August 31, 2009

ইমামের বক্তব্য অরুচিকর সংসদীয় শিষ্টাচারবহির্ভূত : সুরঞ্জিত


আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের বক্তব্য অসাংবিধানিক, অশোভনীয়, অবান্তর, অপ্রাসঙ্গিক, অরুচিকর ও সংসদীয় শিষ্টাচারবহির্ভূত। স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ৩ জনকেই ডাকার সিদ্ধান্ত হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, প্রথমে আইন সচিব এবং পর্যায়ক্রমে সংস্থাপন সচিব ও উপদেষ্টা এইচ টি ইমামকে ডাকা হবে।

গতকাল সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, উপদেষ্টাকে যিনি (প্রধানমন্ত্রী) নিয়োগ দিয়েছেন তিনিই আমাকে সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদে নিয়োগ দিয়েছেন। সংবিধান ও কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী সরকারে প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে কমিটিকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে চান। তিনি বলেন, কোন প্রতিহিংসা নিয়ে এ সংসদীয় স্থায়ী কমিটি কাজ করছে না, সংবিধান অনুযায়ী সবার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই কাজ করা হচ্ছে। কমিটিতে ডাকার পর এইচ টি ইমাম কেন এত আতঙ্কিত ও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছেন তা বোধগম্য নয়।

সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, আমি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছি আর সংসদ নেতা আমাকে সংসদীয় কমিটির সভাপতির দায়িত্ব দিয়েছেন। আইন অনুযায়ী বিশ্বস্ততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার জন্য আমি কাজ করছি। রাষ্ট্রীয় এই কাজে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার কোন সুযোগ নেই। তিনি বলেন, সংবিধান ও কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী সংসদীয় কমিটির কাজ সরকার ও প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। তাই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার স্বার্থে দুই বিচারককে অপসারণের ঘটনায় ৩ জনকে ডাকার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সাংবাদিকদের একটি অডিও ক্যাসেট দেখিয়ে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, কমিটির বৈঠকের রেকর্ড রয়েছে, যা শুনিয়ে আমি কাউকে বিব্রত করতে চাই না। তবে যে কেউ চাইলে স্পিকারের কাছ থেকে এই রেকর্ড দেখে নিতে পারেন। তিনি বলেন, আগামী ৯ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে আইন সচিবকে ডাকা হবে। এরপর তার বক্তব্যে কমিটি খুশি না হলে সংস্থাপন সচিবকে ডাকা হবে। এরপরও প্রকৃত ঘটনা জানা সম্ভব না হলে উপদেষ্টা এইচ টি ইমামকে ডাকা হবে।

মীমাংসিত ইস্যু নিয়ে কেন বিতর্ক করা হচ্ছে- এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও সময়োচিত কার্যকর পদক্ষেপের কারণে দেশ একটি অনিবার্য সংঘাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। কারণ দুই বিচারককে অব্যাহতি দেয়ার ঘটনায় আইন, বিচার ও নির্বাহী বিভাগের মধ্যে সংঘাতের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। এজন্য আমরা প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইন প্রতিমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছি; কিন্তু তারপরও এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য ওই ঘটনা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রথম আদেশটি ভুল ছিল বলেই দ্বিতীয় আদেশ দেয়া হয়েছে। আর এই আদেশের মধ্যে আমরা এইচ টি ইমামের সই দেখেছি। আর এই ফাইলটি উপর থেকে নিচে এসেছে, যেটা ব্যতিক্রম। সে কারণেই এই উদ্যোগ। তিনি বলেন, আমরা ৩ জনকে দোষী সাব্যস্ত করিনি। তাদের কাছ থেকে প্রকৃত ঘটনা জানতে চেয়েছি। এক্ষেত্রে হিংসা ও বিদ্বেষ খোঁজার কোন সুযোগ নেই। তাই আমার শ্রদ্ধেয় বন্ধু এইচ টি ইমাম এর মধ্যে যে উস্কানি খুঁজেছেন তা সঠিক নয়।

বঞ্চিত হওয়ার কারণে এ পদক্ষেপ নেয়ার অভিযোগ অবান্তর দাবি করে তিনি বলেন, আপনি দায়িত্ব নেবেন, আর দায়িত্বশীল হবেন না- এটা ঠিক নয়। আমরা চ্যালেঞ্জ করতে চাই না। তবে তলব শব্দটি আমরা ব্যবহার করিনি। আমরা ডাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এইচ টি ইমাম সাহেব আমার শ্রদ্ধেয় বন্ধু। তার কাছ থেকে আমরা ঘটনাটি জানতে চাই। এর মাধ্যমে শেখ হাসিনার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে- এমন আশঙ্কার কোন সুযোগ নেই। কারণ প্রধানমন্ত্রী চান সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, সংসদীয় কমিটি কার্যকর হলে প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে। আর প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হলে সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে। এর মাধ্যমে জোট, মহাজোট ও জাতির ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে বলে তিনি দাবি করেন।

