February 12, 2012

সাংবাদিক দম্পতি সাগর মেহেরুন নৃশংসভাবে খুন

টিভি মিডিয়ার দুই প্রিয় মুখ, তারকা-দম্পতি হিসেবে পরিচিত, সাগর ও রুনি আর নেই। শুক্রবার গভীর রাতে অজ্ঞাত ঘাতকদের নৃশংসতার শিকার হয়ে প্রাণ দিয়েছেন তারা। রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের পাঁচতলা ভবনের পঞ্চম তলার ফ্ল্যাটে ঘটে এ রহস্যময় হত্যাকাণ্ড। সাগর-রুনি দম্পতির শিশুপুত্র রক্ষা পেয়েছে খুনিদের আক্রোশ থেকে। পুলিশ বলছে, এ হত্যা পরিকল্পিত। খুনিরা নিহতদের পরিচিত। রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজেদের ভাড়া বাসা থেকে মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং তার স্ত্রী এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি’র রক্তাক্ত মৃতদেহ গতকাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ খুনের প্রত্যক্ষদর্শী সাগর-রুনি দম্পতির ৫ বছরের একমাত্র সন্তান মাহিদ সরওয়ার মেঘ ঘটনাচক্রের খুনিদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।
পুলিশ বলছে, খুনিরা নিহতদের কারও সঙ্গেই বাসায় ঢুকেছিল। এ ঘটনায় বাড়ির তিনজন নিরাপত্তারক্ষীকে আটক করা হয়েছে। নিহত রুনির দুই ভাইকে ঘণ্টাব্যাপী জিজ্ঞাসাবাদ করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন।
গতকাল দিনের শুরুতেই এ মর্মান্তিক খবর শুনে সেখানে ছুটে যান বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা। পরে ঘটনাস্থলে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব, আইজিপি, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী, মহানগর পুলিশ কমিশনার। পশ্চিম রাজাবাজারে ৫৮/এ/২ নম্বর হোল্ডিংয়ে পাঁচতলা ভবনটির পাঁচতলার একটি ফ্ল্যাটে ছেলেকে নিয়ে থাকতেন সাগর-রুনি দম্পতি। গতকাল সকালে বাসার সামনে গিয়ে দেখা যায় শ’ শ’ উৎসুক মানুষের ভিড়। পুরো বাড়ি ঘিরে রেখেছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। পাঁচতলার এ-৪ ফ্ল্যাটে থাকতেন সাগর-রুনি দম্পতি। সেখানে এখন বিলাপ করছেন নিহতের শোকাতুর স্বজনরা। সিআইডি’র ক্রাইম সিন ইউনিট আলামত সংগ্রহ করেছে। ফ্ল্যাটে ৩টি শোবার ঘর। মাঝের রুমে থাকতেন সাগর-রুনি। ওই রুমে ঢুকে দেখা যায়, মেঝেতে রুনির রক্তাক্ত লাশ পড়ে আছে। তার পেটে ও গলায় গভীর কাটা দাগ। সাগরের লাশ বিছানায় আড়াআড়িভাবে রাখা। গায়ে জামা নেই। পরনে জিন্সপ্যান্ট। পায়ের দিকে একটু গোটানো। তার শরীরে ধারালো অস্ত্রের অসংখ্য চিহ্ন। শ্বাসনালী কেটে দেয়া। হাত-পা বাঁধা। পুরো ঘর রক্তভেজা। ঘরের একদিকে একটি ওয়্যারড্রোব। তার ওপর একটি ল্যাপটপ কম্পিউটার। ড্রয়ার খোলা। তাতে একটি দামি মোবাইল ফোনসেট রাখা। ঘরে এক কোণে আলমারির দরজা খোলা। সেখান থেকে কয়েকটি কাপড় বেরিয়ে পড়েছে। ঘরের মেঝেতে দু’টি স্বর্ণালঙ্কারের খালি বাক্স পড়ে আছে। রুনি’র মা নুরুন নাহার মির্জা নাতির ফোন পেয়ে গতকাল প্রথম ফ্ল্যাটে যান। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি এসে তাদের রক্তাক্ত দেহ দেখে কি করবো বুঝতে পারছিলাম না। চিৎকার করতে করতে আমি আমার ছেলেদের ফোন করি। ওরা এসে রুনির সহকর্মীদের খবর দেয়। পরে পুলিশ আসে। তিনি বলেন, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আমার নাতি মেঘ ফোন করে বলে- নানু, আম্মু-আব্বুকে মেরে ফেলেছে। তুমি এসো। আমি তখনই হন্তদন্ত হয়ে বাসায় যাই। বাসার দরজা খুলে দেয় মেঘ। তাকে কোলে নিয়ে ঘরে ঢুকে দেখি সাগর-রুনির লাশ। তিনি বলেন, আমাদের বাসা কাছে হওয়ার কারণে মেঘ আমার কাছেই থাকে। সাগর বা রুনি যে আগে অফিস থেকে ফেরে সে গিয়ে তাকে নিয়ে আসে। শুক্রবার রুনি রাত ৯টার দিকে অফিস থেকে ফিরে মেঘকে নিয়ে আসে। এ দম্পতির একমাত্র সন্তান মেঘ রাজাবাজারের উইলিয়াম কেরি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের কেজি ওয়ানের ছাত্র। ঘটনার সময় সে বাসাতেই ছিল। তবে সে স্পষ্ট করে কিছুই বলতে পারছে না। শুধু বলছে, মা-বাবাকে দু’জন মানুষ মেরে ফেলেছে। ওরা আমাকে পাশের ঘরে আটকে রেখেছিল। পরে কখন দরজা খুলে দেয় জানি না। বেরিয়ে দেখি বাবা-মা মেঝেতে শুয়ে আছে। ঘরে অনেক রক্ত। রুনি’র বড় ভাই নওশাদ আলম বলেন, আমি খুব ভোরে অফিসে যাই। সাড়ে ৭টার দিকে বাসা থেকে বের হই। পথেই মোবাইল ফোন আসে। ঘটনা শুনে দ্রুত এ ফ্ল্যাটে এসে দেখি সব শেষ। নওশাদ আলমের স্ত্রী পারভিন যুথি বলেন, খবর পাওয়ার পর আমরা ওই বাসায় গিয়ে দেখি দরজা খোলা। মেঘ আমাদের বলেছে, দু’জন লোক তার বাবা-মাকে মেরে দরজা খুলে বেরিয়ে গেছে। সাগর-রুনির ফ্ল্যাটের ঠিক পাশের ফ্ল্যাটেই থাকেন ব্যবসায়ী ফখরুল ইসলাম। তিনি বলেন, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে বাসায় ফিরি। তবে রাতে ওদের ফ্ল্যাট থেকে তেমন কোন শব্দ পাইনি। সকালে হৈচৈ শুনে বের হয়েছি। সাগর-রুনির ফ্ল্যাটের ঠিক নিচের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা তৌফিকা রহমান জানান, রাত ২টার দিকে তিনি ঘুমাতে গিয়েছেন। কিন্তু তেমন কোন শব্দ তিনি পাননি। তবে রাত ২টা বা শোয়া ২টার দিকে বাড়ির সামনে একটা গাড়ি এসে থামার শব্দ পেয়েছিলেন। রাতে ওই ভবনে দায়িত্ব পালন করছিলেন নিরাপত্তারক্ষী পলাশ রুদ্র পাল। তিনি বলেন, রাত ২টার দিকে সাগর সাহেব বাসায় ফিরেছেন। এর আগে কখন রুনি ম্যাডাম বাসায় ঢুকেছেন তা আমি দেখিনি। তাদের বাসায় অপরিচিত কেউ আসেনি বা যায়নি। অতিথি রেজিস্ট্রার বইয়েও তাদের ফ্ল্যাটে কোন অতিথি যাওয়ার কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। পলাশ বলেন, ফ্ল্যাট মালিক এসোসিয়েশনের সভাপতি নুরুন্নবী সাহেব ভোর সাড়ে ৫টার দিকে আমাকে ফোন করে বলেন, কোথা থেকে কান্নার শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। কোন ফ্ল্যাট থেকে শব্দটা আসছে দেখ তো। আমি এদিক ওদিকে দেখে তেমন কোন শব্দ না পেয়ে তাকে বলি হয়তো বাইরের ফ্ল্যাটে কোন বাচ্চা কাঁদছে।
