June 16, 2009

সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নিলেন জেনারেল মুবীন

নতুন সেনাপ্রধান জেনারেল মোহাম্মদ আব্দুল মুবীন (এনডিসি, পিএসসি) সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। সেনা সদর দপ্তরে দায়িত্বভার গ্রহণ অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান জেনারেল আব্দুল মুবীন কমান্ড গ্রহণ বইতে স্বাক্ষর করেন। বিদায়ী সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কমান্ড গ্রহণ করেন তিনি। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার পর সেনাপ্রধান মুবীন প্রধানমন্ত্রী (প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর দায়িত্বও) শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন। আইএসপিআরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার এডমিরাল জেড ইউ আহমেদ ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল এস এম জিয়াউর রহমানের উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনী প্রধান আব্দুল মুবীনকে জেনারেল-এর রেংক ব্যাজ পরিয়ে দেন। প্রতিরক্ষা সচিব কামরুল হাসানসহ পদস্থ সামরিক কর্মকর্তারা ওই সময় উপস্থিত ছিলেন। সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল আব্দুল মুবীনকে গত ৭ জুন সরকার সেনাপ্রধান নিয়োগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। আব্দুল মুবীন যশোর এবং চট্টগ্রামের জিওসি ছিলেন। পরে তাকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় বদলি করে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার নিয়োগ করা হয়। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুর্নীতি দমন সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন লে. জেনারেল মুবীন। তিনি ১৯৭৬ সালের ৩০ নভেম্বর বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি থেকে কমিশন লাভ করেন। বিদায়ী সেনাপ্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদ সোমবার শিখা অনির্বাণে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন। তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শাহাদাৎ বরণকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন। সেনাকুঞ্জে সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। এরপর সেনাসদরে সেনাবাহিনীর ঐতিহ্য অনুযায়ী সাঁজোয়া যানে স্ট্রিট লাইনিং এর মাধ্যমে মইনকে বিদায় জানানো হয়।

June 13, 2009

কালো টাকা সাদা আমি নৈতিকভাবে সমর্থন করি না, কিন্তু রাজনীতি হচ্ছে আর্ট অব কমপ্রোমাইজ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শক্ত বিরোধিতা সত্ত্বেও তিন বছরের জন্য বিনিয়োগের মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করার সুযোগকে কমপ্রোমাইজ (সমঝোতা) বলে স্বীকার করে নিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেছেন, পলিটিক্স ইজ দ্য হাইয়েস্ট আর্ট অব কমপ্রোমাইজ। রাজনীতি হচ্ছে সমঝোতার সর্বোচ্চ শিল্প। আমি নৈতিকভাবে কালো টাকা সাদা করাকে সমর্থন করি না। তবে ধারাবাহিকতাকে মেনে নিতেই হবে। তাছাড়া অভিজ্ঞতাকে আপনি এড়াতে পারবেন না। বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী সোজা-সাপটা ভাষায় বাজেট ফাঁস নিয়ে অভিযোগের দায়ও নিজের কাঁধে নিয়েছেন। তবে বলেছেন, কাউকে সুবিধা দেয়ার জন্য কিছু করিনি। বৃহস্পতিবার সংসদে বাজেট বক্তৃতার পর গতকাল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের পরিষদের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে বেশ ক'জন মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাদের পাশে নিয়ে অর্থমন্ত্রী আবারও স্বীকার করে নেন, বাজেট প্রণয়নের চেয়ে বর্তমান সরকারের কাছে এর বাস্তবায়নই হচ্ছে বড় চ্যালেঞ্জ। বাজেট বক্তৃতায় বেশ কিছু লিখিত প্রমাদের কথাও সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে স্বীকার করে নেন তিনি। বর্তমান বাজেটকে উচ্চাভিলাষী বলে সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, উচ্চাভিলাষী বলেই বাস্তবায়ন ভাল হতে পারে। তিনি গত অর্থবছরের বাজেটের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ওই বাজেট উচ্চাভিলাষী ছিল বলেই আমরা তা থেকে অনেক ভাল ফসল পেয়েছি। বাজেট পেশের পর প্রথামাফিক সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী বাজেট ঘাটতি জিডিপি'র পাঁচ ভাগ হওয়াকে বড় কিছু নয় বলেও দাবি করেন। তিনি বলেন, গত দশকে প্রতি বাজেটে ঘাটতি ছিল ছয় ভাগ। প্রতিবেশী দেশে এটি সাত ভাগ। পাকিস্তানে এ ঘাটতি ১০/১৫ ভাগ। তিনি বর্তমান বাজেটকে কৃষিবান্ধব উল্লেখ করে বলেন, বরাদ্দের হিসাবে এটি খুব বেশি বাড়েনি। তবে খাদ্য পণ্যের দাম কমে যাওয়ায় এটির আকার বেড়েছে। মঞ্চে উপস্থিত কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীও তার এ কথা সমর্থন করেন। বাজেট বাসত্দবায়ন নিয়ে ব্যর্থতার জবাবদিহি নিয়ে সীমাবদ্ধতার কথাও স্বীকার করে নেন আবুল মাল আবদুল মুহিত। এ নিয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আইন করার পরামর্শ বিবেচনার দাবি রাখে বলেও জানান। অর্থনৈতিক জবাবদিহি সংসদে নতুন একটি আইনের প্রস্তাব বিবেচনাধীন আছে বলেও জানান। তবে ওই আইন নিয়ে বাজেট বাস্তবায়ন কতখানি নিশ্চিত করা যাবে তা নিয়ে তার সংশয়ের কথাও লুকাননি তিনি। বাস্তবায়নটা আমাদের বড় সমস্যা স্বীকার করেই তিনি বলেন, আমাদের টার্গেট পুরো বাস্তবায়ন। তবে ৯০ ভাগের বেশি বাস্তবায়ন করবোই। আমরা দক্ষিণ কোরিয়ার উদাহরণ মাথায় রাখতে পারি। তিনি বলেন, আহরণ করা কঠিন নয়। ব্যয় বাস্তবায়ন করাই কঠিন। শুধু রাজস্ব ব্যয় নয়, সব ধরনের ব্যয়। তিনি বলেন, বাজেট বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা দরকার। রাজনীতিবিদ, সংসদ, স্থানীয় সরকার, প্রশাসন সবাইকে এক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে হবে। সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন জনগণের সম্পৃক্ততা। তিনি উন্নয়ন কর্মসূচি ব্যয় নিয়ে পাঁচটি উপায়ের কথাও বলেন। এ নিয়ে ৩০শে জুনের পর কাজ শুরু করার ঘোষণাও দেন তিনি। তিনি মন্ত্রণালয় ভিত্তিক বাজেট বাস্তবায়নের উপরেও জোর দেন। বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ায় এক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়গুলো