August 29, 2009

শিল্পপতি আজাদ গ্রেপ্তার, নানা রহস্য

বিশিষ্ট শিল্পপতি, আজাদ প্রোডাক্টস ও গ্র্যান্ড আজাদ হোটেলের মালিক আবুল কালাম আজাদের গ্রেপ্তার নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে নানা রহস্য। বৃহস্পতিবার রাতে পুরানা পল্টনের অফিস থেকে বাসায় ফেরার পথে আজাদকে গ্রেপ্তার করে পল্টন থানা পুলিশ। গতকাল তাকে ১ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। তার গ্রেপ্তারের কারণ সম্পর্কে পুলিশ একবার বলছে, পুলিশ কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ার তার ভাইয়ের চাকরির জন্য পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে গ্র্যান্ড আজাদ হোটেলে আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে দেখা করতে গেলে তাকে বেদম প্রহার করে রক্তাক্ত করা হয়। অন্যদিকে, বিবিসিকে মতিঝিল অঞ্চলের পুলিশের উপ-কমিশনার খন্দকার মুহিতউদ্দিন আরও বলেন, আজাদ জাল টাকা তৈরির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। তার রুমে ওই সময় দুজন কৃষ্ণাঙ্গও ছিল। ওদিকে পুলিশ কর্মকর্তার নিকটাত্মীয়কে চাকরি এবং চাহিদা অনুযায়ী টাকা না দেয়ার কারণেই আজাদ প্রোডাক্টসের মালিক আবুল কালাম আজাদকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন তার একমাত্র ছেলে জিয়াউর রহমান আজাদ। আজাদ আরও জানান, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে তিনটায় ৫৫ পুরানা পল্টনের গ্র্যান্ড আজাদ হোটেলের ১২০৫ নম্বর কক্ষে প্রতিদিনকার মতো বিশ্রাম নিচ্ছিলেন আজাদ প্রোডাক্টসের মালিক আবুল কালাম আজাদ। পূর্বানুমতি ছাড়াই ওই কক্ষে ঢোকেন সিআইডি পুলিশের কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ার। অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করায় খানিকটা ক্ষুব্ধ হন আজাদ। নিজের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তিনি থানায় ফোন করার চেষ্টা করেন। এ সময় ওই পুলিশ সদস্য তার এক নিকটাত্মীয়কে চাকরি দেয়ার জন্য অনুরোধ করেন এবং তাকে ২০ হাজার টাকা দিতে বলেন। অপ্রস্তুত আজাদ তাকে রুম থেকে বের হয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। আবুল কালাম আজাদের একমাত্র ছেলে জিয়াউর রহমান আজাদ জানান, গোলাম সারোয়ার তার অনুরোধ না রেখে উত্তেজিত হয়ে তাকে হুমকি দিতে থাকেন। আবার এই বলে শাসান, যদি টাকা এবং চাকরি দেয়া না হয় তাহলে জাল ডলার মামলায় তাকে ফাঁসিয়ে দেয়া হবে। ওই সময় আজাদ তার হোটেলের কয়েকজন কর্মকর্তাকে তার কক্ষে ডাকেন। তাদের উপস্থিতিতে অন্যায়ভাবে একজন ব্যবসায়ীর কক্ষে ঢোকার অপরাধ স্বীকার করে সাদা কাগজে লিখিত দিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে যান পুলিশের ওই কর্মকর্তা। গতকাল পরিবাগের বাসায় তিনি আরও বলেন, তার বাবার ওই কক্ষে তিনি ও তার দুই বোন ছাড়া আর কারও প্রবেশাধিকার নেই। তবে মাঝে মধ্যে অফিসের প্রয়োজনে ওই রুমে কর্মকর্তা কর্মচারীদের ডেকে নিতেন তিনি। সাদা পোশাকে একজন পুলিশ অনুমতি ছাড়া তার বাবার কক্ষে ঢুকে অন্যায় করেও উল্টো তার বাবাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে রিমান্ডে নিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তার কথা, দেশের একজন সিআইপি ব্যক্তি হিসেবে তার বাবা কাউকে অফিসে ডেকে নিয়ে মারধর করবে এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। শুধু বাবা হিসেবে বলেই তার এ দাবি নয় বলে জিয়া বলেন, তার বাবা বছরে লাখ লাখ টাকা সরকারকে রাজস্ব দেন। আর তাকে এভাবে হয়রানি করে পুলিশ বুঝিয়ে দিল তারা সব পারে। এদিকে থানা হাজতে থাকা আবুল কালাম আজাদ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে গতকাল রাত সাড়ে আটটায় তাকে রাজারবাগ পুলিশ লাইন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অন্যদিকে, আজাদ প্রোডাক্টসের অর্থ ও হিসাব বিভাগের এক কর্মকর্তা ওই সময়কার ঘটনা বর্ণনা করে বলেন, তাদের সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে ওই পুলিশ কিভাবে মালিকের কক্ষে ঢুকলেন_ এটাই তার কাছে বড় বিস্ময়। ওই সময় হোটেলের দোতলার অফিস রুমে তিনি কাজ করছিলেন। মালিকের ডাকে তিনিসহ আরও কয়েকজন কর্মকর্তা ১২০৫ নম্বর কক্ষে গিয়ে পুলিশ সদস্যকে দেখতে পান। এ সময় আজাদ ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে সারোয়ারের কাছ থেকে লিখিত চান। সাদা কাগজে লিখিতভাবে নিজের ভুল স্বীকার করে সারোয়ার সেখান থেকে বের হয়ে আসেন বলে দাবি করেন তিনি। আবুল কালাম আজাদের ভায়রা আনিস বলেন, রাত সাড়ে নয়টায় বাসার উদ্দেশে অফিস থেকে বের হন আজাদ। এ সময় পুলিশ তাকে আটক করে নিয়ে যায়। তার দাবি উনি (আজাদ) যদি কোন অন্যায় করতেন তাহলে হয়তো প্রকাশ্যে বাসায় ফিরতেন না। আর কাউকে পিটানোর মতো লোক নন তিনি। আর তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা হাস্যকর। কারণ কারও হাতঘড়ি কিংবা গলার সোনার চেইন চুরি করার মতো কাজ আজাদ করবেন- এটা পাগলেও বিশ্বাস করবে না। