| জঙ্গি "বোমা মিজান" ধরা পড়েছে। এখন তার বিচার হবে। এই দেশে দুই ধরণের বিচার হয়। প্রথম বিচার হচ্ছে, দীর্ঘ চুইংগাম বিচার। এটি বছরের পর বছর ধরে চলে। আজ মামলার ডেট পড়ে, কাল জামিন পায়, পরশু সাক্ষী খুঁজে পাওয়া যায় না, লোয়ার কোর্ট, আপার কোর্ট , বিচারপতির ব্রিবতবোধ- ইত্যাদি নানা সার্কাস। বাংলাদেশের শতকরা ৯৯ শতাংশ বিচারই এই ধরণের। দবির একজন নাবালক শিশু, তার বাবা মায়ের ডিভোর্স হয়ে গেছে, এখন সে কার কাছে থাকবে ? বাবার কাছে না মায়ের কাছে ? এই নিয়ে মামলা। মামলা যথা নিয়মে চলছে। আজ ডেট পড়ছে, কাল ডেট পিছাচ্ছে। মামলা চলার এক ফাঁকে দেখা গেল, দবির সাবালক হয়ে নিজেই মায়ের কাছে থাকছে, মায়ের সাথে রাগারাগি হলে কয়েকদিন গিয়ে বাবার সাথে কাটিয়ে আসছে। মামলার চূড়ান্ত সুরাহা ( যাকে বলে আপিল নিষ্পতি) হতে হতে দবিরের ছেলে কবিরের জন্ম হয়ে গেছে। এই হচ্ছে, বাংলাদেশে বিচার ব্যবস্থা। তবে অন্য ধরণের বিচারও আছে, যেটাকে আমি দ্বিতীয় ধরণ বলছি। এটি হচ্ছে সুপারসনিক বিচার ব্যবস্থা। ( এর একটা গালভরা নামও আছে , দ্রুত বিচার আইন ) । এটিতে যা হওয়ার চট করে হয়ে যায়। যিনি বিচার চাইলেন, যিনি আসামী, বাদী, বিবাদী, বিচারক , সাক্ষী এবং আমজনতা কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই বিচার শেষ। বাংলাভাইদের ক্ষেত্রে যেটা হয়েছে। কে এই বাংলাভাই, তাকে কে বাংলাভাই বানালো, প্রশাসনের কার কার সহযোগিতায় সে বাংলাভাই হয়ে উঠলো, গোটা ঘটনার রাজনৈতিক এবং আর্থ সামাজিক প্রোপট বুঝে ওঠার আগেই বিচার, রায়, আপিল, নিষ্পতি এবং ফাঁসি। জঙ্গি মিজানের ভাগ্যে- এই দুই বিচারের যেকোন একটি হবে। তার কপাল খুব সুপ্রসন্ন (?) হলে তৃতীয় আরেকটি ঘটনা ঘটে যেতে পারে। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানাতে পারে - কোথায় সে অস্ত্র লুকিয়ে রেখেছে। র্যাব তাকে নিয়ে অস্ত্র তল্লাশে যেতে পারে, সেখানে আগে থাকতে ওৎ পেতে থাকা মিজানের সহযোগিরা অতর্কিতে র্যাবের উপর গোলাগুলি শুরু করতে পারে - তাতে ক্রস ফায়ারে আর কারও কোন বাল ছেড়া যাবে না- কেবল গুলিবিদ্ধ হয়ে মিজান পড়ে থাকবে রাস্তায়। ঘটনা সেই দিকেই প্রায় মোড় নিচ্ছিল। গতরাতে মিজানকে নিয়ে র্যব বের হয়েছিল তার বাসায় অস্ত্র তল্লাশে। মিজানের বউ বোমা মেরেছে। এই মহিলার সেন্স অব হিউমারের প্রশংসা করতে ইচ্ছে করছে। এই মহিলা র্যাবের বানানো গল্প থেকে কোন আইডিয়া পেল কিনা কে জানে???? আমার অনুরোধ মিজানকে চট করে মেরে ফেলবেন না। বরং , আসুন , আমরা মিজানের গল্পটি শুনি। ছোটবেলায় সে কোন স্কুলে পড়েছ, ধর্মীয় ব্যাখা তাকে কে বুঝিয়েছে, সে কি কেবল বেহেশতের লোভেই এই পথে এসেছে নাকি এর পেছনে ছিল অন্য কোন হতাশা। সে কি মাদ্রায় পড়েছে? তার কাছে কি মনে হয়েছে দেশে ইসলাম কায়েম হলে, সেই হবে হাকিম, তার জানা আরবী লাইনগুলিই হয়ে উঠবে - এই সমাজের শেষ কথা? মিজানের বাবা কি মিজানকে মারতো ? মিজানের মা কি তাকে ঘুম পাড়ানি গান শোনানো ? সেই গান কি তার ভালো লাগতো ? মা যে গান গায়, সেই গান কি কখনো হারাম হতে পারে? মিজানের নিজের মুখ থেকে মিজানের জঙ্গি মিজান হয়ে ওঠার গল্পটি শুনুন। এই গল্প নিয়ে সমাজ বিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ, ধর্মবিদেরা আলোচনায় বসুন। সমাজের কোথায় কোথায় ফাঁক, যে ফাঁক দিয়ে মিজান, মিজানের স্ত্রীর মতো জঙ্গিদের সৃষ্টি হয়, সেই ফাঁকগুলো বন্ধ করুন। মিজান একটা প্রোডাক্ট। একটা প্রোডাক্ট ধ্বংস করলে, আরেকটি প্রোডাক্ট বাজারে আসতে বেশি সময় লাগবে না। যে সমাজ মিজান বানানোর ফ্যাক্টরি হয়ে উঠছে, সেই সমাজ সংস্কার আগে করুন। এটাই বাংলাদেশকে বাঁচানোর একমাত্র উপায়। Some comments by deshi ampublic: *বাংলাদেশের সবাইও যদি বলে, তাকে মেরে না ফেলে তার গল্প শোনানো হোক, সেটা করা হবে না। তারা নিজেরা রুদ্ধদ্বার কক্ষে হয়তো সেই গল্প শুনতেও পারে, কিন্তু গল্পটা গুম হয়ে যাবে আমাদের দৃষ্টি থেকে। কারণটা সোজা- গল্পের কুৎসিত পাত্রপাত্রীগুলো তো গল্পের প্রাথমিক শ্রোতারাই। হা হা হা। *বাংলা ভাই, শায়েখ আব্দুর রহমান এবং এ রকম আরো অনেক....লিস্টিটি টা জানার ও দেখার বাইরে অনেক অনেক বড় হয়তবা। তবে এইসব জঙ্গী কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা না। মোটা চোখে এরা বড় মাপের অপরাধী, মহাপাপী; কেন না তারা ইসলামের নামে বোমা হালমা করে, নিরপরাধ মানুষ হত্যা করে। কিন্তু খুব সূক্ষ চোখে এরা জন্মেই জঙ্গী হয়নি, এদের কে কেউ এই মানুষ রূপী যন্ত্র বানিয়েছে। এই জঙ্গীরা কিন্তু আমাদের সমাজেরই মানুষ, এদের পরিবারও আমাদের আর দশটা বাংলাদেশী পরিবারের মত। তাই এদের ভেতরে যে পশুটি জেগে উঠেছে, ঠিক সেই পশুটি কিন্তু আমাদের মাঝে ঘুমিয়ে আছে। তার সাথে আমাদের পার্থক্য এতটুকুই সে কোন কারণে ঘুমন্ত পশুটিকে দমিয়ে রাখতে পারেনি; আমরা আপাততঃ পেরেছি। অনেক প্রশ্নই আসে মনে-কেন এরা অনেকের চেয়ে আলাদা? কারা এই পর্দার অন্তরালের মানুষ যারা জঙ্গী পয়দা করছে? সে কি তার বোউ এর গর্ভে এই বহুরূপী পয়দা করছে, না তার কন্যার গর্ভে পয়দা করছে? এই পয়দাতে কি শান্তি বা কি লাভ? ব্যাবসায়িক প্রেক্ষাপটে এটা কতখানি লোভনীয়? এর সাথে আর্ন্তজাতিক যোগাযোগ কতটুকু এবং থাকলে তারা কারা এবং দেশের কাদের সাথে তাদের যোগাযোগ কিংবা আত্মীয়তা? এরকম হাজারো প্রশ্নের অন্তরালে হারিয়ে যাওয়া যাবে কিন্তু তাতে এই সমস্যার সহসা কোন সমাধান মিলবেনা। কেন না আমাদের মধ্যেই একটি শ্রেণীর নিকট এই সমস্যা জমজমাট ব্যবসা। তারা চায় এই সমস্যা টিকে থাক যুগ যুগ সময়। সেই শ্রেণীকে যদি আমরা কোন দিন বর্জন করতে পারি, তবেই পারব এই মহামারী জঙ্গী রোগের বিস্তার রোধ করতে.... *...........