই। তবে এটা ঠিক স্যার আমাকে এ অনুষ্ঠান নির্মাণের জন্য সবরকমের সহযোগিতা করেছেন। এর পরিকল্পনাও স্যারের। নির্মাতা সূত্রে আরও জানা যায়, প্রতি বছরই নুহাশ পলস্নীতে বিশেষ দিবস কিংবা সময়ে বিশেষ বিশেষ উৎসবের আয়োজন করা হয়। যে উৎসবে অংশ নেন নুহাশ পলস্নী সংশিস্নষ্ট শিল্পী-কুশলী-বন্ধুরা। এবারও পহেলা বৈশাখ উপলৰ্যে আয়োজন করা হবে এমন একটি অনুষ্ঠান। ঠিক সে অনুষ্ঠানের আদলে নির্মিত হয়েছে এ অনুষ্ঠানটি। যেখানে স্যার আড্ডায় মাতবেন অভিনয় শিল্পী জয়নত্দ চট্টোপাধ্যায়, শাওন, নাজনীন নাজ, পুতুল, কমল, আমিনুল হক সেহেরী, সালেহ চৌধুরী, পুতুল, সংগীত শিল্পী এসআই টুটুল, নৃত্যশিল্পী মুনমুন আহমেদসহ আরও অনেকে। যেখানে হুমায়ূন আহমেদ ও অতিথিদের গল্পের ফাঁকে ফাঁকে পাঁচটি গান গেয়ে শোনাবেন শাওন। আর এ অনুষ্ঠানটি প্রচার হবে পহেলা বৈশাখের দিন রাতে দেশ টিভির পর্দায়।

April 9, 2009

খালেদা জিয়ার সেনানিবাসের বাড়ির লিজ বাতিল

অবশেষে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সেনানিবাসের বাস-ভবনের লিজ বাতিল করেছে সরকার। কবে এই বাড়ি ছেড়ে দিতে হবে তা সেনানিবাস বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানা গেছে।

বুধবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে খালেদা জিয়ার সেনানিবাসের বাসভবনের বরাদ্দ বাতিল করার সিদ্ধানত্দ নেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। মন্ত্রী পরিষদের সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও সংশিস্নষ্ট কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

বেগম খালেদা জিয়ার নামে সরকারিভাবে দুইটি বাড়ি লিজ দেয়া আছে। যা নিয়ম বহির্ভূত। এই অভিযোগ এনে লিজ বাতিল করা হয়েছে বলে সরকারের পৰ থেকে বলা হয়েছে। তথ্য অধিদফতরে অনুষ্ঠিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের বলেন, ১৯৮২ সালে মন্ত্রিসভার সিদ্ধানত্দ অনুযায়ী মরহুম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিবারকে বসবাসের জন্য গুলশানে তাদের পরিবারের পছন্দ অনুযায়ী দেড় বিঘা আয়তনের একটি বাড়ি বরাদ্দ দেয়া হয়। এরআগে ১৯৮১ সালে মন্ত্রী পরিষদের সিদ্ধান্ত ছাড়াই সেনানিবাসে মঈনুল রোডের ৯ বিঘা জায়গার উপর একটি বাড়ি ইজারা দেয়া হয়। এক ব্যক্তির নামে একাধিক বাড়ি ইজারা দেয়া প্রচলিত আইনের পরিপন্থি। এজন্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে ঢাকা সেনানিবাসের মঈনুল রোডের বেগম খালেদা জিয়ার নামে ইজারা দেয়া বাড়িটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এ বিষয়ে বলেন, এদেশে একজন একটার বেশি সরকারি বাড়ি লিজ পেতে পারে না। দুস্থ হিসাবে তাকে এই বাড়ি দেয়া হয়েছিল। তিনি এখন তা নন। মন্ত্রিসভার বৈঠকে সেনানিবাস এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে মন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, সেনানিবাসের ভেতরে অন্য কারো বাড়ি থাকলে সেটা সেনানিবাসের নিরাপত্তা ঠিক মতো রাখা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কতদিনের মধ্যে এই বাড়ি বেগম খালেদা জিয়াকে ছেড়ে দিতে হবে তা এখনো ঠিক হয়নি বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, এ বিষয়ে সেনানিবাস বোর্ড চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

