October 25, 2009

রশিদের মেয়ে মেহনাজ গ্রেফতার, ৫ দিনের রিমান্ডে

ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসের ওপর বোমা হামলার পরিকল্পনায় জড়িত সন্দেহে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার ফাঁসির দ-াদেশপ্রাপ্ত আসামি কর্নেল (অব.) আবদুর রশিদের মেয়ে খন্দকার মেহনাজ রশিদকে ৫ দিনের পুলিশ রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে তাকে গুলশানের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এ নিয়ে এ মামলায় ৩ জনকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।

গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, কর্নেল (অব.) আবদুল রশিদের মেয়ে খন্দকার মেহনাজ রশিদের কাছ থেকে ২টি মোবাইল সেট ও সিম জব্দ করা হয়েছে। মেহনাজ গত এক মাসে তার ব্যবহৃত ২টি মোবাইল ফোন নম্বর থেকে যেসব ফোন নম্বরে কথা বলেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সেসব নম্বরের সূত্র ধরে তদন্ত করছে।

মেহনাজ রশিদকে গতকাল বিকেলে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতের ম্যাজিস্টেট তানিয়া কামাল তার ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডের আবেদন শুনানি চলাকালে মেহনাজ কাঠগড়ায় তার শিশু নূশ হরিণ মেহেরুজকে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় আদালতে তার পক্ষে কোন আইনজীবী ছিলেন না।
মামলার তদন্তকারী সংস্থা ডিবির কর্মকর্তারা জানান, ব্যারিস্টার তাপসের ওপর বোমা হামলার নেপথ্য উদঘাটনে গোয়েন্দা পুলিশ প্রাথমিকভাবে ৪/৫টি বিষয়ে টার্গেট নিয়ে তদন্তে নেমেছে। একটি টিম হরকাতুল জিহাদ (হুজি) ও জেএমবির পলাতক জঙ্গিরা জড়িত কিনা তার তথ্য উদঘাটনে তদন্ত করছে। অন্য টিম বিদেশে পলাতক ডালিমসহ অন্য আসামিরা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী চক্রের মাধ্যমে যড়যন্ত্র করছে কিনা এবং ওই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে তাদের পরিবারের সদস্যরা জড়িত আছে কিনা তাও বের করার চেষ্টা করছেন। সূত্র আরও জানায়, ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে ব্যারিস্টার তাপসের নাম এসেছে। তার জনপ্রিয়তা বেশি। এ নিয়ে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল থেকে বোমা হামলা ঘটছে কিনা তাও খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। বিডিআর বিদ্রোহের পর দেশের একটি মহল বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থার ইন্ধনে পরিকল্পিতভাবে নাশকতা সৃষ্টির পরিকল্পনা করছে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ করা হচ্ছে।