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায় বিচার কামনা করছেন আজাদের পরিবার। ওদিকে বৃহস্পতিবার রাত নয়টায় গোলাম সারোয়ার বাদী হয়ে পল্টন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। গতকাল তাকে কোর্টে পাঠিয়ে পুলিশ পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করলে মহানগর হাকিম আবদুর রহিম এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এদিকে, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মাজহার হোসেন বলেন, আজাদকে গ্রেপ্তার করার সময় গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি জিনিস জব্দ করা হয়েছে। কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ বেরিয়ে আসার গন্ধ পাচ্ছেন তারা। আশা করছি, অনেক কিছুই বের করতে পারবো। মামলার বাদী গোলাম সারোয়ার জানান, ১৯৯১ সাল থেকে আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে তার পরিচয়। সমপ্রতি আজাদ প্রোডাক্টসের ডিজাইনার পদে তার ভাই নাসির উদ্দিনের চাকরির জন্য আজাদের দ্বারস্থ হন তিনি। নাসিরকে চাকরি দেয়ার কথাও দেন আজাদ। সে অনুসারে গত বৃহস্পতিবার জীবন-বৃত্তান্তসহ নাসিরকে নিয়ে আসার জন্য বলেন তিনি। সারোয়ার জানান, চার-পাঁচদিন আগে আজাদ তাকে তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর দেন। ভাইয়ের চাকরির ব্যাপারে মোবাইল ফোনে কয়েকবার আজাদের সঙ্গে কথাও হয় তার। এদিকে পুলিশ জানায়, সর্বশেষ পাঁচ দিন আগে মোবাইল ফোনে আজাদের সঙ্গে কথা হয় গোলাম সারোয়ারের। সে জন্য গত বৃহস্পতিবার নাসিরকে নিয়ে গ্র্যান্ড আজাদ হোটেলে যান গোলাম সারোয়ার। ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত গ্র্যান্ড আজাদ হোটেলে অপেক্ষা করেও আজাদের দেখা পাননি। ফোনও ধরছিলেন না তিনি। পরে স্টাফদের কথা অনুযায়ী হোটেলের ১২তলায় চলে যান সারোয়ার। ১২০৫নং রুমে কলিং বেল টিপার চার পাঁচ মিনিট পর বের হয়ে আসেন আজাদ। সঙ্গে সঙ্গে শার্টের কলার ধরে সারোয়ারসহ তার ভাইকে ঘরের ভেতর টেনে নিয়ে যান। এ সময় স্ক্যানার মেশিনসহ দুজন আফ্রিকান লোকও ছিল ১২০৫ নম্বর রুমে। বিছানার ওপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল ডলার। কোন কথা না বলেই আজাদ তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। ১২টা থেকে তিনটা পর্যন্ত পুরো তিন ঘণ্টা ধরে তাদের ওপর চলে অমানুষিক নির্যাতন। এক পর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে যান গোলাম সারোয়ার। পরে বিকাল তিনটায় পল্টন থানা পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে। সারোয়ারের বক্তব্য, সারা শরীর তার রক্তে ভেসে যায়। যদিও গতকাল তাকে সুস্থ স্বাভাবিক দেখা গেছে। উদ্ধারকৃত মালামাল: আবুল কালাম আজাদকে গ্রেপ্তারের সময় পুলিশ ১২০৫নং কক্ষ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মালামাল উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত মালামালগুলো হচ্ছে একটি কম্পিউটারের সিপিইউ, ২২টি সিডিসহ একটি বক্স, রাজউকের একটি অনুমোদনকারী সিল, একটি ভবনের নকশা, একটি অডিও ক্যাসেট, গোলাম সারোয়ারের ভাঙা চশমা। এসআই মাজহার বলেন, রাজউকের সিল কেন তার কাছে থাকবে? আবার একটি ভবনের নকশাও ছিল তার কাছে। সবকিছুই সন্দেহজনক। তবে তদন্ত ছাড়া আর কিছু বলতে চাই না আমি। আইনজীবীর বক্তব্য: আবুল কালাম আজাদের আইনজীবী নজীবুল্লাহ হিরু বলেন, কোন অনুমতি ছাড়াই জোরপূর্বক তার ব্যক্তিগত রুমে ঢুকে পড়েন সিআইডি অফিসার গোলাম সারোয়ার। কোন সময়ই অনুমতি ছাড়া তার ব্যক্তিগত রুমে কারও ঢোকা পছন্দ করেন না আবুল কালাম আজাদ। এ সময় গোলাম সারোয়ারের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। গোলাম সারোয়ার আজাদকে পুলিশি ভয়ভীতি দেখান। এ সময় তিক্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় সেখানে। পরে অন্য পুলিশ অফিসারের উপস্থিতিতে লিখিত মুচলেকা দেন গোলাম সারোয়ার। এ জন্য ক্ষমাও চান তিনি। অন্যদিকে, গতকাল আদালতে হাজির করা হয় আবুল কালাম আজাদকে। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে পাঁচদিনের রিমান্ডের আবেদন করা হলে মহানগর হাকিম মো. আবদুর রহিম একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গোলাম সারোয়ার মুচলেকায় যা লিখেছেন: 'আমি গোলাম সারওয়ার, পিতা আবদুল হাকিম তালুকদার, সাং ডেমরা, থানা- ডেমরা, জেলা- ঢাকা অদ্য ২৭-০৮-২০০৯ তারিখ আজাদ প্রোডাক্টস এর মালিক মি. আবুল কালাম আজাদের সাথে বিনা অনুমতিতে তার শয়ন কক্ষে ঢোকার জন্য কলিং বেল দিয়ে যে অন্যায় করেছি তার জন্য ক্ষমা চাচ্ছি। সারওয়ার- ২৭-০৮-০৯'