মাছরাঙা টেলিভিশনের যুগ্ম বার্তা সম্পাদক মুতাসিম বিল্লাহ বলেন, রাত পৌনে ২টা পর্যন্ত অফিসে কাজ করেছেন সাগর। এরপর বাসায় ফেরেন। এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জিএম তসলিম জানান, গতকাল রুনির মর্নিং ডিউটি ছিল। ডিউটি শেষে তিনি সাড়ে ৪টার দিকে অফিস থেকে বেরিয়ে যান। শেরেবাংলানগর থানার ওসি (তদন্ত) আহমদ কবির বলেন, রুনি’র সঙ্গেই হয়তো খুনিরা ঢুকেছিল। এ কারণেই রেজিস্ট্রার খাতায় তাদের নাম এন্ট্রি করা হয়নি। অথবা ফ্ল্যাটে আগে থেকেই ঘনিষ্ঠ কেউ ছিল। যারা নিরাপত্তারক্ষীর চোখ ফাঁকি দিয়ে খুনিদের ফ্ল্যাটে নিয়ে গিয়েছিল। তিনি বলেন, এমনও হতে পারে রাতে রুনি ফেরার পরও সাগরের জন্য অপেক্ষা করেছে খুনিরা। গভীর রাতে সাগর ফিরলে তাকে আক্রমণ করা হয়েছে। তখন রুনি তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, রুনির এক ভাই ফ্ল্যাটে রাত ১০টা পর্যন্ত ছিল- আমাদের কাছে এমন তথ্য এসেছে। তেজগাঁও জোনের উপপুলিশ কমিশনার ইমাম হোসেন বলেন, আমাদের ধারণা খুনিরা বিষয়টিকে ডাকাতি বলে চালানোর চেষ্টা করেছে। এজন্য তারা রান্নাঘরের গ্রিল কেটে একটি ছোট ফাঁক তৈরি করে। কিন্তু আমরা পরীক্ষা করে দেখেছি, সেখান দিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক কারও বের হওয়া সম্ভব নয়। হত্যাকারী স্বজনদের কেউ কিনা- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা সব বিষয় মাথায় রেখেই তদন্ত করছি। ইতিমধ্যে নিরাপত্তারক্ষীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। স্বজনদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। রুনির দুই ভাই নওশাদ আলম ও নওদিশ আলমকে ডিবি অফিসে নিয়ে ঘণ্টাব্যাপী জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার মাহবুবুর রহমান। র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক লে. কর্নেল জিয়া-উল আহসান বলেন, আমাদের ধারণা ঘাতকরা পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। খুনিরা তাদের পূর্বপরিচিত ছিল। শেষ রাতের দিকে তাদের হত্যা করা হয়েছে, এ কারণে সকাল ১১টায়ও লাশের শরীর গরম ছিল। তাজা রক্ত বের হচ্ছিল। তিনি বলেন, এটি কোন ডাকাতির ঘটনা নয়। কারণ ঘরের মূল্যবান জিনিসপত্র কিছুই খোয়া যায়নি। ওদিকে দু’টি মরদেহের ময়নাতদন্তের পর ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ বলেছেন, আঘাতের ধরন দেখে মনে হয়েছে খুনি অপেশাদার। নির্মমভাবে কুপিয়ে কুপিয়ে তাদের হত্যা করা হয়েছে। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে গলা কেটে দেয়া হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, দু’জনের শরীরেই ছুরি ও ধারালো অস্ত্রের এলোপাতাড়ি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। আঘাতের ধরন দেখে আমাদের মনে হয়েছে, খুনি অপেশাদার কেউ। কারণ পেশাদার হলে খুনি জানতো কোথায় আঘাত করলে মৃত্যু নিশ্চিত করা যাবে। সাগরের দেহে ১৯টি বড় ধরনের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানান তিনি।
