Showing posts with label Bangladesh Cricket. Show all posts
Showing posts with label Bangladesh Cricket. Show all posts

December 12, 2012

১২.১২.১২ সাকিব শিশিরের বিয়ে


একজন থাকেন বাংলাদেশে, অন্যজন যুক্তরাষ্ট্রে। প্রথমজন কাউন্টি ক্রিকেট খেলতে গেলেন ইংল্যান্ডে, অন্যজন সেখানে গেলেন ছুটির অবসরে। ভাগ্যবিধাতার অদৃশ্য রিমোট কন্ট্রোলে ওখানেই পরিচয় সাকিব আল হাসানের সঙ্গে উম্মে আহমেদ শিশিরের। সেটি আজ পরিণত হচ্ছে পরিণয়ে। বাংলাদেশের সেরা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের জীবনসঙ্গী হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এ তরুণী। আজ ১২.১২.১২ তারিখে সোনারগাঁও হোটেলে আকদের মাধ্যমে জীবন ইনিংসে জুটি বাঁধছেন সাকিব-শিশির।
২০১০ সালে পরিচয়ের পর তাঁদের মন দেওয়া-নেওয়া শুরু হয়। তবে দুই পরিবারের সম্মতিতেই বিয়েটা হচ্ছে। আজ আকদ হলেও তাঁদের বিবাহোত্তর সংবর্ধনা হবে পরে। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থী শিশিরকে নিয়ে পরশু শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে গিয়েছিলেন সাকিব। তাঁরা বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার টোয়েন্টি-টোয়েন্টি ম্যাচ উপভোগ করেন। এরপর ড্রেসিংরুমে গিয়ে সতীর্থদের সঙ্গে হবু স্ত্রীকে পরিচয় করিয়ে দেন।
বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের জীবনসঙ্গী হতে যাওয়া উম্মে আহমেদ শিশিরকে নিয়ে তাই কৌতূহলের শেষ নেই দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের। পাত্রী নারায়ণগঞ্জের মেয়ে হওয়ায় কৌতূহল কয়েক ধাপ বেশি নারায়ণগঞ্জবাসীরও। শিশিরের পরিচয় জানতে তাই বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ ফোন করছে সংবাদকর্মীদের মোবাইল ফোনেও। তাঁকে নারায়ণগঞ্জের মেয়ে বলে সাকিব পরিচয় করিয়ে দিলেও মূলত শিশিরের বাবার আদি নিবাস নরসিংদীর রায়পুরা এলাকায়।
সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার স্টেশনের টেকনিক্যাল অপারেটের ও শ্রমিক ইউনিয়ন নেতা মো. শহীদুল্লাহ জানান, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী হওয়ার আগে শিশিরের পরিবার থাকত নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের বিদ্যুৎ উন্নয়ন কেন্দ্রের সরকারি কোয়ার্টারে। শিশিরের বাবা মমতাজ আহমেদ ছিলেন বিদ্যুৎ উন্নয়ন কেন্দ্রের (সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন) কর্মচারী। তাঁর চার ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে শিশির ছিলেন সবার ছোট।
১৯৯২ সালের দিকে ডিভি লটারি পান মমতাজ ও তাঁর পরিবার। পরে পর্যায়ক্রমে সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জামান। ১৯৯৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সময় শিশির সিদ্ধিরগঞ্জ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড মাধ্যমিক স্কুলের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী ছিলেন। ওই সময় মমতাজ আহমেদ, তাঁর এক ছেলে ও শিশির যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। তাঁদের সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি এলাকায় একটি জমি ছিল। যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার আগে ওই জমি বিক্রি করেন মমতাজ আহমেদ।