August 24, 2009

অপারেশন ক্লিন স্ট্রিট শুরু


রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে যানজট নিয়ন্ত্রণে শুরু হয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান 'অপারেশন ক্লিন স্ট্রিট'। গতকাল বেলা ১১টায় তেজগাঁও সাতরাস্তা মোড় থেকে এ অভিযানের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করা হয়। রাস্তার দু'পাশে অবৈধ পার্কিং বন্ধ, যত্রতত্র বাস থামতে না দেয়া, অবৈধ গাড়ি চলাচল বন্ধ, রাহসস্তার ওপর নির্মাণসামগ্রী রাখা বন্ধ করা ও রাস্তা বন্ধ করে হকারদের বসতে না দেয়ার অভিযান পরিচালনা করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিবে এ ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ অভিযানে কাউকে ছাড়া দেয়া হবে না জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার একেএম শহীদুল হক বলেছেন, ফিটনেস ও কাগজপত্র নেই এমন যানবাহন ও অবৈধ রিকশার বিরুদ্ধে চলবে এ অভিযান। এ ছাড়া সড়কের দু'পাশে অবৈধ পার্কিং, অননুমোদিত স্থানে গাড়ির স্টপেজ বন্ধ, ২০ বছরের পুরনো যানবাহন চলতে দেয়া হবে না। রাজধানীতে চলাচলের অযোগ্য এমন স্টিকার লাগিয়ে দেয়া হবে ওইসব গাড়িতে। ফুটপাতও দখল মুক্ত করা হবে এ সময়ে। ইতিমধ্যে গত সাতদিনে প্রায় দুই কোটি টাকা জরিমানা আদায় ও এক হাজার ৬৯৪ আনফিট গাড়ি আটক করেছে পুলিশ। এর আগে ডিএমপি'র সদর দপ্তরে এ বিষয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও যানজট নিরসনে মনিটরিং কমিটির আহ্বায়ক শফিক আলম মেহেদী বলেন, যানজট নিরসনে যে কোন পদক্ষেপ নিতে তারা পিছপা হবেন না। কাউকে ছাড়ও দেয়া হবে না। যানজট সৃষ্টির জন্য দায়ী সব সংস্থাকেই এই কমিটিতে রাখা হয়েছে। রাজধানীর যানজট সমস্যা রাতারাতি দূর করা না গেলেও বিদ্যমান আইনি সমস্যাগুলো সংস্কার করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঢাকাবাসী যানজটমুক্ত নগরে বসবাস করুক- এটা সবাই চায়। প্রতি দু'সপ্তাহ পর পরই এ কমিটি বৈঠকে বসবে। সেখানে যানজটের অগ্রগতি ও সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হবে। তিনি জানান, যানজট নিরসনে রাজধানীকে আটটি জোনে ভাগ করে ২০ জন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযান চালাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত। প্রয়োজনে জোন ও ম্যাজিস্ট্র্রেটের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন- অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক), উপ-সচিব, (পুলিশ) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সওজ ঢাকা বিভাগ, পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) বিআরটিএ, যুগ্ম কমিশনার (ট্রাফিক) ডিএমপি, সিনিয়র এনফোর্সমেন্ট অফিসার ডিটিসিবি, পরিচালক (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) রাজউক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক ঢাকা, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সিটি করপোরেশন, পরিচালক ট্রাফিক বাংলাদেশ রেলওয়ে, উপসচিব পরিবহন সড়ক ও রেল বিভাগ।

August 16, 2009

সন্ত্রাসী সন্দেহে যুক্তরাষ্ট্রে আটক শাহরুখ, পরে মুক্ত

শুধুমাত্র নামের একাংশের মিল থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানবন্দরে দুই ঘণ্টা আটক রাখা হয় বলিউড বাদশা শাহরুখ খানকে। পরে জোর কূটনৈতিক তৎপরতায় মুক্তি মেলে তার। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ভারতের তথ্যমন্ত্রী অম্বিকা সোনি। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এ আচরণ যথাযথ নয়। এজন্য মার্কিনিদের প্রতিও আমাদের একই রকম আচরণ করা উচিত। এ খবর দিয়ে গতকাল টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, গতকাল সকালে এ ঘটনা ঘটে নিউয়ার্ক বিমানবন্দরে। ভারতের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সকালে তিনি ওই বিমানবন্দরে পেঁৗছলে সেখানে তাকে সন্ত্রাসী সন্দেহে আটক রাখা হয়। ইমিগ্রেশন চেকের সময় তার নামটি ভেসে ওঠে কম্পিউটার স্ক্রিনে। তার নামের শেষাংশ অর্থাৎ 'খান' শব্দটি নিয়ে আপত্তি করে কম্পিউটার। খান শব্দটি ওই কম্পিউটার প্রোগ্রামে সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী চিহ্নিত করতে ব্যবহার করা হয়েছে। কম্পিউটারের দেয়া ওই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে শাহরুখ খানকে আটক দেখিয়ে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করা হয়। জানতে চাওয়া হয় তার সফরের উদ্দেশ্য। তল্লাশি চালানো হয় তার ব্যাগে। প্রায় এক ঘণ্টা তাকে ফোন করতে দেয়া হয় না কাউকে। শাহরুখ খান নিজেকে এ সময় একজন অভিনেতা পরিচয় দিয়েও রেহাই পাননি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, তাদেরকে আমি বলেছি যে আমি একজন চলচ্চিত্র তারকা। শুটিং করতে সমপ্রতি আমি এদেশ সফর করেছি। কিন্তু আমার কোন কথায়ই মন গলেনি ইমিগ্রেশন অফিসারের। সেখানে উপস্থিত অন্য কয়েকজন ইমিগ্রেশন অফিসার আমার হয়ে সাক্ষ্য দিলেন। কিন্তু তাতেও ওই অফিসার নরম হলেন না। শাহরুখ খান বলেন, আমি তাদেরকে বললাম- দক্ষিণ এশিয়ার সমপ্রদায়ের এক আমন্ত্রণে এসেছি। আমাকে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে হবে। কিন্তু না, পরিস্থিতি তথৈবচ। অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র কতর্ৃপক্ষ এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিয়োজিত ভারতীয় দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন কংগ্রেসের এমপি রাজীব শুক্ল। এ বিষয়ে ভারতের তথ্যমন্ত্রী অম্বিকা সোনি ব্যক্ত করেছেন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া। নিন্দা জানিয়েছেন রাজীব শুক্ল। রাজীব বলেছেন, এ আচরণ মোটেও সুষ্ঠু নয়। শাহরুখ খানের নামের একটি অংশ সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীর নামের তালিকার সঙ্গে মিলে যাওয়ার কারণেই যদি তাকে আটকে রাখা যায়, তাহলে তো প্রতিটি মুসলমানকে সন্ত্রাসী মনে করে সন্দেহ করা যেতে পারে। এজন্য মার্কিন কর্তৃপক্ষের উচিত এমন পদ্ধতি বের করা যাতে সাবেক প্রেসিডেন্ট এপিজে আবদুল কালাম এবং চলচ্চিত্র তারকা শাহরুখ খানের মতো বহুল পরিচিত নামের ব্যক্তিরা এরকম হয়রানির শিকার না হন। তাদের উচিত প্রকৃত সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীর দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করা। এ ব্যাপারে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী অম্বিকা সোনি বলেছেন- আমি মনে করি না যে, এ রকম নামের সঙ্গে মিল থাকায় যে কাউকে আটক করা ন্যায়সঙ্গত। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে বেশ কয়েকবার এ ঘটনা ঘটেছে। সব সময়ই তথ্যপ্রমাণ না দেখে অধিকতর গতিতে সন্দেহপ্রবণতাই জোরালো হয়েছে। অম্বিকা সোনি আরও বলেন, আমাকেও যুক্তরাষ্ট্রে এ রকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। এজন্য সব সময় আমার মনে হয়, মার্কিনিদের প্রতিও আমাদের ওই রকম আচরণ করা উচিত। গত এপ্রিলে মার্কিন বিমান সংস্থা কন্টিনেন্টাল এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে আরোহণ করেছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট এপিজে আবদুল কালাম। ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকেও ওই সংস্থা একই রকম হয়রানির মুখে ফেলে। সেখানে তাকে পুরো শরীর তল্লাশি করা হয়। এমনকি তাকে তার জুতা মোজা পর্যন্ত খুলতে বলা হয়। ওই সময় আবদুল কালামের নিউ ইয়র্কগামী একটি ফ্লাইটে ওঠার কথা ছিল। ওই ঘটনায় জুলাই মাসে ভারতীয় পার্লামেন্টে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়।