বলেছেন: দেশে জংগী আসলো কোথা থেকে ?? যত্তসব ভুয়া নিউজ । দেশে জংগী যা ছিল সবতো ম্যা...... ধরে ফেলেছেন । কেন বিশ্বাস হচ্ছে না ? ম্যা..... নিজে বলেছেন, আপনি তবূ বিশ্বাস করছেন না ? আপনি মোটেও ভাল লোক না * বোমা মিজান বা বোমারু মিজান একটা রাজনৈতিক নাটক। ওকে ধরা হয়েছে রাজনৈতিক স্ক্রীপ্ট অনুযায়ী। শ্যাওড়াপাড়া বা কাজীপাড়ার কোনবাড়িতে ও আছে সেই তথ্যের ভিত্তিতে যে সব গু-য়েন্দা নামক নট-নটীরা পাকড়াও নাটক মঞ্চস্থ করেছে তাদের জিজ্ঞাসা করা উচিৎ। তাদের কর্মকান্ড নিয়ে লেখা উচিৎ। কোন তথ্যের ভিত্তিতে গুয়েন্দাবাহিনী ও নট-নটী বাহিনী সেখানে গেল সেটা ঘেটে দেখা উচিৎ! বোমারু মিজান নামটা কে দিল? এটা কি স্ক্রীপ্টের চরিত্র? বাংলাভাই, শায়ক কতো ভাইকে ধরা হলো, মারা হলো। সেই উদীচি থেকে এখন পর্যন্ত স্ক্রীপ্ট লেখা আর জাতির স্বার্থে বলিখেলা শেষ হলো না। জাতির নানী, খালাম্মা ও আপা (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নন) সাহারা খাতুন প্রয়াত ড: ওয়াজেদ মিয়ার কোনো শোকসভায় সাংবাদিকদের বললেন ( আমি বুঝলাম না, শোকসভায় কেন এ প্রসঙ্গ এলো! যেন ড. ওয়াজেদ মিয়া জঙ্গী আক্রমণে মারা গেছেন!), "আগের সরকার বোমাবাজি ও জঙ্গীবাদের উত্থানের জন্য দায়ী!!" *খালি প্রোডাক্ট ধরা পড়ে। কারখানার মালিক ধরা পড়ে না - সমস্যাটা এখানেও। সমাজ নামের বা একটি সিস্টেম নামের জঙ্গী নামের কারখানা ধ্বংস করার আগেও কারখানার মালিকের গল্টা শোনা জরুরী। সে কেন এই কারখানা দিয়া বসল ? এত টাকা কেন বিনিয়োগ করল ? এইটা কি কেবল ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্যই, নাকি ইসলাম প্রতিষ্ঠার নাম দিয়া অন্য কোন উদ্দেশ্য হাসিল করতে চায় ? *"আমরা মিজানদের তৈরী করবো। অবাধ্য হলে গ্রেফতার করবো। আইনের প্যাঁচ থাকলে বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘ করবো। না থাকলে দ্রুত বিচারে ফাঁসি দিয়ে আপদ বিদায় করবো। নিয়ন্ত্রনহীন হলে ক্রসফায়ারে মারব। একসময় সব ভূলে যাব। নতুন মিজান তৈরী করব। অবাধ্য হলে ............ ......... ... ............. ......... ......... ......... ... ............ ......... ......... ......... ... ............ ......... ......... ... ............ ......... ......... ......... ...... ............ ......... ......... ...... ............ ......... ......... ....." *জঙ্গি কেন তৈরী হয়- এ সম্পর্কে আমাদের একটা ভাসা ভাসা ধারণা আছে। আর বাঙালি জাতি ভাসা জ্ঞানকে গভীর জ্ঞান ভাবে। গোটা দেশ চলছে- ভাসা ভাসা তথ্যের উপর। কে জঙ্গিদের অর্থদাতা?এদের অস্ত্র কোথা থেকে আসে? এদের আশ্রয়দাতা কারা? আগে এদের কারা আশ্রয় দিতো, এখন কারা আশ্রয় দেয়? এদের কোন রাজনৈতিক সমর্থক আছে কিনা? এদের রাজনৈতিক পটভূমি কি? * আমাগো দেশের কোনো হজমা বুদ্ধিজীবি এত সুন্দর করে বলে নাই। আপনি দারুন বলেছেন। আসলেই এ একটা প্রোডাক্ট। একে মেরে ফেললে আরেকটা জন্মাবেই। কিন্তু এইপ্রোডাক্টগুলো এলো কিভাবে এটা কিন্তু আমরা কমবেশী সবাই জানি, কারা করছে তাদের সম্পর্কে আমরা মোটামুটি একটা ধারনা পেয়েছি। কিন্তু এই সমস্যাগুলোর সমাধান কিন্তু আমরা করতে পারছি না শুধু এ কারনেই যে সমস্যা না থাকলে নেতাদের রাজনীতি ব্যাবসা মার খেয়ে যাবে!তাহলে বুঝতেই পারছেন কোনো সরকারই এটা সারাতে চাইবে না, পারবেও না নিজেদের দুস্ট দালালদের কারনে *তবে দু:খের সাথে অনুমিত হচ্ছে যে মিজানের গল্পটা আর আমাদের শোনা হবে না। মিজানের গলায় জঙ্গি খেতাব যারা ঠুকে দেয় তারা তাদের জায়গায় যাতে ঠিক থাকে, তারা যেন ঠিক মতো আরো দুইবার উমরা হজ্জ করতে পারে, হাজি টাইটেল নিয়ে আরো দুইবার এমপিতে দাড়াতে পারে, অমুক পার্টির তমুক হতে পারে সেই ধারাবাহিকতা ঠিক থাকবে যদি মিজানের গল্প আমরা না জানি। * মিজান কেন জঙ্গি হয়ে উঠলো, তার চাইতেও বোধহয় বেশি গুরুত্বপূর্ণ- মিজানদের জঙ্গী বানানোর কারখানার প্রোপাইটর কারা। *"মিজান একটা প্রোডাক্ট। একটা প্রোডাক্ট ধ্বংস করলে, আরেকটি প্রোডাক্ট বাজারে আসতে বেশি সময় লাগবে না। যে সমাজ মিজান বানানোর ফ্যাক্টরি হয়ে উঠছে, সেই সমাজ সংস্কার আগে করুন। " *প্রস্তাবটা ভালই। কিন্তু কে করবে এইসব। বুদ্বিজিবীরা সুশীল। রাজনৈতিক নেতারা আছে ওদের ধান্ধায়।মিডিয়া আছে এই দু গ্রুফের কথা নিয়ে রাত দিন জাবর কাটা। |
May 31, 2009
Please Read, interesting perspective, জঙ্গি মিজানকে না মেরে গল্পটা শুনুন, কাজে আসবে .....................
May 27, 2009
উপকূল জুড়ে হাহাকার
May 17, 2009
Ten truck arms case

একইভাবে সিআইডির আরেকটি দল আবদুর রহিমের ধানমণ্ডির ১৫/এ নম্বর সড়কের ফ্ল্যাটে গিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। পুলিশ জানায়, সকাল হওয়ার আগেই দু'জনকে সিআইডি সদর দফতরে আনা হয়। সিআইডির পক্ষ থেকে বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করা হয়। তবে সকালেই রেজ্জাকুল হায়দারের বাসা থেকে ফোন করে সাংবাদিক এবং বিভিন্ন মহলে গ্রেফতারের বিষয়টি জানিয়ে দেয়া হয়।