যেভাবে বাড়িটি খালেদা জিয়ার

অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও প্রতিরৰা মন্ত্রী আব্দুস সাত্তারের সময় প্রথম খালেদা জিয়ার নামে সরকারের পৰ থেকে একটি বাড়ি ইজারা দেয়ার প্রসত্দাব দেয়া হয়। কেবিনেট বৈঠকে এ নিয়ে প্রথম আনুষ্ঠানিক আলোচনা করা হয় ১৯৮১ সালের ১২ জুন। ঢাকার মেয়র ও পূর্ত মন্ত্রণালয়ের সম্মতি নিয়ে ১৬ কাঠার একটি বাড়ি তাকে বরাদ্দ দেয়ার সিদ্ধানত্দ হয়। পরে ১৯ মার্চ গুলশানে একটি ১৬ কাঠার বাড়ি তার নামে বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু বাড়িটি দখল নিতে গিয়ে আইনগত জটিলতা দেখা দেয়। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ তখন রাষ্ট্রপতি এবং প্রতিরৰামন্ত্রী। ৮২'র ১৫ জুন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় গুলশানের ৩০ কাঠা ১১ ছটাকের অন্য একটি বাড়ি বরাদ্দ দেয়া হয়। পরে জুলাই মাসে পূর্ত মন্ত্রণালয় বেগম খালেদা জিয়ার নামে গুলশান আবাসিক এলাকার নম্বর-এনই (ডি) ব্লক-৩/বি, সড়ক-১৯৬ প্লটটি লিখে দেয়। পাশাপাশি সরকার কৃষি ব্যাংকে ১০ লাখ টাকার ডিপোজিট জমা দেয় বেগম জিয়ার পরিবারের ভরণ-পোষণের জন্য।

এর আগে ১৯৮১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এক টাকার বিনিময়ে বছরে এক টাকা খাজনায় সেনানিবাসের ৬ মইনুল হোসেন রোডের বাসাটি বরাদ্দ দেয়া হয়। মিলিটারি স্টেট ইউনিট খালেদা জিয়ার নামে এই বাড়িটি ১০০ বছরের জন্য লিজ দেয়। সময় শর্ত দেয়া হয় যে, বেগম খালেদা জিয়া এই বাড়িতে তার পরিবার নিয়ে শুধু বসবাস করতে পারবেন। কারো কাছে বিক্রি, বন্ধক রাখা বা এই বাড়ি জামানত রেখে কোন ঋণ নেয়া যাবে না।

খালেদা জিয়ার সম্পত্তি

সরকারের কাছ থেকে বরাদ্দ পাওয়া গুলশানে ১৬ কাঠা ও সেনানিবাসে ৯ বিঘা জমির উপর দুটি বাড়ি খালেদা জিয়ার নামে। নির্বাচন কমিশনে দেয়া খালেদা জিয়ার হিসাব অনুযায়ী গুলশানের বাড়ির দাম ১০০ টাকা। আর সেনানিবাসের বাড়ির দাম ৫ টাকা। এই বাড়িসহ নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া হিসাব অনুযায়ী তার সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৫ কোটি টাকা। তার বার্ষিক আয় প্রায় ২৬ লাখ টাকা। বাড়ি, এপার্টমেন্টসহ অন্যান্য ভাড়া থেকে ৫ লাখ ২৩ হাজার, শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত থেকে পৌনে ৮ লাখ এবং অন্যান্য খাতে প্রায় ১৩ লাখ টাকা। খালেদা জিয়ার মোট ৩ কোটি ৭২ লাখ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। এর মধ্যে নগদ এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি ১২ লাখ টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে আছে ১২ হাজার ৩০০ টাকা মূল্যমানের অকৃষি জমি এবং ১০৫ টাকা মূল্যমানের (অর্জনকালীন সময়ের মূল্য) বাড়ি।

সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

গত বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে ভাষণ দিতে গিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে সেনানিবাসের বাড়িটি ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ জানান। এই জমিতে ফ্লাট বানিয়ে তিনি বিডিআর ঘটনায় মারা যাওয়া সেনা কর্মকর্তার পরিবারকে পুনর্বাসন করার প্রস্তাব দেন। প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধ জানানোর এক সপ্তাহ পরেই মন্ত্রিপরিষদ খালেদা জিয়ার বাড়িটির ইজারা বরাদ্দ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিল। সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ নিয়ে জোর করতে হবে কেনো। তার উচিত নিজেরই ছেড়ে দেয়া। এতে জাতির কাছে তিনি আরও বেশি শ্রদ্ধা অর্জন করবেন।

প্রধানমন্ত্রী সংসদকে জানান, ১৯৮১ সালের ১২ জুন, ১৯৮২ সালের ১৯ মার্চ এবং ১৯৮২ সালের ২৫ মে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে জিয়াউর রহমানের স্ত্রী ও দুই পুত্রের জন্য ঢাকার গুলশান আবাসিক এলাকার বাড়ি নম্বর-এনই (ডি) ব্লক-৩/বি, সড়ক-১৯৬ প্লটটি ১০১ টাকা প্রতীকী মূল্যে এবং ৬, শহীদ মইনুল রোডের বাড়ি ২দশমিক৭২ একর জমিসহ ১ টাকা প্রিমিয়ামের বিনিময়ে বার্ষিক ১ টাকা হারে খাজনা দেয়ার শর্তে বরাদ্দ করা হয়।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর বেঁচে থাকা তার দুই কন্যাকে রাষ্ট্রীয় কোনো সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয়নি। এমনকি ১৯৮১ সালের আগে দেশেও ফিরতে দেয়া হয়নি। ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যাকে কিছু সুযোগ-সুবিধা দেয়া হলেও পরবর্তী চারদলীয় জোট সরকার তা বাতিল করে। পৰান্তরে জিয়াউর রহমানের মৃতু্যর পর তার স্ত্রী খালেদা জিয়া ও দুই পুত্রকে রাষ্ট্রের পৰ থেকে ২টি বাড়ি, ড্রাইভারসহ ১টি গাড়ি, এককালীন ১০ লাখ টাকা এবং ১৯৮৬ সালের জুন পর্যন্ত দুই পুত্রকে মাসিক ১ হাজার ৫০০ টাকা হারে শিৰাভাতা দেয়া হয়। ১৯৮১ ও ১৯৮২ সালে দেয়া সকল সুযোগ-সুবিধা জিয়ার পরিবার এখনো ভোগ করছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্যান্টনমেন্ট এলাকার মঈনুল হোসেন রোডের বাড়ি বা কোনো সম্পত্তি কোনো ব্যক্তিকে দেয়া যায় না। এ বাড়িকে জামানত হিসাবে রেখে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শেখ রেহানার নামে ধানমণ্ডিতে যে এক বিঘার বাড়ি রয়েছে তাও শহীদ পরিবারের নামে বরাদ্দ দেয়া হবে। এ ব্যাপারে শেখ রেহানার কোনো আপত্তি নেই। আমার সঙ্গে ওর কথা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে তিনিও আর কোনো বাড়ি বা জায়গা বরাদ্দ নেবেন না।

দ্বিতীয় দফায় চূড়ান্ত হল

গতকাল মন্ত্রিসভার বৈঠকে বেগম জিয়ার ৩৪ বছরের স্মৃতি বিজড়িত ৬ নম্বর মঈনুল হোসেন রোডের আলোচিত বাড়িটির লিজ বরাদ্দ বাতিল হলেও আগে অনুরূপ উদ্যোগ নেয়া হয়। ২০০১ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদের শেষ পর্যায়ে ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড বাড়িটির লিজ বাতিলের প্রথম উদ্যোগ নেয়। সরকারের মেয়াদের শেষ সময় বলে সেই উদ্যোগ চূড়ান্ত রূপ পায়নি। এবার মহাজোট সরকার শুরুতেই বরাদ্দ বাতিল করল। সেনানিবাস কর্তৃপৰ শীঘ্রই নোটিস জারির মাধ্যমে তা কার্যকর করবে।