August 12, 2009

ওয়ান ইলেভেনের ব্যাপারে বিদেশী কূটনীতিকদের ভূমিকা ছিল না

বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টি বলেছেন, ওয়ান ইলেভেনের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিদেশী কোন কূটনীতিকদের কোন ভূমিকা ছিল না। তবে বাংলাদেশে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে যে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চলছে তাকে আমরা সমর্থন করি। তিনি গতকাল চিলমারীতে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ যৌথ সামরিক মানবিক সহায়তা অনুশীলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে একথা বলেন। মরিয়ার্টি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মনে করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অবশ্যই হওয়া উচিত। তবে বিচার প্রক্রিয়া অবশ্যই স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানের হওয়া উচিত। রাজনৈতিক বিবেচনায় যেন বিচার করা না হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে মরিয়ার্টি যৌথ সামরিক ও মানবিক অনুশীলন প্রসঙ্গে বলেন, এই অনুশীলনের একটি তাৎক্ষণিক উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র সামরিক বাহিনীর প্রকৌশল ও চিকিৎসা বিভাগের মধ্যে আন্তঃসক্ষমতা বৃদ্ধি করা। এসব অনুশীলন বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেকার ফলপ্রসূ ও পারস্পরিক লাভজনক সম্পর্কের দৃষ্টান্ত বলে তিনি উল্লেখ করেন। সমাপনী অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের ভারপ্রাপ্ত ডিভিশন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাবি্বরুল করিম বক্তৃতা করেন। ৭২ পদাতিক ব্রিগেডের ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কামরুল ইসলাম, কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. আসাদুজ্জামান, চিলমারী উপজেলা চেয়ারম্যান শওকত আলী বীর বিক্রম উপস্থিত ছিলেন। দুপুর ১টার দিকে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যৌথ উদ্যোগে নির্মিত চিলমারী উপজেলার রাধাবল্লভ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি স্কুলের শিক্ষাথর্ী ও শিক্ষকদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এরপর তিনি চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে পরিচালিত যৌথ চিকিৎসা শিবির পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি রোগী ও চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন। গত ১লা আগস্ট থেকে ১১ই আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীর ডেনক্যাপ, মেডক্যাপ ও ইনক্যাপ-এর আওতায় চিলমারী উপজেলার চর শাখাহাতি ও রাধাবল্লভ প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণ ছাড়াও উলিপুর ও চিলমারী উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্ল্লেক্সে বিনামূল্যে চিকিৎসা শিবিরে প্রায় ১১ হাজার রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়। যৌথ প্রশিক্ষণে যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীর ৬৩ জন সদস্য ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২২৬ জন সদস্য যোগ দেন।