চট্টগ্রাম বু্যরো জানায়, শুক্রবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যােিজস্ট্রট আবু হান্নানের আদালতে এনএসআইয়ের সাবেক পরিচালক উইং কমান্ডার (অব.) সাহাবুদ্দিন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদানের পরপর সিআইডির একটি বিশেষ টিম রাতে ঢাকায় রওনা হয়। মামলার আইও মনিরুজ্জামান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন এই টিম ডিএমপি পুলিশের সহায়তায় এনএসআইয়ের দুই সাবেক মহাপরিচালক রেজ্জাকুল হায়দার ও আবদুর রহিমকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর শনিবার বিকালে তাদের নিয়ে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে সিআইডির ওই টিম চট্টগ্রাম রওনা দেয় এবং রাতেই তারা চট্টগ্রাম পেঁৗছে। আজ রোববার সকালে তাদের সিএমএম আদালতে হাজির করে রিমান্ড চাওয়া হবে বলে জানিয়েছে সিআইডি সূত্র।
সূত্র জানিয়েছে, অনেক আগে থেকেই বিভিন্ন আসামির জবানবন্দিতে এই দুই গোয়েন্দা কর্মকর্তার নাম আসে। দশ ট্রাক অস্ত্র চালান আমদানি, খালাস অস্ত্র আটক হওয়ার পর এ ঘটনায় দায়ের করা মামলা ধামাচাপা দিতেও তাদের নানা তৎপরতার কথা উঠে আসে। সিআইডি সম্পূর্ণ নিশ্চিত না হয়ে এতদিন তাদের গ্রেফতার করেনি। সর্বশেষ স্বয়ং এনএসআই পরিচালক উইং কমান্ডার সাহাবুদ্দিন দুই গোয়েন্দা কর্মকর্তার নাম আদালতে ১৬৪ ধারায় প্রদত্ত জবানবন্দিতে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করায় সিআইডি তাদের গ্রেফতারের সিদ্ধান্ত নেয়। টিএফআই সেলে জিজ্ঞাসাবাদে সাহাবুদ্দিন তাদের নাম বলার পর থেকে সিআইডি জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক দুই ডিজি রেজ্জাকুল হায়দার ও আবদুর রহিমের গতিবিধির ওপর নজর রাখে। অবশ্য এর আগেই সিআইডি এই দুই কর্মকর্তাসহ অন্তত ৩০ জনের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা প্রদানের জন্য সরকারকে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করে।
তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর মিলেছে
এনএসআই পরিচালক সাহাবুদ্দিনের প্রদত্ত ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদানের মধ্যদিয়ে দশ ট্রাক অস্ত্র চালান আমদানি ও খালাসের ব্যাপারে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর মিলেছে। যা এতদিন অজানা ছিল। কিংবা কোন কোন প্রশ্নের উত্তর মিললেও এর সত্যতা নিয়ে ছিল সন্দেহ-সংশয়। দশ ট্রাক অস্ত্রের উৎস কোথায় বা কোন দেশে থেকে এসেছিল, এ অস্ত্র চালান আমদানি ও খালাসের হোতা কে বা কারা এবং অস্ত্রগুলো কোথায় যাওয়ার কথা ছিল_ মূলত এ তিনটি প্রধান প্রশ্নের উত্তরই খুঁজে ফিরছিল তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি। সাহাবুদ্দিনের জবানবন্দি প্রদানের মধ্যদিয়ে এ তিনটি প্রশ্নের উত্তর এখন পরিষ্কার। সিআইডির সামনে দশ ট্রাক অস্ত্র মামলা তদন্তের পথ এখন আর পঙ্কিল নয়।
সাহাবুদ্দিন ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে বলেছেন, চীন থেকেই এই অস্ত্র আমদানি করা হয়েছে। এই অস্ত্র যাওয়ার কথা ছিল ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফার (ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসাম) কাছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক পরিচালকের নির্দেশেই তিনি উলফাকে সাহায্যের জন্যই অস্ত্র পরিবহনে ট্রাক ভাড়া করাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহায়তা করেছেন। তিনি বলেছেন, সরকারি কর্মচারী হিসেবে সরকারি আদেশ-নির্দেশ পালন করতে তিনি বাধ্য। এর আগে হোটেল শেরাটনে উলফা নেতাদের সঙ্গে দেশী-বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থা ও দূতাবাসের একাধিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন বলে তিনি জানান। তৎকালীন এনএসআই প্রধান ছাড়াও সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ অন্তত ২০ জনের নাম বলেছেন ১৬৪ ধারায় প্রদত্ত জবানবন্দিতে। সাহাবুদ্দিন দশ ট্রাক অস্ত্র চালান আমদানির সঙ্গে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই জড়িত থাকার কথা শুনেছেন বলে জানান আদালতকে। চট্টগ্রামে অস্ত্র খালাসের দিন অর্থাৎ ২০০৪ সালের ২ এপ্রিল রাতে অস্ত্র খালাস কাজ নির্বিঘ্ন করতেই শিল্প মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব নুরুল আমিনকে চট্টগ্রামে পাঠানো হয় এবং ওই রাতে নুরুল আমিন কর্ণফুলীর দক্ষিণ তীরে সিইউএফএলের রেস্ট হাউসে উপস্থিত ছিলেন।