স্বায়ত্তশাসন দেয়া হয়। আমরাও সে রকম করা যায় কিনা ভেবে দেখছি। অর্থমন্ত্রী বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে বাজেট পেশ প্রসঙ্গে বলেন, সংসদে বিরোধী দলের অনুপস্থিতি এখন অনেকটা সংস্কৃতিকে পরিণত হয়েছে। এটা আমাদের দিন বদলের ঘোষণার সঙ্গে মেলে না। তিনি বলেন, অনেক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গত সংসদের স্পিকার ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারের নাম উল্লেখ করে বলেন, একদিনের বাদশাহ হয়ে তিনি এ সমস্যা তৈরি করেছেন। উনিই সব অনর্থের মূল। আমরা গত সংসদে ৬২ সিটের হিসাবে আমাদের প্রথম সারিতে ৬টা সিট দিয়েছিল। আমরা ওই তুলনায় অনেক বেশি ৫টি দিয়েছি। তিনি বলেন, তাদের অনুপস্থিতিতে দেশে অস্থিতিশীলতার কোন ইঙ্গিত নেই। তবে তারা সংসদে এলে ভাল হতো। তাদের অবস্থানটা এত কঠিন না হলে ভাল হতো। বাজেট পেশ করার আগে তাদের সঙ্গে আলোচনা করার ইচ্ছা ছিল।
ফাঁস আমার জন্য হয়েছে - বাজেট ফাঁসকে প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে তুলনা করে অর্থমন্ত্রীকে জড়িয়ে প্রশ্ন করা হলে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটা আমার জন্যই হয়েছে। কিছু কিছু নীতি ফিডব্যাক পাওয়ার জন্যই আমি বলেছি। অনেক সময় মিডিয়ার চাপের মুখে বলেছি। যেমন বিলাসবহুল দ্রব্য, স্বাস্থ্যহানিকর পণ্যের কর বাড়ানোর কথা বলেছি। ব্যবসায়ীরা ওই ইঙ্গিত পেয়ে সুযোগ নিয়েছে। তবে কারও সঙ্গে গোপন সমঝোতার কথা ঠিক নয়। গত ১০ দিনে আমি বাইরের কোন ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করিনি। এ ব্যাপারে আমি কঠোর গোপনীয়তা রাখার চেষ্টা করেছি। তবে দুঃশাসন কি পর্যায়ে গেছে, তার একটি উদাহরণ দেই। ৮ তারিখে আমি আমার সচিবকে একটি নোট দিয়েছিলাম। ১৫ দিন পর ওই নোটের সব কথা বেরিয়ে যায়। এই নিয়ে আমি তদন্ত করে দেখি পিয়নরা এসব গোপনীয় নোট বিক্রি করেন। এর সংস্কার কিভাবে করবো সেটা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করছি। ভবিষ্যতে বাজেট তৈরিতে একটি দল গঠনের কথা ভাবছি। যাদের কাছে মিডিয়া বা আপনাদের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রিত থাকবে।
সাধারণ মানুষের ওপর করের বোঝা বাড়ানো হয়নি - অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, সম্পদ আহরণের হিসেবে বর্তমান বাজেটে শুল্ক কর বাড়ছে না। এ বাজেটে দেশীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। যাতে তারা বৈশ্বিক মন্দার মধ্যে টিকে থাকতে পারে। আর প্রত্যক্ষ কর বাড়ানো হয়েছে। ধনী গাড়িওয়ালা ব্যবসায়ীদের বিলাসদ্রব্য বাড়ানো হয়েছে মূল্যসংযোজন কর। সাধারণ মানুষের ওপর কোন করের বোঝা চাপানো হয়নি। আমি আত্মবিশ্বাসী এবারের বাজেট থেকে রাজস্ব আয়ের টার্গেট পূরণ করা সম্ভব হবে। তিনি সিপিডি'র এক বিশ্লেষণের জবাবে বলেন, আমরা সাধারণত বিনিয়োগ প্রক্ষেপণ করি একটি। সেটি হলো নিম্নতম। তবে তিন ধরনের প্রক্ষেপণ হওয়া উচিত। উচ্চতম, মাঝারি ও নিম্নতম। সামনের বছর থেকে আমরা দু'টি প্রক্ষেপণ দেয়ার চেষ্টা করবো। তিনি বর্তমান বাজেট উচ্চাভিলাষীর বদলে বাস্তবসম্মত বলে সিপিডি'র বিশ্লেষণকে স্বাগত জানান। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি বাজেট বক্তব্যে মুদ্রাস্ফীতির হার ৬ দশমিক ৫ থেকে ৬ দশমিক ৬ উল্ল্লেখ করেছি। কারণ বৈশ্বিক মন্দার মধ্যে আমাদের বছরে প্রথম অংশটা ভাল কাটলেও পরের অংশটা কেমন কাটবে তা অনিশ্চিত। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী বছরের শুরুতে বৈশ্বিক মন্দার প্রভাব কাটলে অবস্থা আরও ভাল হবে। তিনি ছয় মাসে একবার আর্থিক বিবৃতি দেয়ার কথাও জানান। জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী ও তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ। এছাড়াও সম্মেলন স্থলে উপস্থিত ছিলেন নুরুল ইসলাম নাহিদ, বাণিজ্যমন্ত্রী কর্নেল (অব.) ফারুক খান, স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ.ফ.ম রুহুল হক, যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, তৌফিক এলাহী চৌধুরী ও ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী।

June 6, 2009

ভুল সবই ভুল

বিরোধী নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ঘটনাচক্রে এসেছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে। ক্ষমতার সিংহাসনে বসেছেন তিনবার। মাঝখানে জেলও খেটেছেন দুর্নীতির অভিযোগ মাথায় নিয়ে। পরে অবশ্য দুদক বলেছে, ব্যক্তিগত দুনর্ীতির খতিয়ান তারা পায়নি। তবে দলের নেতারা দুর্নীতিতে ডুবে ছিলেন এটা আর কোন ঘটনা নয়। তদারকি সরকার দুর্নীতির অভিযোগে তার দলকে নাস্তানাবুদ করে ছেড়েছে। ওয়ান ইলেভেন বিএনপি জমানার সীমাহীন দুর্নীতি আর অপশাসনের কারণে এসেছিল তা-ই বলে গেছেন এর নায়কেরা। যদিও এই নায়কদের এখন আর কেউই ক্ষমতার ধারে কাছেও নেই। সরকার প্রধান হয়েছিলেন ড. ফখরুদ্দীন আহমদ। খালেদা জিয়া তাকে অনেক ভালবেসে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বানিয়েছিলেন। বিশ্বব্যাংকের এই চাকুরে মার্কিন পাসপোর্ট নিয়ে রেখেছিলেন অনেক আগেই। তথ্য গোপন করে সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের শরণাপন্ন হয়েছিলেন একটি চাকরির জন্য। এক সকালে সাইফুর রহমান তার ফাইল নিয়ে যান প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে। খালেদাকে বোঝান- ফখরুদ্দীনকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর করা হলে ক্ষতির চেয়ে হবে লাভ বেশি। এক দিকে দক্ষ অন্য দিকে বিশ্বব্যাংকও খুশি হবে। খালেদা রাজি হয়ে যান। এক সপ্তাহের মধ্যেই ফখরুদ্দীন ঢাকায় এসে দায়িত্বভার বুঝে নেন। সময় দ্রুত বয়ে যায়। একদিন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের চাকরির মেয়াদও শেষ হয়ে গেল। আবার ধরনা, নতুন চাকরি চাই। খালেদার দক্ষ অর্থমন্ত্রী তাকে পিকেএসএফ-এর এমডির চাকরি দিয়ে আবার পুরস্কৃত করলেন। কে জানতো এই ফখরুদ্দীনই একদিন ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে পেঁৗছে যাবেন জাদুর পরশে। অনেক নাটকীয়তা পর্দার আড়ালে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধানের পদ নিজেদের কব্জায় রাখার জন্য মরিয়া। সাবেক প্রধান বিচারপতি কেএম হাসানকে এই পদে বসানোর জন্য কিচেন কেবিনেটের পরামর্শে তখনকার আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বিচারপতিদের