August 10, 2009

বাংলাদেশের দারুণ জয়, আশরাফুলের অনবদ্য শতরান

প্রস্তুতি ম্যাচে হারের পর যারা দ্বিধায় পড়ে গিয়েছিলেন তাদের স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে পাওয়া জয়গুলো যে কোন চমক বা অঘটন ছিল না তার প্রমাণ দিয়েছেন তামিম-আশরাফুল। গতকাল বুলাওয়েতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম একদিনের ম্যাচে বাংলাদেশ দল ৮ উইকেটে জিতেছে। জয়টি এতই সাবলীল ছিল যে, ১৫ ওভার বাকি থাকতেই লক্ষ্যে পেঁৗছে যায় বাংলাদেশ দল। সাবেক অধিনায়ক আশরাফুল তার শতরানটির জন্য যদি মাটি কামড়ে না থাকতেন তবে খেলাটি শেষ হতে পারতো আরও আগেই। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম দু'ম্যাচে অর্ধশত রান পাওয়া আশরাফুল কাল অপরাজিত থাকেন শতরান করে। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটি তার তৃতীয় শতরান। ৯৯ রানের মাথায় ৩ হাজার রানের মাইলফলকও স্পর্শ করেন ১৪৩তম ম্যাচ খেলা আশরাফুল। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে ৪৭.৫ ওভারে অলআউট হয়ে গিয়েছিল ২০৭ রানে। বাংলাদেশ দল ২১১ রান করে ২ উইকেট হারিয়ে ৩৪.৩ ওভারে। আশরাফুল ১০৩ এবং রকিবুল ১১ রানে অপরাজিত থাকেন। তামিম ইকবাল ও জুনায়েদ সিদ্দিকী শুরুটা খুব ভাল করতে পারেননি। দ্রুততার সঙ্গে এগোবার চেষ্টা করলেও জুনায়েদের বিদায়ে ৩০ রানেই প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ১২ বলে ২১ রান করেন জুনায়েদ। ওয়ান ডাউনে আশরাফুল যোগ দেন তামিমের সঙ্গে। এ দু'জন জিম্বাবুয়ের বোলারদের শাসন করে খেলতে থাকেন। দ্রুত ম্যাচকে তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন। ১৩৭ রানের জুটি গড়ে দলকে আশাতীত গতিতে জয়ের দিকে নিয়ে যান। তামিম ক্যারিয়ারের নবম ফিফটি গড়েন। ২৬তম ওভারে এসে আউট হন ব্যক্তিগত ৬৩ রান করে। ৬৮ বলের ইনিংসে বাউন্ডারি হাঁকান ৭টি। দলের সংগ্রহ তখন ১৬৭। জয়ের জন্য দরকার ৪১ রান। ওই সময় আশরাফুলের সংগ্রহ ৭৪ বলে ৭৫ রান। চিগুম্বুরার ওই ওভারের শেষ বলে চার মারেন। পরের ওভারে রে প্রাইসের বলে নেন মাত্র ২ রান। এরপর ফের চিগুম্বুরার ওভারে একটি ছক্কাসহ নেন ৭ রান। ২৮ ওভার শেষে আশরাফুলের সংগ্রহ ৮৮। এরপর থেকে শতরানের জন্য ধীরে খেলতে থাকেন আশরাফুল। স্বাগতিকরাও বিষয়টি বুঝে রক্ষণাত্মক ফিল্ডিং সাজান। আশরাফুলের শতরান হওয়ার জন্য অপরপ্রান্তে রকিবুলও হাত গুটিয়ে খেলতে থাকেন। ফলে ৩০ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ যেখানে ১৯৪ সেখানে স্কোর সমান হতে প্রয়োজনীয় ১৩ রান আসে ২৭ বলে। ৯৯ রান থেকে মাসাকাদজার বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে শতরান পূর্ণ করেন আশরাফুল। শেষ পর্যন্ত ১০৩ বলে ১০৩ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। ম্যান অব দ্য ম্যাচও হন তিনিই।

August 4, 2009

ব্যালেন্স নিয়ে কারা এতো ভাবছেন...

রাজধানীর বিভিন্ন দেয়ালে একটি বিষয় নিয়ে লেখাকে ঘিরে নগরবাসীর মনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনেকেই আবার শংকাও প্রকাশ করেছেন। পুলিশের কাছে ঐ বিষয়ে কোন তথ্যই নেই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সপ্তাহ দেড়েক আগ থেকে নগরীর দেয়ালগুলোতে 'আমরা ব্যাংক ব্যালেন্স নিয়ে ভাবছি', 'আমরা আয় ব্যয়ের ব্যালেন্স নিয়ে ভাবছি', 'আমরা মোবাইলের ব্যালেন্স নিয়ে ভাবছি'- এই ধরনের লেখা দেখা যাচ্ছে। কিন্তু লেখায় কোন প্রতিষ্ঠানের বা ব্যক্তির নাম ঠিকানাও নেই। কালো ব্যাকগ্রাউন্ডে সাদা অক্ষরের লেখা এই ডায়ালগ নিয়ে রাজধানীবাসীর মধ্যে নানান জিজ্ঞাসার সৃষ্টি করেছে। এই লেখার উদ্দেশ্য নিয়েও অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। তারা নাম ঠিকানাবিহীন এই দেয়াললিখন'কে নিছক কোন পণ্য বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারণা বলেও মানতে নারাজ। অনেকেই এসব ডায়ালগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, এগুলো কোন কট্টকপন্থী নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রচারণা কি না। ঐ বিষয়ে লেখার আশেপাশে অবস্থানকারী লোকজনও কিছু বলতে পারেনি।
গতকাল রাতে ডিএমডির সাথে যোগাযোগ করা হলে কর্তব্যরত অফিসার জানান যে লেখাগুলো তিনিও দেখেছেন। তবে এই সংক্রান্ত কোন তথ্যই নেই পুলিশের কাছে। গোয়েন্দা সংস্থার কাছেও এই ব্যাপারে কোন তথ্য নেই। তবে সংশ্লিষ্টরা বলেছেন তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন।