এ দিকে সিআইডি সূত্র বলেছে, সাহাবুদ্দিনের জবানবন্দি তারা যাচাই-বাছাই করছেন। তার সব কথা যে সত্য তাও তারা ধরে নিতে পারছেন না। কাউকে ইচ্ছাকৃতভাবে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে কিনা সে বিষয়টিও তারা খতিয়ে দেখবেন। সাহাবুদ্দিন অত্যন্ত চতুর লোক হওয়ায় তিনি যতটুক সম্ভব নিজেকে বাঁচিয়ে জবানবন্দি প্রদান করেছেন বলে জানান সিআইডি সূত্র। দশ ট্রাক অস্ত্র পরিবহনের জন্য ট্রাক ভাড়া করা, উলফা নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করাসহ পুরো বিষয়টি তিনি মনিটরিং করলেও নিজেকে বাঁচাতে সাহাবুদ্দিন অস্ত্র খালাসের দিন চিকিৎসার নামে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি হন। রিমান্ডের জন্য দ্বিতীয় দফায় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে উপস্থিত করা হলে সাহাবুদ্দিন জোর গলায় বলেন, ঘটনার দিন তিনি ছিলেন সিএমএইচে। তার পক্ষে কিভাবে দশ ট্রাক অস্ত্র চালান আমদানি বা খালাসের সঙ্গে জড়িত থাকা সম্ভব। প্রথম দফা তিন দিনের রিমান্ডে সাহাবুদ্দিন কোন কিছুই স্বীকার না করে নিজেকে নিরপরাধ বললেও টিএফআই সেলে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দশ ট্রাক অস্ত্র চালান আমদানি ও খালাস রহস্য উন্মোচন করে দেন। সর্বশেষ শুক্রবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আবু হান্নানের আদালতে ১৬৪ ধারায় প্রদত্ত জবানবন্দিতে সব কিছুই অকপটে স্বীকার করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, দশ ট্রাক অস্ত্র চালানের উৎস, গন্তব্য এবং হোতাদের নাম বের হয়ে আসার পর এবার সিআইডি এ অস্ত্র চালান আমদানির জন্য অর্থ জোগানদাতা দেশ বা ব্যক্তি, কোন জাহাজে করে অস্ত্র চালানটি চট্টগ্রাম এসেছিল সে বিষয়টি তদন্ত করবে। এনএসআইয়ের সাবেক দুই প্রধানকে জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্যও বের হয়ে আসবে বলে সিআইডির বিশ্বাস। এর আগে দু'দফায় এ মামলার চার্জশিট প্রদান করা হলেও দশ ট্রাক অস্ত্রের উৎস ও গন্তব্য যেমন অনাবিষ্কৃত রাখা হয় তেমনি অস্ত্র চালান আমদানির হোতাদের চিহ্নিত না করেই বেশিরভাগ নিরীহ লোকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। যে কারণে আদালত তৃতীয় দফা এ মামলা অধিকতর তদন্তের নির্দেশ প্রদানকালে দশ ট্রাক অস্ত্রের উৎস, গন্তব্য আবিষ্কার, মূল হোতাদের চিহ্নিত করাসহ ১৫ পয়েন্টের ওপর গুরুত্ব প্রদানের কথা বলেন। সে অনুযায়ী বর্তমানে তদন্তকাজ চলছে। সর্বশেষ মহানগর দায়রা জজ ভবানী প্রসাদ সিংহ দশ ট্রাক অস্ত্র মামলা তদন্তে সিআইডির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আরও দুই মাস দশ দিন সময় প্রদান করেছেন। আগামী ২২ জুলাইয়ের মধ্যে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন তিনি।
২০০৪ সালের ২ এপ্রিল রাতে কর্ণফুলীর দক্ষিণ তীরে সিইউএফএলের সংরক্ষিত জেটি ঘাট থেকে হাজার কোটি টাকা মূল্যের দশ ট্রাক অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র আটক করা হয়। এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি চোরাচালান মামলা এবং অস্ত্র আইনে অপর একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় যথাক্রমে ৪৩ ও ৪৫ জনকে আসামি করে দু'দফায় চার্জশিট প্রদান করা হয়। ২০০৬ সালের ১৭ জানুয়ারি মহানগর দায়রা জজ আদালতে এ দু'টি মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। সাক্ষ্য গ্রহণ মাঝপথে বন্ধ করে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার দশ ট্রাক অস্ত্র আটক মামলা অধিকতর তদন্তের উদ্যোগ নেন। এর অংশ হিসেবেই বর্তমান আইও সিআইডি চট্টগ্রাম জোনের এএসপি মনিরুজ্জামান চৌধুরী পঞ্চম তদন্তকারী কর্মকর্তা দশ ট্রাক অস্ত্র মামলা তদন্তের দায়িত্ব পান।
Barisal Chatraleag-Juboleag

বরিশালে হার্ট ফাউন্ডেশনের কমিটি গঠন নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে পুলিশের এক সহকারী কমিশনারকে মারধরসহ ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ। শনিবার বেলা ১১টায় এ ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশ এবং সাংবাদিকসহ ১০ জন আহত হয়। ফাউন্ডেশনের পুরনো কমিটির আহ্বায়ক বিএনপি দলীয় সাংসদ মজিবর রহমান সরোয়ার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তাদের কমিটিকে বৈধ বলে দাবি করলেও আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ বলছেন, অনিয়মতান্ত্রিকভাবে বিএনপির কমিটি গঠন প্রক্রিয়া প্রতিহত করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন একটি কমিটিও ঘোষণা করেছেন তারা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে ফাউন্ডেশন কার্যালয়ে শুরু হয় হার্ট ফাউন্ডেশনের ৪র্থ দ্বিবার্ষিক সাধারণ সভা। সভায় পুরনো কমিটির আহ্বায়ক বিএনপি দলীয় সাংসদ মজিবর রহমান সরোয়ার, সদস্য সচিব মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক সামসুদ্দিন আহম্মেদ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম রাজনসহ বেশ কয়েকজন বিএনপি নেতা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত লোকজনকে বাদ রেখে আগের কমিটিই ঘোষণা হতে যাচ্ছে খবরে সেখানে হাজির হয় মহানগর ছাত্রলীগ ও যুবলীগের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী। এ নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে সভা মুলতবি করার ঘোষণা দেন কোতোয়ালি মডেল থানার এসি হায়াতুল ইসলাম। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সহকারী পুলিশ কমিশনার হায়াতুল ইসলামকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে সভাস্থলে উপস্থিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগ কমর্ীরা। তাকে রক্ষায় এগিয়ে এলে অন্য পুলিশ সদস্যদের ওপরও চড়াও হয় তারা। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে নিরাপদে ওই স্থান ত্যাগ করেন সাংসদ সরোয়ারসহ বিএনপি নেতারা। এক পর্যায়ে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকমর্ীর হাতে রক্তাক্ত জখম হন ফাউন্ডেশনের পুরনো কমিটির সদস্য সচিব সামসুদ্দিন আহম্মেদ। ফাউন্ডেশন কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুরও করে তারা। হামলা-ভাংচুরের ছবি তোলার সময় মারধরে আহত করা হয় বরিশাল থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজকের বার্তা ও সত্য সংবাদ পত্রিকার দুই ফটো সাংবাদিক এম জহির এবং মোফাজ্জেলকে। এদের মধ্যে এম জহিরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদশর্ীরা জানান, বিএনপি নেতারা ওই স্থান ত্যাগ করার পর সরকারি কেঁৗসুলি অ্যাডভোকেট কেবিএস আহম্মদ কবির পুরনো কমিটি ভেঙে দিয়ে সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শওকত হোসেন হিরনকে আহ্বায়ক এবং নিজেকে সদস্য সচিব করে ৩১ সদস্যের নতুন কমিটি ঘোষণা করেন। এ ব্যাপারে আলাপকালে পুরনো কমিটির আহ্বায়ক সাংসদ মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, নিয়মতান্ত্রিকভাবেই সভা চলছিল। নতুন কমিটি গঠনের জন্য মাত্র একটি প্যানেল জমা পড়ে। আওয়ামী লীগ থেকে কোন কমিটি জমা দেয়া হয়নি। সভা চলার এক পর্যায়ে এসি হায়াতুল ইসলাম শান্তি-শৃংখলা ভঙ্গের আশংকা করে সভা মুলতবির ঘোষণা দিলে বিশৃংখলার সৃষ্টি হয়। তিনি সদস্য সচিব সামসুদ্দিন আহম্মেদকে রক্তাক্ত জখম করার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। এদিকে বিশৃংখলা সৃষ্টির অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগ নেতা কেবিএস আহম্মেদ কবির জানান, ফাউন্ডেশনের গঠনতন্ত্র সংশোধনের জন্য আগে সংশোধনী দেয়া হলেও তা গ্রহণ না করে সম্পূর্ণ অনিয়মতান্ত্রিকভাবে সভার কার্যক্রম পরিচালনা করায় কমিটির বেশ কয়েকজন সদস্য তার প্রতিবাদ জানায়। পরে নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় সংশোধনী প্রস্তাব গৃহীত ও পাস এবং মেয়র হিরনকে চেয়ারম্যান ও কেবিএস আহমেদ কবিরকে মহাসচিব করে ৪১ সদস্যের নির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়। সভায় উপস্থিত সব সদস্য ওই কমিটি অনুমোদন করেছেন। ঘটনার সময় ফাউন্ডেশন কার্যালয়ে উপস্থিত মহানগর ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ইমরুল আহম্মেদ উজ্জ্বল বলেন, বিশৃংখল কোন ঘটনার সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকমর্ীরা জড়িত ছিল না। কোতোয়ালি মডেল থানার এসি হায়াতুল ইসলাম জানান, পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে সভা মুলতবি রাখার ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। ঘটনার সময় পুলিশের কোন সদস্য লাঞ্ছিত হওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন তিনি।
May 11, 2009
Wajed Mia
অন্তিম শয়ানে ওয়াজেদ মিয়া
লাখো মানুষের শ্রদ্ধা আর ভালবাসায় সিক্ত হয়ে রংপুরের পীরগঞ্জে নিজ গ্রামে বাব-মা'র কবরের পাশে অনত্দিম শয়ানে শায়িত হয়েছেন বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী ড. এম ওয়াজেদ মিয়া। গতকাল রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ, পীরগঞ্জ হাইস্কুল মাঠ ও ফতেহপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে সমাহিত করা হয় ফতেপুরের পারিবারিক কবরস্থানে। প্রতিটি জানাজাতেই হাজারো অশ্রম্নসিক্ত মানুষের ঢল নামে। সৃষ্টি হয় বেদনাবিধুর শোকাবহ পরিবেশ। সর্বসত্দরের মানুষ বিদায় জানান বরেণ্য নিভৃতচারী এ বিজ্ঞানীকে। শোকে সত্দব্ধ হয়ে পড়ে পীরগঞ্জ। আগামী বৃহস্পতিবার বাদ আসর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবনে মরহুমের কুলখানি অনুষ্ঠিত হবে। লাশ দাফনের পর গতকাল পৌনে চারটার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে স্বামীর কবর জিয়ারত করেন। তবে মরহুমের পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ফ্লাইট ধরতে না পারায় ও কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল অসুস্থ অবস্থায় দেশের বাইরে থাকায় পিতার লাশ দেখতে পারেননি। গতকাল সকালে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে প্রথম জানাজার পর মরহুমের লাশ বিমানবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে করে তার জন্মস্থান পীরগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে আরেকটি হেলিকপ্টারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা ও চাচাতো ভাই শেখ হেলাল পীরগঞ্জে যান। সাবেক প্রেসিডেন্ট এইচ এম এরশাদ ও জাতীয় পার্টির নেতা রহুল আমীন হাওলাদারও একটি হেলিকপ্টার নিয়ে পীরগঞ্জ যান। পীরগঞ্জ হাই স্কুল মাঠে দুপুরে মরহুমের জানাজার আগে ওয়াজেদ মিয়ার কফিন রাষ্ট্রীয় পতাকা দিয়ে ঢেকে দেয়া হয় এবং তাকে গার্ড অব অনার দেয়া হয়। এরপর ফতেপুর লালদীঘি ফায়ার ব্রিগেড মাঠে নিয়ে যাওয়া হয় ড. ওয়াজেদের লাশ। বিকাল তিনটার দিকে সেখানে তৃতীয় নামাজে জানাজা শেষে চিরশয়ানে শায়িত করা হয় ড. ওয়াজেদ মিয়াকে। শেষ জানাজার আগে ফতেপুর মাঠে মরহুমের ভাগ্নে শামীম, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আমীর হোসেন আমু, মরহুমের বেয়াই প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ বক্তব্য রাখেন।
শোকে স্তব্ধ পীরগঞ্জ