বয়সই বাড়িয়ে দিলেন। বিরোধীরা সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন। জনমত তৈরি হলো এর বিরম্নদ্ধে। অথচ সমালোচকরাও বলেন, এমন একজন যোগ্য ব্যক্তিকে এভাবে বিতর্কিত করার কোন প্রয়োজন ছিল না। দলীয় অভিযোগে অভিযুক্ত হলেন কেএম হাসান। ঘটনার এখানেই শেষ নয়। সংবিধানের বিকল্প ধারাগুলো আমলে না নিয়ে প্রেসিডেন্ট ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে দায়িত্ব দেয়ার পেছনে ভূমিকা রাখলেন খালেদা নিজেই। যুক্তি একটাই, তিনি দলের প্রতি অনুগত থাকবেন। ইয়াজউদ্দিনের নিয়োগও ছিল সে রকমই। অত্যন্ত স্মার্ট প্রেসিডেন্ট হিসেবে পরিচিত অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে সরানোর জন্য কত কাহিনী তৈরি করা হলো। অথচ এই ভদ্রলোকের বাড়িতেই বিএনপি'র জন্ম হয়েছিল। বদরুদ্দোজা বিদায় নিলেন। কে হবেন পরবতর্ী প্রেসিডেন্ট। খালেদার টেবিলে অনেক নাম, অনেক প্রসত্দাব। একদিকে ইয়াজউদ্দিন অন্যদিকে অধ্যাপক মনিরুজ্জামান মিয়া। ঢাকার একটি দৈনিক খবর দিয়ে বসলো অধ্যাপক মিয়া নামাজ রোজা করেন না। তিনি একজন নাস্তিক। ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের একান্ত ইচ্ছায় খালেদা জিয়া তার ব্যক্তিগত সচিব মোসাদ্দেক আলী ফালুকে পাঠালেন ইয়াজউদ্দিনের কাছে। ডেকে নিয়ে এসে যখন বলা হলো তাকে প্রেসিডেন্ট করার ইচ্ছে বিএনপি হাইকমান্ডের। তখন তিনি প্রায় কেঁদে ফেলেন। সংশ্লিষ্টদের মুখে এ নিয়ে অনেক গল্প শুনেছি। খালেদার ইচ্ছে বাস্তবায়ন না হয়ে পারেনি। ইয়াজউদ্দিন প্রেসিডেন্ট হয়ে গেলেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক সময় তাকে ইয়েসউদ্দিনও বলেছিলেন। যথার্থই ছিল তার মন্তব্য আখেরে তাই প্রমাণিত হয়েছে। নির্বাচন হবে কিনা, হলে কিভাবে হবে এ নিয়ে টানটান উত্তেজনা চারদিকে। বাংলাদেশের শুভাকাঙ্ক্ষী বিদেশী বন্ধুরাও সরব হলেন। নির্বাচন হতে হবে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড গড়ে। সে চেষ্টায় বাদ সাধলেন ড. ইয়াজউদ্দিন। পর্দার আড়ালের ইশারায় সব কিছু নিজের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টা চালাতে লাগলেন। অস্থিরতা বাড়লো। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা হলো উপদেষ্টাদের পরামর্শ উপেক্ষা করে। উপদেষ্টাদেরকে ইয়াজউদ্দিন জানিয়ে ছিলেন এতে প্রশাসন কোন হস্তক্ষেপ করবে না। তিন ঘণ্টা পর নিজেই সিদ্ধান্ত বাতিল করলেন। প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে এরশাদ অযোগ্য হয়ে গেলেন। শেখ হাসিনা নির্বাচনী কাফেলায় যোগ দিয়েও অনেকটা নাটকীয়ভাবে সরে দাঁড়ালেন। নির্বাচন পড়লো অনিশ্চয়তায়। সেনাবাহিনীকেও এ সময় বিতর্কিত করা হয় নানা কৌশলে। এর মধ্যেই ওয়ান ইলেভেনের আয়োজন সম্পন্ন হয়। নেপথ্যের আয়োজকরা দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও টালমাটাল করে দিলেন। সবই যেন এক ছকে বাঁধা। জনগণ বিকল্প চিনন্তা করতে থাকলো। গণতন্ত্রের প্রতি সাময়িক কালের জন্য হলেও আস্থা হারালো। সুশীল সমাজের তিন প্রতিনিধি ছুটে গেলেন নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ইউনূসের কাছে তদারকি প্রশাসনের দায়িত্ব