April 8, 2009

ঢামেক-এ রাজীব হত্যাকাণ্ড

রিমান্ডে যা বলেছে ডা. কামরুল
ইন্দ্রজিৎ সরকার: আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্বে ডাক্তারদের হাতেই খুন হয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের নেতা আবুল কালাম আসাদ রাজীব। ঢামেক ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি ডা. বিদু্যৎ বড়ুয়া এ ঘটনায় জড়িত ছিলেন। দু'দিনের রিমান্ডে পুলিশকে এ তথ্য দিয়েছেন ডা. কামরুল হাসান। তবে তিনি নিজের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। ৩০শে মার্চ মধ্যরাতে ঢামেক-এর ডা. ফজলে রাব্বী হলে ছাত্রলীগের দু'পক্ষের সংঘর্ষে রাজীব নিহত হন। এ ব্যাপারে লালবাগ থানায় দায়ের করা মামলায় ভোলার ফরিদগঞ্জ থেকে ডা. কামরুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাজী বরকত আলী জানান, রিমান্ডে তাকে (ডা. কামরুল) ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বেশির ভাগ প্রশ্নের উত্তরই তিনি জানেন না বলে এড়িয়ে গেছেন। তবে এ ঘটনায় জড়িত হিসেবে ডা. বিদু্যৎ বড়ুয়াসহ আরও কয়েকজনের নাম তিনি বলেছেন। তদন্তের স্বার্থে তা এখন প্রকাশ করছে না পুলিশ। সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই ঢামেক ছাত্রলীগ দু'টি অংশে বিভক্ত। এর একটি অংশের নেতৃত্ব দেন জব্বার ও বনি, অপর অংশের নেতৃত্ব ছিলেন রাজীব। ১৯৯৮-৯৯ সালে ঢামেক সংসদের ভিপি ও প্রভাবশালী ছাত্রলীগ নেতা ডা. বিদু্যৎ বড়ুয়ার ছত্রছায়ায় ৰমতাধর হয়ে উঠেছিল রাজীবের গ্রুপ। ডা. বিদু্যৎ ঢাকা মেডিকেলের কে-৫১ ব্যাচের ছাত্র ছিলেন। তার বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায়। ২০০০ সালে তিনি এমবিবিএস পাস করেন। ২০০১ সাল পর্যন্ত ঢামেক এলাকায় চাঁদাবাজি, টেন্ডার বাণিজ্য, হল দখল থেকে শুরু করে নানা অপরাধে তিনি নেতৃত্ব দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগে চাকরি নেন। সেখানে অবস্থান করেও তিনি ঢাকা মেডিকেলে চাঁদাবাজি করতেন। ২০০৪ সালে ডা. বিদু্যতের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হয়ে ওঠেন রাজীব। তার প্রতিনিধি হিসেবে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজির নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেন। সূত্র জানায়, বিএনপি ক্ষমতায় থাকতেই জনস্বাস্থ্য বিষয়ে উচ্চতর পড়াশোনার জন্য সুইডেন যান ডা. বিদু্যৎ। তবে রাজীবের সঙ্গে তার ফোনে যোগাযোগ হতো। সাবেক প্রেসিডেন্ট ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নিলে তিনি দেশে ফেরেন। ওয়ান-ইলেভেনের পর ফের উড়াল দেন সুইডেন। সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয়লাভের পর তিনি দেশে ফিরে ঢামেক-এর নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা করেন। এতেই শুরু হয় বিরোধ। এতদিনের সাম্রাজ্য হাতছাড়া করতে রাজি হননি রাজীব। ফলে গুরু-শিষ্যের মধ্যে সংঘর্ষ অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে। হাতে গোনা ক'জন কমর্ী ছাড়া বাকিরা সবাই ভিড়ে যায় ডা. বিদু্যতের দলে। সূত্র জানায়, ৩০শে মার্চ রাতে ঘটনার আগে গ্রেপ্তারকৃত ডা. কামরুল ও ডা. বিদু্যৎসহ বেশ কয়েকজন ক্যান্টিনে বসে কথা বলেন এবং চা খান। এদিকে রাজীবের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ ছিল সবাই। ফজলে রাব্বী হলের ক্যান্টিন, লন্ড্রিসহ আশপাশের দোকান থেকেও তিনি বা তার দলের লোকজন চাঁদা নিতেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় কে-৬১ ব্যাচের কয়েকজন ছাত্র ক্যান্টিনে বসে র্যাগ ডে'র আয়োজনের ব্যাপারে কথা বলছিলেন। এ সময় উপস্থিত রাজীব তাদের কথা দেন ও বলেন, তার দাবি করা চাঁদা না দিলে তিনি অনুষ্ঠান করতে দেবেন না। এ বিষয়ে আরও কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতার সঙ্গে তার তুমুল তর্ক হয়। এছাড়া টেন্ডারের কমিশন নিয়েও ছাত্রলীগের দু'টি গ্রুপ মারমুখো অবস্থায় ছিল। চাঁনখারপুল এলাকায় ঢামেক-এর সমপ্রসারিত ভবন নির্মাণে ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়। একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ওই কাজ পাইয়ে দিতে ছাত্রলীগের দু'গ্রুপই কাজ করে। এখন অপর পক্ষ মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করলে বিরোধ তীব্র হয়। প্রি-সার্ভিস এডুকেশনের জন্য বরাদ্দ সাত কোটি টাকার কাজের কমিশন ভাগাভাগি নিয়েও তৈরি হয় একই অবস্থার। এর পাশাপাশি হলে আসন বরাদ্দ দেয়ার নামে প্রচুর অর্থ হাতিয়ে নেয়ায় ছাত্রলীগের অনেক নেতাকমর্ী রাজীবের প্রতি ক্ষুব্ধ ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর রাজীব সন্ধানীর কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তিনি সন্ধানীর একটি গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করতেন বলেও জানা যায়। এদিকে তিনি ঢামেক-এর আশপাশের এলাকার অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করতেন। এ ঘটনার পর হলে তার এফ-১ কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু মানিব্যাগ, মেয়েদের ভ্যানিটি ব্যাগ ও মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়। গত বছরের ১০ই অক্টোবর রাজশাহীতে একটি ডাকাতি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে এক মাস কারাগারে ছিলেন রাজীব। লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম রহমান জানান, রাজীব হত্যা মামলার তদন্ত এগিয়ে চলেছে। রিমান্ডে ডা. কামরুল অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। এতে দোষীদের শনাক্ত করা সহজ হবে।

এফডিসিতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি

অসামাজিক কার্যকলাপ রোধে ঝটিকা অভিযান

চলচ্চিত্র নির্মাণের একমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (এফডিসি) অভ্যনত্দরে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি অসামাজিক কার্যকলাপ রোধে চালানো হচ্ছে ঝটিকা অভিযান। এফডিসি'র অভ্যনত্দরে অবস্থিত চলচ্চিত্র প্রযোজকদের নেয়া ভাড়া করা স্টোরগুলোতে মদ, জুয়াসহ বিভিন্ন প্রকার অসামাজিক কার্যকলাপ সংঘটিত হয় এমন সংবাদের ভিত্তিতে গত রোববার রাতে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল এফডিসিতে অভিযান চালায়। ওই সময় এফডিসি'র তিন নম্বর ফ্লোরের পাশে অবস্থিত একটি স্টোর থেকে জুয়া খেলার ব্যসত্দ অবস্থায় একজন চলচ্চিত্র পরিচালক, একজন নৃত্য-পরিচালক, দু'জন চিত্র সম্পাদকসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়। পরে বেশ কিছুৰণ জিজ্ঞাসাবাদের পর চলচ্চিত্র সংশিস্নষ্ট দু'টি সংগঠনের নেতার উপস্থিতিতে মুচলেকা আদায়ের পর তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়। এর ১৫ দিন আগেও ডিবি পুলিশ এফডিসিতে ঝটিকা অভিযান চালিয়েছিল। চলচ্চিত্র নির্মাণ কেন্দ্র এফডিসি কাওরান বাজার বসত্দি সংলগ্ন হওয়ায় বসত্দির প্রভাবশালী কিছু মাদক ব্যবসায়ী এফডিসি'র অভ্যনত্দরে মাদক বিক্রি ও সেবন করে। এর সঙ্গে জড়িত থাকেন চলচ্চিত্রের চিহ্নিত কিছু লোকজন। চলচ্চিত্র প্রযোজকদের নামে বরাদ্দ করা কিছু কিছু স্টোর রম্নমে প্রতি রাতেই বসে মদ ও জুয়ার আসর। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল এএসপি সুফিয়ানের নেতৃত্বে রোববার রাতে অভিযান চালায়। গোয়েন্দা পুলিশ সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান চালিয়েছেন বলে চলচ্চিত্র শিল্পের নেতৃবৃন্দকে জানান। এই ধরনের অভিযান আরও চালানো হবে বলে এএসপপি সুফিয়ান জানিয়েছেন। এ বিষয়ে এফডিসি'র সহকারী পরিচালক (নিরাপত্তা) রেজাউল হক রেজার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, আমি এই অভিযানের বিষয়ে পুরোপুরি অবহিত নই। অবহিত হবার পর আপনাদের জানাবো। তিনি জানান, এফডিসি'র স্টোর বরাদ্দ দেয় উন্নয়ন শাখা। তবে এর নিরাপত্তার দায়িত্ব তাদের বলে তিনি স্বীকারও করেন। এফডিসি'র অভ্যনত্দরে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ এবং গোয়েন্দা পুলিশের অভিযান, চলচ্চিত্র কমর্ী আটক ইত্যাদি চলচ্চিত্র শিল্পে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে আতঙ্কও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে চলচ্চিত্রের সার্বিক স্বার্থে এবং চলচ্চিত্র নির্মাণের একমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠান এফডিসিতে কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য এ ধরনের অভিযান নিয়মিত হওয়া উচিত বলে চলচ্চিত্র বোদ্ধারা অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

April 7, 2009

বিয়ে করেছেন রুনা খান!

টিভি ও মঞ্চাভিনেত্রী রুনা খান গত ৩ এপ্রিল শুক্রবার বিকেল ৫ টায় ধানমন্ডি ১৫ নম্বর রোডের একটি কাজী অফিসে বিয়ে করেছেন। বর এষান ওয়াহিদ। বিয়ের খবর নিশ্চিত করেছেন রুনা নিজেই।

রুনা জানান, এষানের খুব অল্প দিনের পরিচয় হলেও ভালো বোঝাপড়ার কারণে তারা বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন।

এষান একটি বিদেশী ফার্মে চাকুরী করেন। বাবার নাম ওয়াহিদুল হক।

রুনা ও এষানের বিয়েতে তাদের কাছের বন্ধুরা উপস্থিত ছিলেন।

হঠাৎ বিয়ে করা বিষয়ে জানতে চাইলে রুনা খান গ্লিটজকে বলেন, "মাত্র একমাস আগে ওর সাথে পরিচয় হলেও কথা বলতে বলতে এক সময় ভালোবেসে ফেলেছি। তাই দেরি না করে বিয়েটা সেরে ফেলেছি।"

নিজের বিয়ের কাবিন প্রসঙ্গে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকার করে রুনা বলেন, "এই ব্যাপারটি এখনই বলতে চাই না। এটা আমার ভেতরেই থাকুক।"