গতকাল রোববার বাদ জোহর রংপুরের পীরগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে দ্বিতীয় জানাজা ও তৃতীয়বারের মতো জানাজা শেষে ফতেহপুর পারিবারিক কবরস্থানে তার পিতা আবদুল কাদের মিয়া, মা ময়জান নেছা, বড় ভাই আবদুল জলিল ও আবদুল ওয়াহেদ কানু মিয়ার কবরের পাশে ড. ওয়াজেদের লাশ দাফন করা হয়। রংপুরের কৃতী সনত্দান পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়া শনিবার বিকালে মৃতু্যর পর রংপুরে সর্বত্রই শোকের ছায়া নেমে আসে। গতকাল সকাল থেকে তার জন্মস্থান জেলার পীরগঞ্জে নীরব ও শোকের মাতম দেখা দেয়। গোটা এলাকার দোকানপাট, স্কুল-কলেজ, অফিসসহ ব্যাংক-বীমার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। উত্তরাঞ্চলের আওয়ামী লীগের ও বিভিন্ন দলের নেতাকমর্ী শুভাকাঙ্ক্ষী হাজার হাজার মানুষ শেষবারের মতো এক নজর দেখার প্রতীৰায় তার গ্রামের বাড়িতে ভিড় জমান। এক সময় এলাকা লোকারণ্য হয়ে পড়ে। হাজার হাজার মানুষের ঢল, চারপাশে আহাজারি, কান্নার রোল সব মিলে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। প্রিয় মানুষের দেখার প্রতীৰায় থাকা মানুষজনের এক সময় অপেৰার পালা শেষ হয়। হেলিকপ্টারযোগে তার লাশ ঢাকা থেকে পীরগঞ্জে আনা হয়। এ সময় তার স্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, মোশাররফ হোসেন, আমির হোসেন আমু, জাহাঙ্গীর কবীর নানক, আবুল কালাম আজাদসহ মন্ত্রী, এমপি ও দলীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন থেকে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়।
জানাজায় সর্বসত্দরের মানুষের ঢল
বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়াকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে গতকাল সকাল থেকেই সর্বসত্দরের মানুষের ঢল নামে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম এবং এর আশপাশের এলাকায়। লাখো মানুষ অংশ নেন জানাজায়। প্রেসিডেন্ট, তিন বাহিনীর প্রধানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রধান ও সরকারের বিভিন্ন বিভাগের প্রধানরা শেষ শ্রদ্ধা জানান ড. ওয়াজেদ মিয়াকে। সকাল ১০টা ২২ মিনিটে আলিফ মেডিকেল সার্ভিসের একটি এম্বুলেন্স ওয়াজেদ মিয়ার লাশ নিয়ে স্কয়ার হাসপাতাল থেকে রওনা দেয়। কাজী নজরম্নল ইসলাম এভিনিউ, রমনা, কাকরাইল বিজয়নগর ও দৈনিক বাংলা মোড় হয়ে সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে ওয়াজেদ মিয়ার মরদেহ পেঁৗছে বায়তুল মোকাররমের পশ্চিম গেটে। এর আগেই বায়তুল মোকাররমের ভেতর ও আশপাশের এলাকা লোকারণ্য হয়ে পড়ে। রাসত্দায় সারি বেঁধে জানাজার জন্য অপেৰা করতে থাকেন হাজার হাজার মানুষ। ১০টা ২৯ মিনিটে জাতীয় মসজিদে যান প্রেসিডেন্ট মো. জিলস্নুর রহমান। জানাজার আগেই মসজিদের মাইকে তেলাওয়াত ও বিশেষ মোনাজাত করা হয়। সকাল ১০টা ৪৮ মিনিটে শুরম্ন হয় জানাজা। জানাজায় ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদের খতিব মাওলানা মুহাম্মদ সালাহউদ্দিন। জানাজায় প্রেসিডেন্ট মো. জিলস্নুর রহমান, ওয়াজেদ মিয়ার বড় ভাই আবদুল খালেক মিয়া, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি হাবিবুর রহমান, সাবেক প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, জাতীয় সংসদের স্পিকার এডভোকেট আবদুল হামিদ, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল, মুখপাত্র সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, বিএনপি'র মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন, এলডিপি'র সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, বিএনপি'র সহ-সভাপতি এমকে আনোয়ার, তরিকুল ইসলাম, নজরম্নল ইসলাম খান, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী, জাতীয় পার্টির (মঞ্জু) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শেখ শহিদুল ইসলাম, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের ভাইস চেয়ারম্যান কেএম শফিউলস্নাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আআমস আরেফিন সিদ্দিক, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মুফতি ফজলুল হক আমিনী এবং এফবিসিসিআই'র সভাপতি আনিসুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া তিন বাহিনীর প্রধান ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা জানাজায় অংশ নেন। জানাজা শেষে প্রেসিডেন্ট, তিন বাহিনীর প্রধান ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা ড. ওয়াজেদ মিয়ার কফিনে ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান। এ সময় সরকারের বিভিন্ন বিভাগের প্রধান ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের পৰেও ড. ওয়াজেদ মিয়াকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। সর্বসত্দরের মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য বায়তুল মোকাররমের দৰিণ পস্নাজায় লাশ রাখা হয় প্রায় ২৫ মিনিটের মতো। ১১টা ১০ মিনিটে লাশ নিয়ে রওনা দেয়া হয় তেজগাঁও পুরাতন বিমান বন্দরের উদ্দেশে। ১১টা ৩০ মিনিটে লাশ নিয়ে যাওয়া হয় সেখানে। বেলা পৌনে ১২টায় হেলিকপ্টারে করে লাশ নিয়ে রওনা দেয়া হয় রংপুরের পীরগঞ্জের উদ্দেশে। এর আগে সকাল ১১টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হেলিকপ্টারযোগে রংপুর যান। ড. ওয়াজেদ মিয়ার লাশের সঙ্গে অন্য একটি হেলিকপ্টারযোগে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, মহাসচিব রম্নহুল আমিন হাওলাদার ও সংসদ সদস্য শেখ হেলালসহ আরও ১০ জন রংপুর যান।