নেয়ার জন্য। তিনি তাদের ফিরিয়ে দেন নানা যুক্তি দেখিয়ে। এর মধ্যেই ঘটে যায় ওয়ান ইলেভেন। কিন্তু কে হবেন তদারকি প্রশাসনের প্রধান। সেদিন মাঝরাতে প্রফেসর ইউনূসের বাসায় হাজির হন তিন পদস্থ সামরিক কর্মকর্তা। ইউনূস তাদের প্রস্তাবও ফিরিয়ে দেন। তবে পরামর্শ দেন তার বন্ধু ড. ফখরুদ্দীনকে বানানোর জন্য। ওয়ান ইলেভেনের নায়কদের সামনে বিকল্প নেই। রাত দুটার সময় ড. ফখরুদ্দীন সম্মতি দিলে এ নিয়ে অনিশ্চয়তা দূর হয়। ১২ই জানুয়ারি শপথ অনুষ্ঠান। দুই নেত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হলো। শেখ হাসিনা দাওয়াত কবুল করলেন। বললেন, এই সরকার তাদের আন্দোলনের ফসল। তাই বঙ্গভবনে যেতে হবে। খালেদা মনঃস্থির করতে পারছিলেন না শপথে যাবেন কি যাবেন না। এই যখন অবস্থা তখনই এক সম্পাদক তাকে ফোনে বললেন, ম্যাডাম আপনি ওখানে যাবেন না। এটা আপনার বিরুদ্ধেই এক অঘোষিত সামরিক শাসন। খালেদা হুট করে সিদ্ধান্ত বাতিল করলেন। এর মধ্যে বঙ্গভবনের অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার জন্য তার অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান ও ঢাকার মেয়র সাদেক হোসেন খোকা রওনা হয়ে গেছেন। শিল্প ব্যাংকের কাছাকাছি চলে যাওয়ার পর খালেদা নিজেই ফোন করেন সাইফুর রহমানকে। বললেন, অনেক তো বঙ্গভবনে গেছেন। আজ নাই গেলেন। সুচতুর সাইফুরকে বুঝতে দেরি হলো না। অর্থাৎ খালেদা চান বঙ্গভবনে না যেতে। সাইফুর রহমান ফিরে যান তার গুলশানস্থ জালালাবাদ হাউসে। ড. ফখরুদ্দীন-এর টেনশন বেড়েই চলেছে। হাজার হলেও তো কৃতজ্ঞতাবোধ! দূত মারফত নিশ্চিত হলেন, খালেদা যাবেন না তার শপথ অনুষ্ঠানে। ঘটনা মোড় নিল অন্যদিকে। এর পরের ঘটনা সবার জানা। মার্কিন মুল্লুকে যার তিনটি বাড়ি, ভিন দেশের নাগরিকত্ব লাভকারী ব্যক্তি ফখরুদ্দীন রাষ্ট্র পরিচালনা করে গেলেন। কেউ একটা প্রশ্নও তুললো না। সংসদীয় স্থায়ী কমিটি এখন তার ফাইল ঘাঁটাঘাঁটি করছে। টের পেয়ে তড়িঘড়ি করে দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। এক বছরের জন্য এসএসএফ সুবিধা কম ছিল কি? কিন্তু গোলমাল অন্যখানে। তদারকি প্রশাসন যখন রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীদের সম্পত্তির হিসাব নিয়ে ব্যস্ত তখন সেনা শাসকেরা চেয়েছিলেন অন্তত উপদেষ্টাদের সম্পত্তির হিসাব প্রকাশ করা হোক। কিন্তু এতে ঘোরতর আপত্তি জানান ড. ফখরুদ্দীন। এখন বোঝা যাচ্ছে তিনি কেন এর বিরোধী ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে তিনটি বাড়ি যার, তার পক্ষে তো হিসাব দেয়া এক ধরনের তামাশা। ড. ইয়াজউদ্দিন মুখ খুলতে গিয়েও খুললেন না। একটি টেলিভিশন নেটওয়ার্ককে তিনি বললেন, খালেদা-হাসিনাকে তার নির্দেশেই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে তার স্ত্রী ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছেন, সরি, ইয়াজউদ্দিন ভারসাম্য হারিয়ে এসব বলেছেন এটা তার মনের কথা নয়। সমালোচকরা এটাকে সহজে নেননি। ইয়াজউদ্দিন টিভিতে আসার সিদ্ধান্ত নিলেন কেন? তিনি তো একদম মুক্ত মানুষ নন। তাকে এখনো নিরাপত্তা কমর্ীরা পাহারা দেয়। তাছাড়া তার সুযোগ্য স্ত্রীকে নিয়েইতো তিনি এসেছিলেন টিভিতে