August 1, 2009

যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদক পাচ্ছেন ইউনূস

নোবেল পুরস্কার বিজয়ী, গরিবের বন্ধু ড. মুহাম্মদ ইউনূস যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নাগরিক পদক 'প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম' পাচ্ছেন হয়েছেন। এ বছর এ পদকে মনোনীত কৃতী ১৬ ব্যক্তিত্বের মধ্যে তিনি অন্যতম। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ইতিহাস সৃষ্টিকারী প্রেসিডেন্ট বারাক হোসেন ওবামা নিজে আগামী ১২ই আগস্ট হোয়াইট হাউসে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের গর্ব ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ মনোনীতদের হাতে এ পদক তুলে দেবেন। নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর ড. ইউনূস বাংলাদেশকে ফের বিশ্ব দরবারে তুলে ধরলেন। এ পদক পাওয়ার খবরে বিনয়ী ড. ইউনূস বলেছেন, এ সম্মান শুধু তার একার নয়। এ সম্মান পুরো বাংলাদেশের, বাংলাদেশীদের। এ বছর দি প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম পদকে মনোনীত বিশ্ব বরেণ্য ১৬ ব্যক্তির সঙ্গে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাম ঘোষণা করে ওবামা বলেছেন, নতুন নতুন তত্ত্ব আবিষ্কার এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে গণমুখী নীতি প্রবর্তনের মাধ্যমে বিশ্বের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে অনুকরণীয় ভূমিকা রেখেছেন এসব প্রতিনিধিত্বশীল ব্যক্তি। তাদেরকে সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মানে ভূষিত করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গৌরবের। এক প্রতিক্রিয়ায় ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আমরা অনেক কঠিন স্তর পার হয়ে এসেছি। এখন কাজ হচ্ছে দ্রুততম সময়ে জনমানুষকে নতুন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া। মনে সাহস ও গন্তব্যে পেঁৗছার দৃঢ় মনোবল থাকলে সেটি করা সম্ভব- এটি মনে রাখা দরকার। তিনি বলেন, এ পথে বাধা এলে তা অতিক্রম করতে মনে সাহস থাকা দরকার। গতকাল সিএনএন, নিউ ইয়র্ক টাইমস তার পদক পাওয়ার খবর দিয়ে আরও জানায়- যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা স্বার্থে, বিশ্ব শান্তি, সংস্কৃতি তথা সরকারি-বেসরকারি খাতে অসামান্য অবদান রেখেছেন এমন ব্যক্তিদের এ পদকে ভূষিত করে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট বারাক হোসেন ওবামার ক্ষমতায় আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নাগরিক সনদ প্রদানের ঘটনা এটাই প্রথম। তিনি এবার যাদের পুরস্কৃত করছেন তাদের কেউ ক্ষুদ্র ঋণের প্রবক্তা, কেউবা বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনে জড়িত। কেউ লিঙ্গ বৈষম্য বিরোধী। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বেসামরিক লোকজনের অবদানকে স্বীকৃতি দিতে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস. ট্রুম্যান মেডেল অব ফ্রিডম চালু করেন। ১৯৬৩ সলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা ব্যক্তিদের সম্মানিত করতে প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি এ পদক পুনঃপ্রবর্তন করেন। এ পদক যারা পান তারা সম্মানের পাত্র হলেও ২০০৪ সালে প্রেসিডেন্ট জর্জ ডবি্লউ বুশ এ পদক দেয়ায় তা নিয়ে তীব্র বিতর্ক ওঠে। ওই সময় যাদেরকে পদক দেয়া হয় তাদের মধ্যে তার ইরাক নীতির কেন্দ্রে ছিলেন এমন তিনজন ব্যক্তি ছিলেন। তারা হলেন_ মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ'র সাবেক পরিচালক জর্জ টেনেট, যুক্তরাষ্ট্র নিয়োজিত ইরাকের সাবেক প্রশাসক এল. পল ব্রেমার এবং জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) টমি ফ্রাঙ্কস। এদের মধ্যে ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে সন্ত্রাসী হামলা ও ইরাক যুদ্ধে গোয়েন্দা ব্যর্থতার জন্য টেনেট ছিলেন সবচেয়ে বিতর্কিত। কিন্তু সেক্ষেত্রে বারাক ওবামা নজির স্থাপন করছেন প্রকৃত সমাজ পরিবর্তনে প্রতিনিধিত্বশীল ব্যক্তিদের পদকে ভূষিত করে। বাংলাদেশের গর্ব ড. মুহাম্মদ ইউনূস নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর একে একে অর্জন করেছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের, বিভিন্ন সংগঠনের সম্মান-পদক। তার মধ্যে আছে কিংস আবদুল আজিজ মেডেল, র্যামন্ড ম্যাগসেসে অ্যাওয়ার্ড, ওয়ার্ল্ড ফুড প্রাইজ, সিডনি পিস প্রাইজ, ইকুয়েডোরিয়ান পিস প্রাইজ প্রভৃতি। এছাড়া তিনি পেয়েছেন ২৬টি সম্মানজনক ডক্টরেট ডিগ্রি এবং ১৫টি বিশেষ পুরস্কার। তার নোবেল পুরস্কার বিজয়ের সম্মানস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার প্রবর্তন করেছে একটি স্মারক ডাকটিকেট। ২০০৮ সালে জানুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের হিউসটন ১৪ই জানুয়ারিকে 'মুহাম্মদ ইউনূস দিবস' ঘোষণা করেছে। ২০০৮ সালের ২রা ডিসেম্বর তিনি অক্সফোর্ডে রেমেন্স লেকচার দিয়েছেন। পেয়েছেন আইজেনহাওয়ার ফেলোশিপ। এর স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৯ সালের ২১শে মে ফিলাডেলফিয়া তাকে দেয় ডোয়েট ডি. আইজেনহাওয়ার মেডেল। ২০০৭ সালের ১৪ই জুলাই দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে নেলসন ম্যান্ডেলা, গ্রেসা মেসেল এবং ডেসমন্ড টিটু বিশ্বের প্রতিভাবান এবং স্বাধীন নেতাদের নিয়ে একটি সংগঠন আহবান করেন। নেলসন ম্যান্ডেলা এর নাম দেন ডি গ্লোবাল এল্ডার্স। ওই সংগঠনে প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের মধ্যে কফি আনান, জিমি কার্টার, মেরি রবিনসন-এর পাশাপাশি স্থান পায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাম। এবার যারা অনন্য এ পুরস্কারে ভূষিত হচ্ছেন তাদের পরিচয় নিচে তুলে ধরা হলো-

১. ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি ক্ষুদ্র ঋণের প্রবর্তক। দারিদ্র্য বিমোচনে বিশেষ অবদানের জন্য ২০০৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন তিনি। নিজ গ্রাম থেকে নিম্ন আয়ের মানুষদের ঋণ দেয়ার মাধ্যমে ১৯৮৩ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন গ্রামীণ ব্যাংক।
২. ন্যান্সি ব্রিংকার। তিনি খ্যাতনামা ব্রেস্ট ক্যান্সার বিষয়ক সংস্থা সুসান জি, কোমেন ফর কিউর-এর প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৮০ সালে ব্রেস্ট ক্যান্সারে বোনের মৃতু্যর পর সংস্থাটি প্রতিষ্ঠা করেন ব্রিংকার।
৩. পেডরো জোসে গ্রের জুনিয়র। তিনি একজন চিকিৎসক ও ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিন বিষয়ক একাডেমীর সহকারী ডীন। তিনি ক্যামিলাস হেলথ কনসার্ন-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রতিষ্ঠানটি মিয়ামিতে বছরে গৃহহীন ১০ হাজারের বেশি রোগীকে চিকিৎসা সুবিধা প্রদান করে।
৪. স্টিফেন হকিংস। তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পদার্থ ও গণিতবিদ। ৬৭ বছর বয়সী এই বিজ্ঞানী লন্ডনে ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক। কৃষ্ণ গহ্বর থিয়রির জন্য বিখ্যাত। কয়েক বছর ধরে তিনি প্রায় পঙ্গু জীবন যাপন করছেন।
৫. নিউ ইয়র্কের সাবেক রিপাবলিক্যান নেতা জ্যাক কেম্প, গত মে মাসে তিনি মারা যান। প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশের আমলে তিনি গৃহায়ন ও শহর উন্নয়ন বিভাগের মন্ত্রী ছিলেন।
৬. সিনেটর এডওয়ার্ড এম, কেনেডি। সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে কেনেডির ভূমিকা যথেষ্ট। মানবাধিকার উন্নয়ন বিষয়ক আইন প্রণয়নেও তার অবদান অনেক।
৭. বিলিয়ে জিয়ান কিং। ১৯৬০ ও ১৯৭০ এর দশকের খ্যাতিমান টেনিস খেলোয়াড়।
৮. জোসেফ লরি। ১৯৫০-এর দশকের শুরু থেকে মানবাধিকার আন্দোলনে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা রাখেন।
৯. জোয়ে মেডিসিন ক্রাউ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জীবিত শেষ ভারতীয় যোদ্ধা।
১০. হারভে মিল্ক। প্রথম কোন সমকামী ব্যক্তিত্ব যিনি একজন নির্বাচিত সরকারি কর্মকর্তা। ১৯৭৭ সালে তিনি সান ফ্রান্সিসকো বোর্ড অব সুপারভাইজার কর্মকর্তা হিসেবে নির্বাচিত হন।
১১. সানড্রা ডে কোনর। যুক্তরাষ্ট্র সুপ্রিম কোর্টের প্রথম মহিলা বিচারপতি। প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান ১৯৮১ সালে তাকে মনোনীত করেন।
১২. সিডনে পইটিয়ার। খ্যাতিমান কৃষ্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র তারকা। ১৯৫০ ও ১৯৬০ এর দশকে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। তিনিই প্রথম আফ্রো-আমেরিকান যিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে একাডেমিক এওয়ার্ড লাভ করেন।
১৩. চিতা রিভেরা। জনপ্রিয় নায়ক, গায়ক, নৃত্যশিল্পী ও টনি এওয়ার্ডস বিজয়ী।
১৪. মেরি রবিনসন। আয়ারল্যান্ডের প্রথম মহিলা প্রেসিডেন্ট। ৯০-১৯৯৭ সাল পর্যন্ত তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৫. জ্যানেট ড্যাভিশন রোলে। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিনের অধ্যাপক ও চিকিৎসক।
১৬. ডেসমন্ড টুটু। দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী সাবেক নেতা ও আর্চবিশপ। ১৯৮৪ সালে তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।

একদিনের সিরিজেও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশ করল বাংলাদেশ

ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচেও বাংলাদেশের কাছে তিন উইকেটে হারল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফলে টেস্ট সিরিজের পর ওয়ানডে সিরিজেও বাংলাদেশের কাছে হোয়াইটওয়াশ হলো স্বাগতিকরা। অথচ এ সিরিজের আগে ওয়ানডে ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে কোন জয়ই ছিল না বাংলাদেশের। এনিয়ে ওয়ানডে সিরিজে ষষ্ঠবারের মত প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করল বাংলাদেশ। কেনিয়াকে দুইবার, জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের সঙ্গে এবার যোগ হলো ওয়েস্ট ইন্ডিজের নাম। আজ বাংলাদেশ সময় ভোররাতে যখন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এবং আব্দুর রাজ্জাক বিজয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন তখনও হাতে এক ওভার এক বল বাকি। দু্ই উইকেট পেয়ে এবং ৫১ রানের হার না মানা ইনিংস খেলে ম্যান অব দ্যা ম্যাচ হয়েছেন মাহমুদউল্ল্লাহ রিয়াদ। আর সিরিজ সেরা হয়েছেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। স্কোর : ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৪৮ (এন্ড্রু ফেচার ৫২, ফয়েড রেইফার ৪০, ড্যারেন সামি ৪০, ডাওলিন ৩৮, রাজ্জাক ৬৩/২, মাহবুবুল আলম ৪২/২, মাহমুদউল্ল্লাহ ৩৮/২)। বাংলাদেশ : ২৪৯/৭, ৪৮.৫ ওভার (জুনায়েদ সিদ্দিকী ৫৫, মাহমুদউল্ল্লাহ ৫১, তামিম ৩০, মুশফিক ৩১, নাঈম ২৬, কোমার রোচ ৬৩/৪, সামি ৩৭/২)
Khoj Khobor