October 19, 2009

বিশ্বখাদ্য ও কৃষি সংস্থার 'এ এইচ বুর্মা পদক' পেলেন শাইখ সিরাজ

কৃষিবিষয়ক উন্নয়ন সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদান রাখায় জাতিসংঘ খাদ্য ও কৃষি সংস্থার 'এ এইচ বুর্মা পদক' পেয়েছেন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও চ্যানেল আই-এর বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ। বাংলাদেশী নাগরিক হিসেবে প্রথম এবং পঞ্চম এশিয়ান হিসেবে তিনি এ পদক পেলেন। গত শুক্রবার ইতালির রোমে আনুষ্ঠানিকভাবে পদকপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করা হয়। এবার যৌথভাবে পদক পেয়েছেন শাইখ সিরাজ ও ফ্রান্সের ল' মঁদ পত্রিকার সাংবাদিক লেটেশিয়া ক্লেরেও। গতকাল ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে শাইখ সিরাজের পুরস্কার প্রাপ্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন এফএও'র বাংলাদেশ প্রতিনিধি এডি স্পাইকার্স। দেশের কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে গণমাধ্যমে বিশেষ ভূমিকা রাখার জন্য শাইখ সিরাজকে এ পদকে ভূষিত করেছে এফএও। দারিদ্র্যের বিরম্নদ্ধে গণমাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার স্বীকৃতি হিসেবে জাতিসংঘ খাদ্য ও কৃষি সংস্থা ১৯৭৯ সাল থেকে এ এইচ বুর্মা পদকের প্রবর্তন করে। প্রতি দু'বছর পর পর বিশ্বখাদ্য সমস্যা, কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নে গণমাধ্যমে বিশেষ ভূমিকা রাখেন এমন এক বা একাধিক সাংবাদিক বা গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বকে এ পদক দেয়া হয়। পদকপ্রাপ্তির বিষয়ে শাইখ সিরাজকে দেয়া পত্রে এফএও'র ডিরেক্টর জেনারেল ড. জাক দিওফ বলেন, 'বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়নে মানুষের সচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমে পথিকৃতের ভূমিকা পালন করায় আপনাকে এ পদকের জন্য মনোনীত করা হলো।' বিশ্বখাদ্য কর্মসূচির প্রথম নির্বাহী পরিচালক এ এইচ বুর্মার সম্মানে এ পদক প্রবর্তন করা হয়। পদক প্রবর্তনের ৩০ বছরের ইতিহাসে শাইখ সিরাজ প্রথম বাংলাদেশী এবং এশিয়ার পঞ্চম ব্যক্তি হিসেবে এ পদক পেলেন। এর আগে ভারত থেকে দু'জন, থাইল্যান্ড ও জাপানের একজন এ পদক পান। এর আগে সিএনএন'র জনপ্রিয় উপস্থাপক ও সাংবাদিক জিম ক্লেনসি, বিবিসি'র প্রযোজক মাইকেল পিকস্টক, ইতালিয়ান টিভি প্রযোজক ফেডারেকো ফাজোলি, জাপানের আসাহি শিম্বুনের সাংবাদিক হিরোইশি ইশি ও মিশরের প্রবীণ রেডিও সাংবাদিক ফওজিয়া এল মোয়াল্লেদ এ পদকে ভূষিত হন। শাইখ সিরাজ আগামী ১৮ই নভেম্বর এফএও'র দ্বিবার্ষিক সাধারণ সম্মেলনের সূচনা অনুষ্ঠানে সংস্থার মহাপরিচালকের কাছ থেকে পদক গ্রহণ করবেন। পদকপ্রাপ্ত প্রত্যেকে সম্মাননা ছাড়াও ১০ হাজার ডলার করে পাবেন। এর আগে ১৯৯৯ সালে সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের কৃষি উন্নয়নে অসাধারণ অবদান রাখার জন্য এফএও'র 'চার্স মেডেল'-এ ভূষিত হয়েছিলেন। গতকাল শাইখ সিরাজের পদকপ্রাপ্তির ঘোষণা দিয়ে এফএও'র বাংলাদেশ প্রতিনিধি এডি স্পাইকার্স বলেন, তিনি বাংলাদেশে কৃষি উন্নয়নে গণমাধ্যমের সবক্ষেত্রে ভূমিকা রেখে চলেছেন। তার এ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই তাকে এ পদক প্রদান করা হলো। একুশে পদক, ইউনেস্কো কৃষি পদকসহ দেশে ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তিনি ৫০টিরও বেশি পুরস্কার পেয়েছেন। তিনি বলেন, শাইখ সিরাজ উন্নয়ন সাংবাদিকতায় এক পথিকৃৎ। তার গণমাধ্যম কার্যক্রম এশিয়ার কৃষিনির্ভর দেশগুলোর কাছে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বিবেচনায় স্বীকৃত হয়েছে। ইতিমধ্যে শাইখ সিরাজকে নিয়ে রয়টার্স, এএফপি ও শ্রীলঙ্কার ইয়ং এশিয়ান টেলিভিশন বিশেষ প্রামাণ্য চিত্র সমপ্রচার করেছে। সংবাদ সম্মেলনে এফএও প্রতিনিধি আশা প্রকাশ করে বলেন, শাইখ সিরাজ বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়নে তার গণমাধ্যমভিত্তিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন। সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বখাদ্য ও কৃষি সংস্থার কর্মকর্তা নরেথ নভেলি ও বদরুল আরেফিন উপস্থিত ছিলেন।
Khoj Khobor