জানাজা: গতকাল দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে এই সাংবাদিক দম্পতির মরদেহ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের প্রথম জানাজায় অংশ নেন এই দুই সাংবাদিকের সহকর্মী, রাজনৈতিক নেতা ও স্বজনরা। তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবীর নানক, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদের শিরিন আখতারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা এ সময় সাগর-রুনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান। পরে রাতেই তাদের আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়।

January 23, 2012

বিশিষ্ট অভিনেতা অমল বোস আর নেই


বিশিষ্ট অভিনেতা অমল বোস আর নেই। আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এ্যপোলো হাসপাতালে পরলোকগমন করেন। এর আগে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে সকাল ৯টার দিকে তাকে এ্যপোলো হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানেই তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। তিনি স্ত্রী, এক মেয়ে, দুই নাতী-নাতনি ও অসংখ্য ভক্ত অনুরাগী রেখে গেছেন।

December 27, 2011

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় পাসে রেকর্ড


প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের রেকর্ডসংখ্যক ১ লাখ ৫ হাজার ৬৭৩ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে, যা মোট শিক্ষার্থীর ৪ দশমিক ৯৭ ভাগ। এর মধ্যে ছাত্র ৪৯ হাজার ১৩৪ জন এবং ছাত্রী ৫৬ হাজার ৫৩৯ জন। প্রাথমিক পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৯৭.২৬। পাসের হারে ছেলেরা এগিয়ে আছে মেয়েদের তুলনায়। ছাত্রদের পাসের হার ৯৭.৪৮ এবং ছাত্রীদের পাসের হার ৯৭.০৮ ভাগ। ডিআরভুক্ত ২১ লাখ ৮৫ হাজার ৯৪৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ২১ লাখ ২৫ হাজার ৮৬৯ শিক্ষার্থী সব বিষয়ে পাস করেছে। উত্তীর্ণদের মধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ৭৫ হাজার ৫২৯ জন। যা মোট শিক্ষার্থীর ৪৫ দশমিক ৮৯। আর ছাত্রী পাস করেছে ১১ লাখ ৫০ হাজার ৩৪০ জন। যা মোট শিক্ষার্থীর ৫৪ দশমিক ১১ ভাগ। গত বছর পাসের হার ছিল ৯২.৩৪ ভাগ। আগের বছর ছিল ৮৮.৮৪ ভাগ। মাদ্রাসার ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষায় পাসের হার ৯১.২৮ ভাগ। গতকাল সকালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মো. আফছারুল আমীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ফলের অনুলিপি হস্তান্তর করেন। এরপর বিকালে মন্ত্রী তার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ফল সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য ও সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন। ২০১১ সালের প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা শুরু হয় ২৩শে নভেম্বর থেকে। ৩০শে নভেম্বর পরীক্ষা শেষ হয়। দেশের বাইরে ৮টিসহ ৬ হাজার ১৭৬টি কেন্দ্রে ওই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন ধরনের ৮৭ হাজার ৮৩২টি