দীর্ঘ মোনাজাত: সকাল ১০টায় ড. ওয়াজেদ মিয়ার নামাজে জানাজা হওয়ার কথা থাকায় ১০টার আগেই জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম ও আশপাশের রাসত্দা লোকারণ্য হয়ে পড়ে। জানাজায় অংশ নেয়ার সুবিধার্থে দৈনিক বাংলা ও পল্টন মোড় পর্যনত্দ মাইক লাগিয়ে তেলাওয়াত ও মোনাজাত করে ড. ওয়াজেদ মিয়ার মাগফিরাত কামনা করা হয়। জাতীয় মসজিদের খতিব জানাজার আগেই মুসলিস্নদের নিয়ে দীর্ঘ মোনাজাত করেন।
মানুষের ঢল: সকাল থেকে জানাজায় অংশ নিতে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে বায়তুল মোকাররামে লোকজন আসতে থাকেন। জানাজার জন্য মসজিদের দৰিণ পস্নাজার পুরোটা প্রস্তুত ছিল আগে থেকেই। এছাড়া মসজিদের মূল অংশ, বর্ধিত অংশ, উত্তর গেটের রাসত্দা ও পশ্চিমের রাসত্দায় দাঁড়িয়েও হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে ড. ওয়াজেদ মিয়াকে একনজর দেখতে তার সহকমর্ী ও শুভানুধ্যায়ীরা ভিড় জমান লাশের পাশে। এ সময় এক আবেগময় দৃশ্যের অবতারণা হয়। অনেকে স্মৃতিচারণ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
বাবাকে দেখা হলো না জয়ের : বাবা ড. ওয়াজেদ মিয়াকে শেষ দেখা দেখতে পারলেন না পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। গতকাল ভোরে তার দেশে আসার কথা থাকলেও বিমানের সিডিউল ভঙ্গ হওয়ায় তিনি নির্ধারিত সময়ে দেশে ফিরতে পারেননি। সকালে স্কয়ার হাসপাতালে তার যাওয়ার কথা থাকায় সকাল থেকে সেখানে ভিড় করেন ওয়াজেদ মিয়ার আত্মীয়স্বজনরা। সেখানে যান আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকমর্ীরাও। জয় আসার কথা থাকলেও জানাজার আগেই নিশ্চিত হয়ে যায় যে তিনি জানাজায় অংশ নিতে পারছেন না। জয়ের দেশে ফেরার বিষয়ে গতকাল আওয়ামী লীগের মুখপাত্র সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, সোমবার সকালে তিনি দেশে ফিরতে পারেন।
'যমুনা'য় শোকবই: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়ার মৃতু্যতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে শোকবই খোলা হয়েছে। গতকাল শোকবইতে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা স্বাৰর করেন। গতকাল সকাল থেকে 'যমুনা'য় এ শোকবই খোলা হয়। ওদিকে সর্বসাধারণের শোক প্রকাশের জন্য শনিবার রাতেই সুধাসদনেও একটি শোকবই খোলা হয়। এখানে গতকাল বিকাল পর্যনত্দ সর্বসত্দরের সাধারণ ও দলীয় নেতাকমর্ী শোকবইয়ে স্বাৰর করেন।
বৃহস্পতিবার কুলখানি: ড. ওয়াজেদ মিয়ার কুলখানি আগামী বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে অনুষ্ঠিত হবে। জানাজার আগে জাতীয় মসজিদের খতিব প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের পৰ থেকে এ কুলখানি অনুষ্ঠানে সংশিস্নষ্টদের অংশ নেয়ার জন্য অনুরোধ করেন।
মনমোহনের ফোন
জারদারি, গিলানি, প্রণবের শোকবার্তা
বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী ড. এম ওয়াজেদ মিয়ার মৃতু্যতে সহমর্মিতা জানাতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। তিনি প্রধানমন্ত্রী ও তার শোকসনত্দপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং ড. ওয়াজেদের বিদেহী আত্মার শানত্দি কামনা করেন। এছাড়া আলাদা বার্তায় গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন পাকিসত্দানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি, প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি, তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী রেসেপ তাইয়েপ এরডোগান ও ভারতের বিদেশমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি। এদিকে বিদেশী কূটনীতিকদের শোক প্রকাশের জন্য গতকাল প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন 'যমুনা'য় শোকবই খোলা হয়েছে। ঢাকার ৪২টি দেশের রাষ্ট্রদূত ও মিশনপ্রধানরা গতকাল এ বইয়ে নিজ দেশের পৰে শোক ও সমবেদনা জানান। এদের মধ্যে ছিলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টি, জার্মান রাষ্ট্রদূত ফ্রাংক মেইকি, ভারতের হাইকমিশনার পিনাকরঞ্জন চক্রবর্তী, পাকিসত্দানের হাইকমিশনার আলমগীর বাবর, সৌদি রাষ্ট্র্রদূত ড. আবদুলস্নাহ আল নাসের আল বুসাইরি, কানাডার হাইকমিশনার রবার্ট ম্যাকডুভাল ও শ্র্রীলংকার হাইকমিশনার ভেদিবাল কৃষ্ণমূর্তি।
আওয়ামী লীগের ৩ দিনের শোক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম. ওয়াজেদ মিয়ার মৃতু্যতে তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ। গতকাল বিকালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন 'যমুনা'য় দলের জরম্নরি কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় এ সিদ্ধানত্দ নেয়া হয়। বিকাল সাড়ে চারটায় সংসদে উপনেতা ও দলের সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভা শুরম্ন হয়। সন্ধ্যা পৌনে ছয়টা পর্যনত্দ এ সভা চলে। সভা চলাকালেই প্রধানমন্ত্রী তার স্বামীর দাফন শেষ করে রংপুরের পীরগঞ্জ থেকে ফিরে আসেন। তিনি বিকাল সাড়ে পাঁচটায় 'যমুনা'য় ফেরেন। সভা শেষে দলের মুখপাত্র সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রীর স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়ার মৃতু্যতে আওয়ামী লীগ তিন দিনের শোক পালনের সিদ্ধানত্দ নিয়েছে। তিনি বলেন, ১১ই মে থেকে ১৩ই মে এসব কর্মসূচি পালিত হবে। এর মধ্যে আজ সারাদেশে দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত এবং কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং নেতাকমর্ীরা কালো ব্যাজ ধারণ করবেন। বঙ্গবন্ধু এভিনিউর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বিকালে মিলাদ মাহফিল ও দোয়ার আয়োজন করা হবে। ১২ই মে সারা দেশে মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডায় ড. ওয়াজেদে মিয়ার আত্মার শানত্দি কামনা করে প্রার্থনার আয়োজন করা হবে। ১৩ই মে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিকাল তিনটায় ড. ওয়াজেদ মিয়ার স্মরণে নাগরিক শোকসভার আয়োজন করবে। এছাড়া ১৪ই মে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন 'যমুনা'য় বিকালে পারিবারিকভাবে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হবে। কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তোফায়েল আহমেদ এমপি, সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল এমপি, সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত এমপি, মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মুকুল বোস, আবদুল মান্নান এমপি, মাহমুদুর রহমান মান্না, আখতারম্নজ্জামান, আবদুর রহমান এমপি প্রমুখ।
ঢাবিতে মিলাদ মাহফিল
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রয়াত স্বামী বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম ওয়াজেদ মিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে গতকাল মিলাদ মাহফিল ও দোয়া হয়েছে। বাদ আছর এ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আআমস আরেফিন সিদ্দিক, প্রো-ভিসি অধ্যাপক হারম্নন অর রশিদ, কোষাধ্যৰ অধ্যাপক মীজানুর রহমান, কলা অনুষদের ডীন ও শিৰক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক সদরম্নল আমিন, শিৰক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক খন্দকার বজলুল হক, সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) ও যুবলীগের প্রচার সম্পাদক অধ্যাপক এমরান কবির, প্রক্টর অধ্যাপক কেএম সাইফুল ইসলাম খান, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন, সহ-সভাপতি গোলাম সারোয়ার কবির, হাসানুজ্জামান লিটন, আবু আব্বাস ভূঁইয়া, আবদুলস্নাহ আল মামুন, আহসান উলস্নাহ বাশার, বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি শেখ সোহেল রানা টিপুসহ কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ছাত্রলীগ এ মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে।
ওদিকে পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়ার মৃতু্যতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করেছে। তারা এ উপলৰে গতকাল দেয়া বিবৃতিতে বলেন, জাতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ সনত্দানের মৃতু্যতে আমরা শোকাহত। তারা মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। যেসব সংগঠন শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছে_ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ঢাকা, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শিৰক সমিতি, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি, আ.স.ম আবদুর রব, জাতীয় পার্টি (জেপি), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জাসদ, বাংলাদেশের বিপস্নবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল, ঢাকা চেম্বার্স অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই), বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ সমিতি, কোর্ট রিপোটর্ার্স এসোসিয়েশন, অগ্রণী ব্যাংক এমপস্নয়িজ ইউনিয়ন, এসএ পরিবহন, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ শিৰক কর্মচারী ঐক্যপরিষদ, ইসলামী সমাজ, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ, স্বাধীনতা মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পরিষদ, স্বাধীনতা ফোরাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় শিৰক সমিতি, পিডবিস্নউডি ডিপেস্নামা প্রকৌশলী পরিষদ, বাংলাদেশ ইন্সু্যরেন্স এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন, সিলেট বিভাগ উন্নয়ন পরিষদ প্রমুখ।
সংসদীয় কমিটির বৈঠক মুলতবি
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী ও বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী এম ওয়াজেদ মিয়ার মৃতু্যতে গতকাল পাঁচটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক মুলতবি করা হয়। সংসদ সচিবালয় জানায়, কমিটিগুলোর মধ্যে রয়েছে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বিষয়ক স্থায়ী কমিটি, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় বিষয়ক স্থায়ী কমিটি, ধর্ম মন্ত্রণালয় বিষয়ক স্থায়ী কমিটি, সরকারি অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি ও ভূমি মন্ত্রণালয় বিষয়ক স্থায়ী কমিটি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই কমিটির বৈঠকের তারিখ নির্ধারণ করা হবে।

হবেনা মনে হয়। হ্যাঁ, এই বুদ্ধিজীবীরা একটা সমস্যা বটে ..