কয়েকদিন পরে এই দম্পতি বিবাহোত্তর সংবর্ধনার আয়োজন করবেন বলে জানান রুনা। ওই অনুষ্ঠানের পর একত্রে সংসার শুরু করবেন তারা।

হাবিব পুরনো স্বাদে

গতকাল স্কটল্যান্ড থেকে ফিরে দেশে আছেন মাত্র একদিন এক রাত। আগামীকাল সকালে আবার উড়াল দিচ্ছেন লন্ডনের উদ্দেশে। যেখানে কেটেছে তার যৌবনের স্বর্ণালী কয়েকটি বছর। যেখান থেকে তৈরি হয়েছেন তিনি, তৈরি করেছেন 'কৃষ্ণ' অ্যালবামটি, সংগীতময় সময় কাটিয়েছেন প্রবাসী বন্ধু কায়া, হেলাল, শিরিনসহ এমন আরও অনেকের সঙ্গে। এবারের সফরে বিশেষ করে এই তিন বন্ধুকে নিয়ে আবারও গান তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন হাবিব। যাদের নিয়ে গান তৈরি করে এরই মধ্যে ব্যাপক সফলতাও পেয়েছেন তিনি। যার শুরুটা হয়েছিল কায়া'র 'কৃষ্ণ', এরপর কায়া-হেলালের 'মায়া' এবং শেষ হয়েছে শিরিনের 'পাঞ্জাবিওয়ালা' দিয়ে। তিনটি অ্যালবামই তৈরি হয়েছে সিলেট এবং চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গান দিয়ে। লন্ডন যাওয়ার প্রাক্কালে হাবিব বলেন, এবার এ তিনজনকে নিয়ে একটি অ্যালবাম তৈরি করতে চাই। ওরা আমার ঘরের লক্ষ্মী'র মতো। তাছাড়া মাঝখানে খানিক বিরতিও হয়েছে। ওরাও আমাকে চাইছে এখন। আমিও ওদের বন্ধুতা এবং কণ্ঠ ফিল করছি বেশ কিছুদিন ধরে। আশা করছি, এ যাত্রায় একটা অ্যালবামের কাজ গুছাতে পারবো। হাবিবের এই সফর মাত্র ১০ দিনের। দেশে ফিরছেন চলতি মাসের ১৩ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যে। হাবিবের শেষ একক 'বলছি তোমাকে' এবং পিতার সঙ্গে দ্বৈত অ্যালবামটি প্রকাশের পর নিজের একক কিংবা দ্বৈত নিয়ে খানিক অনীহায় ভোগেন তিনি। কারণ প্রথম অ্যালবাম 'শোনো'র বাণিজ্যিক ধারাবাহিকা রৰা পায়নি এ দু'টি অ্যালবামে। সে জন্য মাঝখানে উদ্যোগ নিয়েছেন দেশের শীর্ষ তারকাদের নিয়ে একটি মিশ্র অ্যালবাম তৈরির। পছন্দসই তারকাদের কাছ থেকে সে অর্থে সাড়া না পেয়ে হাবিব এখন ফিরতে চাইছেন লন্ডন প্রবাসী পুরনো বন্ধুদের কণ্ঠ নিয়ে পুরনো স্বাদে। সে সঙ্গে চলছে সোহেল আরমানের প্রথম চলচ্চিত্র 'প্রেম'র পূর্ণাঙ্গ সংগীত পরিচালনার কাজ। চলছে অমিতাভ রেজারও একটি ভিডিও চিত্রের কাজও। সে সঙ্গে নিয়মিত বিজ্ঞাপন জিঙ্গেলের কাজ তো চলছেই। তাহলে একক অ্যালবামের কি খবর? কিংবা দ্বৈত? হাবিব বলেন, সিনেমা আর বিজ্ঞাপনের চাপে আমি ক্লানত্দ। সে সঙ্গে দেশ-বিদেশের স্টেজ শো। একক তো করবোই, তবে তার আগে ভিন্ন কিছু করতে চাই। দেখা যাক কি হয়।
Khoj Khobor