প্রতিষ্ঠানের ২৩ লাখ ১৬ হাজার ৫২১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষার জন্য তালিকাভুক্ত হয়। তার মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ২১ লাখ ৮৫ হাজার ৭৪৭ জন। যা মোট শিক্ষার্থীর ৯৪ দশমিক ৩৫ ভাগ। এর মধ্যে ছাত্র ১০ লাখ ৬৬ হাজার ৮২৮ জন এবং ছাত্রী ১২ লাখ ৪৯ হাজার ৬৯৩ জন। সারাদেশে জিপিএ ৫ পেয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ৬৭৩ জন। জিপিএ ৪ থেকে ৫ এর নিচে পেয়েছে ৪ লাখ ৪১ হাজার ৪২০ জন। যা মোট শিক্ষার্থীর ২০.৭৬ ভাগ। জিপিএ ৩.৫ থেকে ৪ এর নিচে পেয়েছে ৩ লাখ ৯০ হাজার ৫৩২ জন। যা মোট শিক্ষার্থীর ১৮.৩৭ ভাগ। জিপিএ ৩ থেকে ৩.৫ এর নিচে পেয়েছে ৪ লাখ ১৪ হাজার ৬৮৩ জন (১৯.৫১ ভাগ)। জিপিএ ২ থেকে ৩ এর নিচে পেয়েছে ৫ লাখ ৮৭ হাজার ২৪৫ জন। যা মোট শিক্ষার্থীর ২৭.৬২ ভাগ। এছাড়া জিপিএ ১ থেকে ২ এর নিচে পেয়েছে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৩১৬ জন। যা মোট শিক্ষার্থীর ৮.৭৬ ভাগ।
শীর্ষে বরিশাল বিভাগ: পাসের হার বিবেচনায় সাত বিভাগের মধ্যে শীর্ষে বরিশাল। এই বিভাগে পাসের হার ৯৯.০৫ ভাগ। এছাড়া খুলনায় ৯৮.১৩ ভাগ, ঢাকায় ৯৮ দশমিক ০৮ ভাগ, রাজশাহীতে ৯৭.৬৩ ভাগ, চট্টগ্রামে ৯৭.২৪ ভাগ, রংপুরে ৯৬.৮৫ ভাগ এবং সিলেটে ৯০.৫৯ ভাগ। পাসের হারে ৬৪ জেলার মধ্যে মুন্সীগঞ্জ প্রথম স্থান দখল করেছে। এ জেলায় পাসের হার ৯৯.৮৯ ভাগ। দ্বিতীয় হয়েছে পঞ্চগড় ও চাঁদপুর জেলা। এ দুই জেলায় পাসের হার ৯৯.৬৪ ভাগ। ৫০৩টি উপজেলা/থানার মধ্যে ৩২ উপজেলায় শতভাগ পাস করেছে। পাসের হারে সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে হবিগঞ্জ জেলা। এ জেলায় পাসের হার ৮৯.৬১ ভাগ এবং একই জেলার বানিয়াচং উপজেলায় পাসের হার সর্বনিম ৭১.৬৮ ভাগ।
স্কুলভিত্তিক ফল: পিটিআই সংলগ্ন পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের পাসের হার সর্বোচ্চ ৯৯.৮৮ ভাগ। ব্র্যাক পরিচালিত বিদ্যালয়ের পাসের হার ৯৯.৭৩ ভাগ, মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৯৮.৬৩ ভাগ, উচ্চ বিদ্যালয় সংযুক্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৯৮.১৭ ভাগ, কিন্ডারগার্টেন ৯৮ ভাগ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৯৭.৮৯ ভাগ, রেজি. বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৯৫.৯৫ ভাগ, কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৯৪.৭৮ ভাগ, নন রেজি. বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৯৩.৭৪ ভাগ, শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৯২.৬৯ ভাগ, এনজিও পরিচালিত বিদ্যালয়ে ৯১.৪৫ ভাগ এবং আনন্দ স্কুলে পাসের হার ৭৩.৩৭ ভাগ।
বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থী: বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থী পাসের হার ৯৬.৬৪ ভাগ। সারাদেশে ৪৫৩৯ জন শিক্ষার্থী ডিআরভুক্ত হয়। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৪২৮৭ জন। পাস করে ৪১৪৩ জন।