কথা বলতে। নিজের ওপর দোষ চাপিয়ে তিনি মজা পেতে পারেন। কিন্তু পেছনে অনেকেই এর তাৎপর্য খুঁজে বেড়ান। কিভাবে ওয়ান ইলেভেনের দলিলে সই করেছিলেন এটা এখন অতীত। জাতির উদ্দেশে তার ভাষণ যিনি লিখেছিলেন তিনিও ছিলেন খালেদার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন। আর অন্তত চারজনকে ডিঙ্গিয়ে ওয়ান ইলেভেনের নায়ক জেনারেল মইন উ আহমেদকে সেনাপ্রধান করেছিলেন। মেজর জেনারেল রেজাকুল হায়দারকে সেনাপ্রধান নিযুক্ত করে আদেশও জারি হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু পরে সাঈদ এস্কান্দারের চাপাচাপিতে খালেদা সিদ্ধান্ত বাতিল করেন। অবসরপ্রাপ্ত মেজর এস্কান্দারই পর্দার আড়ালে থেকে সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণ করতেন। সেনাবাহিনী কখনোই বাইরের হস্তক্ষেপমুক্ত অবস্থায় সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। এখনও সে অবস্থার অবসান হয়নি। খালেদা জিয়া যখন জেলে তখন তার সঙ্গে একাধিকবার কথা বলতে গেছেন জেনারেল এটিএম আমিন। সেনাপ্রধান মইন কখনও যাননি। যদিও খালেদার একান্ত ইচ্ছা ছিল তার সঙ্গে কথা বলার। কিন্তু জেনারেল মইন কেন জানি খালেদার সঙ্গে কথা বলতে চাননি। ক্ষমতা হস্তান্তরে যে মানুষটি মুখ্য ভূমিকা পালন করেন তিনি হচ্ছেন জেনারেল আমিন। অতি সমপ্রতি তিনি চাকরি হারিয়েছেন অন্য অভিযোগে। আত্মীয়তার সুবাদে মেজর জেনারেল মাসুদউদ্দিন চৌধুরীকেও খালেদা জিয়া নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি করেছিলেন। আর এই ভদ্রলোকই ছিলেন ওয়ান ইলেভেনের অন্যতম রূপকার। জেনারেল হাসান মশহুদ চৌধুরীকেও খালেদা তার পছন্দের লোক হিসেবেই সেনাপ্রধান নিযুক্ত করেছিলেন। যাকে আওয়ামী প্রশাসন সংযুক্ত আরব আমিরাতে রাষ্ট্রদূত করে পাঠিয়েছিল। ক্ষমতা পেয়েই খালেদা তাকে ডেকে নিয়ে এসে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব দেন। যিনি দুদকের চেয়ারম্যান হয়ে খালেদা এবং তার পরিবারকে দুনর্ীতির কালো কালিতে নাম লিখিয়ে রীতিমতো উল্লাস করে গেছেন। রাজনীতিতে এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। যুগে যুগে দেশে দেশে এমনটাই হয়েছে। দূর প্রতিবেশী পাকিস্তানে কি হয়েছিল? জুলফিকার আলী ভুট্টো এগারো জন জেনারেলকে ডিঙ্গিয়ে জেনারেল জিয়াউল হককে সেনাপ্রধান বানিয়েছিলেন। আর এই জিয়াউল হকই তার প্রিয় প্রধানমন্ত্রীর মৃতু্য পরোয়ানায় সই করে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করেছিলেন।

June 4, 2009

সোহেল তাজের পদত্যাগ নাটকের অবসান


টানা তিনদিন অচলাবস্থার পর স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজের পদত্যাগ নাটকের অবসান ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রী, সহকমর্ী, আত্দীয়-স্বজন, শুভানুধ্যায়ীদের নানা উদ্যোগের পর পদত্যাগপত্র প্রত্যাহারে সম্মত হয়েছেন তিনি। গতরাতে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ যুগান্তরকে বলেন, শরীর সুস্থ থাকলে আজ তিনি অফিসে যাবেন। নিজ নির্বাচনী এলাকা কাপাসিয়ার নেতাকমর্ীদেরও আজ অফিসে যাওয়ার বিষয়ে অবহিত করেছেন বলে জানান তিনি। সোহেল তাজ পদত্যাগপত্র প্রত্যাহারে সম্মত হওয়ায় সরকারের