বিষয়ভিত্তিক পাস: বাংলায় ৯৯.১৯ ভাগ, ইংরেজিতে ৯৯.১৮ ভাগ, গণিতে ৯৮.১৯ ভাগ, পরিবেশ পরিচিতি সমাজে ৯৯.৮৪ ভাগ, পরিবেশ পরিচিতি বিজ্ঞানে ৯৯.৬৬ ভাগ এবং ধর্ম বিষয়ে ৯৯.৮৯ ভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে।
সেরা ২০ প্রতিষ্ঠান: নিবন্ধিত ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা, পাসের হার, জিপিএ ৫ পাওয়ার হার এবং অনুপস্থিত ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যার ভিত্তিতে প্রাথমিকে সারাদেশের সেরা ২০ স্কুলের একটি তালিকা করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তর। এই হিসাবে সেরাদের সেরা মণিপুর উচ্চ বিদ্যালয় পেয়েছে ৭৪.৩৯ পয়েন্ট। এই স্কুলের পঞ্চম শ্রেণীর ১৯৯৪ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৯৬৫ জন এবার প্রাথমিক সমাপনীতে অংশ নিয়ে সবাই পাস করেছে। এদের মধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছে ১৪৩৮ জন। বাকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো হলো- ভিকারুননিসা নূন স্কুল (৪৪.৭৫), মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ (৪১.৪৫), মাইলস্টোন প্রিপারেটরি কেজি স্কুল (৪০.৬৫), গুলশান আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ (৪০.১৬), মতিঝিল ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল (৪০.০২), কুমিল্লা সদরের কুমিল্লা মডার্ন স্কুল (৩৯.৪৮), ডেমরার এ কে উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় (৩৮.৯৮), মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল (৩৭.৬৯), ডেমরার শামসুল হক খান স্কুল (৩৬.৭৩), মিরপুর বাংলা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় (৩৬.৪৩), মতিঝিল মডেল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ (৩৬.০৮), বনানী বিদ্যা নিকেতন (৩৪.৬১), চট্টগ্রামের বিএন স্কুল অ্যান্ড কলেজ (৩৪.২৩), ধানমন্ডি সরকারি ল্যাবরেটরি হাইস্কুল (৩৩.৬৬), মতিঝিল আইডিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (৩৩.২৬), উত্তরা হাইস্কুল (৩৩.২৫), খুলনা সদরের খুলনা জেলা স্কুল (৩৩.২৩), মতিঝিলের ফয়জুর রহমান আইডিয়াল ইনস্টিটিউট (৩২.৯৮) এবং ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের শহীদ পুলিশ স্মৃতি স্কুল অ্যান্ড কলেজ (৩২.৭৮)।
শতভাগ ফেল বিদ্যালয় ৩৭১: ৩৭১টি প্রতিষ্ঠানের কোন শিক্ষার্থীই পাস করেনি। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৭টি, রেজি. বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ২১টি, কিন্ডারগার্টেন ২২টি, এনজিও পরিচালিত বিদ্যালয় ১০৪টি, কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১১টি, নন রেজি. বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ২৭টি ও আনন্দ স্কুল ১৭৯টি। এসব প্রতিষ্ঠানের মোট ৪ হাজার ৯৪০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। যাদের কেউ পাস করতে পারেনি।
শতভাগ পাস বিদ্যালয়: সারাদেশে ৮৭ হাজার ৮৩২টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৬৮ হাজার ৬২৯টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী শতভাগ পাস করেছে। এসব বিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৭ লাখ ৯ হাজার ৭৯৯ জন।
ইবতেদায়ীতে পাসের হার ৯১.২৮: ইবতেদায়ীতে পাসের হার ৯১.২৮ ভাগ। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১ লাখ ১৬ হাজার ১৯০ জন ছাত্র (৪৬.৭৭ ভাগ) এবং ১ লাখ ৩২ হাজার ২৪৪ (৫৩.২৩ ভাগ) জন ছাত্রী। দুই ধরনের ১১ হাজার ৫১৯টি মাদরাসার ৫ম শ্রেণীর মোট ৩ লাখ ২১ হাজার ১৬০ জন শিক্ষার্থী তালিকাভুক্ত হয়। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ২ লাখ ৭২ হাজার ১৭১ জন। মোট ২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩৪ জন শিক্ষার্থী পাস করে। জিপিএ ৫ পেয়েছে ২১৫০ জন শিক্ষার্থী। যা মোট শিক্ষার্থীর ০.৮৭ ভাগ। জিপিএ ৪ থেকে জিপিএ ৫ এর নিচে পেয়েছে ৩২ হাজার ৮২১ জন, জিপিএ ৩.৫ থেকে ৪ এর নিচে পেয়েছে ৪০ হাজার ৭১৯ জন, জিপিএ ৩ থেকে ৩.৫ এর নিচে পেয়েছে ৫০ হাজার ৩৭০ জন, জিপিএ ২ থেকে ৩-এর নিচে পেয়েছে ৮৯ হাজার ৭৫০ জন ও জিপিএ ১ থেকে ২ এর নিচে পেয়েছে ৩২ হাজার ৬২৪ জন। ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় ছাত্রীদের অংশগ্রহণ বেশি। তবে পাসের হারে ছাত্ররা এগিয়ে আছে। ছাত্রদের পাসের হার ৯২.৫১ ভাগ এবং ছাত্রীদের পাসের হার ৯০.২৩ ভাগ। ডিআরভুক্ত শিক্ষার্থী অনুপস্থিতির হার, জিপিএ ৫ প্রাপ্তি এবং পাসের হারের ভিত্তিতে ঢাকা জেলার ডেমরা থানার দারুননাজাত সিদ্দিকীয়া কামিল মাদরাসা শীর্ষস্থান দখল করেছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে চট্টগ্রামের ডাবলমুরিং থানার বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল (এমএ) মাদরাসা ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট থানার তানযূমুল উম্মাহ ক্যাডেট দাখিল মাদরাসা। সংযুক্ত ইবতেদায়ী মাদরাসায় পাসের হার ৮৯.৪৭ ভাগ এবং স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসায় পাসের হার ৯১.৫২ ভাগ। সর্বোচ্চ পাসের হার বিবেচনায় ইবতেদায়ীতেও বরিশাল বিভাগ এগিয়ে। এ বিভাগে পাসের হার ৯৪.৬৫ ভাগ। ৬৪টি জেলার মধ্যে ঝালকাঠি শীর্ষে। এ জেলায় পাসের হার ৯৭.৮৯ ভাগ। ৫৪টি উপজেলায় শতভাগ পাস করেছে। মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলার পাসের হার সর্বনিম্ন। এ উপজেলায় পাসের হার মাত্র ২৩.০৮ ভাগ। সারাদেশের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের পাসের হার ৯৪.৯৮ ভাগ। ৪১৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৩৯৭ জন পাস করেছে। ৯৯টি মাদরাসার কোন শিক্ষার্থী পাস করেনি। এর মধ্যে উচ্চ মাদরাসা সংযুক্ত মাদরাসা ৭২টি ও ইবতেদায়ী মাদরাসা ২৭টি। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৬৭১ জন। শতভাগ পাস করা মাদরাসার সংখ্যা ৬৭৪টি। এর মধ্যে উচ্চ মাদরাসা সংযুক্ত মাদরাসা ১৫০৪টি এবং ইবতেদায়ী মাদরাসা ৪ হাজার ৫৭০টি।
Khoj Khobor