নীতিনির্ধারকরাও স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ সোমবার সকালে তার একান্ত সচিবের মাধ্যমে পদত্যাগপত্র প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠান। এরপর গত তিনদিন ধরে তাকে এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য বোঝানো হয়। পদত্যাগপত্র পাঠানোর পর বুধবার রাতে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার সরকারি বাসভবন যমুনায় গিয়ে সাক্ষাৎ করেন তিনি। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন তার বেইলি রোডের সরকারি বাসভবন মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তাকে সঙ্গে করে যমুনায় নিয়ে যান। এর আগে দুই মন্ত্রী মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্টে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান করে সোহেল তাজকে পদত্যাগের অনড় অবস্থান থেকে সরে আসার জন্য অনুরোধ করেন। তাদের অনুরোধে সন্ধ্যা ৭টায় প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে তার গাড়িতে চড়ে যমুনায় যান। একই গাড়িতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনও ছিলেন। ওই গাড়ি অনুসরণ করে সোহেল তাজের বাসার সামনে অবস্থানরত তার সমর্থক কাপাসিয়ার কয়েকশ' নেতাকমর্ী যমুনার সামনে ছুটে যান। এসব নেতাকমর্ী তাদের প্রিয় নেতাকে টানা গত তিনদিন ধরে পদত্যাগপত্র প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়ে আসছিলেন। যমুনায় গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দুই মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী প্রায় দু'ঘণ্টা কথা বলেন। রাত ৯টায় তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ যমুনা থেকে বের হয়ে গণমাধ্যমকে এড়িয়ে বেইলি রোডের সরকারি বাসভবন মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্টে ফিরে যান। কিছুক্ষণ পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামও যমুনা থেকে বের হন। তিনিও গণমাধ্যমকে এড়িয়ে যান। তবে সকালে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সাংবাদিকদের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, গতকালের মধ্যেই সোহেল তাজের পদত্যাগ নিয়ে জটিলতার অবসান হবে। এর আগে মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। সোহেল তাজ ৬-২৩ জুন পর্যন্ত ছুটি চেয়েছেন। তার দরখাস্তে সুপারিশ করে তা ঊধর্্বতন কতর্ৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, জ্বরে আক্রান্ত স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর অভিমান ভেঙেছে। তিনি যমুনা থেকে বাসায় ফিরে যাওয়ার পর কাপাসিয়ার নেতাকমর্ীদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের জানান, আজ অফিসে যাবেন। এরপর ছুটিতে আমেরিকায় গিয়ে পরিবারের সঙ্গে কিছুদিন কাটাতে পারেন। জানা গেছে, সোহেল তাজের বাসভবনে অবস্থানরত নির্বাচনী এলাকার নেতাকমর্ীরা প্রতিমন্ত্রী আজ অফিসে না যাওয়া পর্যন্ত বেইলি রোডের মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্টের সামনে অবস্থান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
Khoj Khobor