August 10, 2009

বাংলাদেশের দারুণ জয়, আশরাফুলের অনবদ্য শতরান

প্রস্তুতি ম্যাচে হারের পর যারা দ্বিধায় পড়ে গিয়েছিলেন তাদের স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে পাওয়া জয়গুলো যে কোন চমক বা অঘটন ছিল না তার প্রমাণ দিয়েছেন তামিম-আশরাফুল। গতকাল বুলাওয়েতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম একদিনের ম্যাচে বাংলাদেশ দল ৮ উইকেটে জিতেছে। জয়টি এতই সাবলীল ছিল যে, ১৫ ওভার বাকি থাকতেই লক্ষ্যে পেঁৗছে যায় বাংলাদেশ দল। সাবেক অধিনায়ক আশরাফুল তার শতরানটির জন্য যদি মাটি কামড়ে না থাকতেন তবে খেলাটি শেষ হতে পারতো আরও আগেই। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম দু'ম্যাচে অর্ধশত রান পাওয়া আশরাফুল কাল অপরাজিত থাকেন শতরান করে। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটি তার তৃতীয় শতরান। ৯৯ রানের মাথায় ৩ হাজার রানের মাইলফলকও স্পর্শ করেন ১৪৩তম ম্যাচ খেলা আশরাফুল। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে ৪৭.৫ ওভারে অলআউট হয়ে গিয়েছিল ২০৭ রানে। বাংলাদেশ দল ২১১ রান করে ২ উইকেট হারিয়ে ৩৪.৩ ওভারে। আশরাফুল ১০৩ এবং রকিবুল ১১ রানে অপরাজিত থাকেন। তামিম ইকবাল ও জুনায়েদ সিদ্দিকী শুরুটা খুব ভাল করতে পারেননি। দ্রুততার সঙ্গে এগোবার চেষ্টা করলেও জুনায়েদের বিদায়ে ৩০ রানেই প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ১২ বলে ২১ রান করেন জুনায়েদ। ওয়ান ডাউনে আশরাফুল যোগ দেন তামিমের সঙ্গে। এ দু'জন জিম্বাবুয়ের বোলারদের শাসন করে খেলতে থাকেন। দ্রুত ম্যাচকে তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন। ১৩৭ রানের জুটি গড়ে দলকে আশাতীত গতিতে জয়ের দিকে নিয়ে যান। তামিম ক্যারিয়ারের নবম ফিফটি গড়েন। ২৬তম ওভারে এসে আউট হন ব্যক্তিগত ৬৩ রান করে। ৬৮ বলের ইনিংসে বাউন্ডারি হাঁকান ৭টি। দলের সংগ্রহ তখন ১৬৭। জয়ের জন্য দরকার ৪১ রান। ওই সময় আশরাফুলের সংগ্রহ ৭৪ বলে ৭৫ রান। চিগুম্বুরার ওই ওভারের শেষ বলে চার মারেন। পরের ওভারে রে প্রাইসের বলে নেন মাত্র ২ রান। এরপর ফের চিগুম্বুরার ওভারে একটি ছক্কাসহ নেন ৭ রান। ২৮ ওভার শেষে আশরাফুলের সংগ্রহ ৮৮। এরপর থেকে শতরানের জন্য ধীরে খেলতে থাকেন আশরাফুল। স্বাগতিকরাও বিষয়টি বুঝে রক্ষণাত্মক ফিল্ডিং সাজান। আশরাফুলের শতরান হওয়ার জন্য অপরপ্রান্তে রকিবুলও হাত গুটিয়ে খেলতে থাকেন। ফলে ৩০ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ যেখানে ১৯৪ সেখানে স্কোর সমান হতে প্রয়োজনীয় ১৩ রান আসে ২৭ বলে। ৯৯ রান থেকে মাসাকাদজার বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে শতরান পূর্ণ করেন আশরাফুল। শেষ পর্যন্ত ১০৩ বলে ১০৩ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। ম্যান অব দ্য ম্যাচও হন তিনিই।

August 1, 2009

একদিনের সিরিজেও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশ করল বাংলাদেশ

ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচেও বাংলাদেশের কাছে তিন উইকেটে হারল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফলে টেস্ট সিরিজের পর ওয়ানডে সিরিজেও বাংলাদেশের কাছে হোয়াইটওয়াশ হলো স্বাগতিকরা। অথচ এ সিরিজের আগে ওয়ানডে ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে কোন জয়ই ছিল না বাংলাদেশের। এনিয়ে ওয়ানডে সিরিজে ষষ্ঠবারের মত প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করল বাংলাদেশ। কেনিয়াকে দুইবার, জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের সঙ্গে এবার যোগ হলো ওয়েস্ট ইন্ডিজের নাম। আজ বাংলাদেশ সময় ভোররাতে যখন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এবং আব্দুর রাজ্জাক বিজয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন তখনও হাতে এক ওভার এক বল বাকি। দু্ই উইকেট পেয়ে এবং ৫১ রানের হার না মানা ইনিংস খেলে ম্যান অব দ্যা ম্যাচ হয়েছেন মাহমুদউল্ল্লাহ রিয়াদ। আর সিরিজ সেরা হয়েছেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। স্কোর : ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৪৮ (এন্ড্রু ফেচার ৫২, ফয়েড রেইফার ৪০, ড্যারেন সামি ৪০, ডাওলিন ৩৮, রাজ্জাক ৬৩/২, মাহবুবুল আলম ৪২/২, মাহমুদউল্ল্লাহ ৩৮/২)। বাংলাদেশ : ২৪৯/৭, ৪৮.৫ ওভার (জুনায়েদ সিদ্দিকী ৫৫, মাহমুদউল্ল্লাহ ৫১, তামিম ৩০, মুশফিক ৩১, নাঈম ২৬, কোমার রোচ ৬৩/৪, সামি ৩৭/২)

July 30, 2009

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজও বাংলাদেশের

জয়ের পিঠে জয়। তা-ও প্রতিপক্ষের মাটিতে। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এমন নজির আর নেই। দেশের ২০০তম ওয়ানডে ম্যাচটি স্মরণে রাখার মতো করেই জয় করেছে বাংলাদেশের তারুণ্য উদ্দীপ্ত ক্রিকেটাররা। বিশ্বকাপ ক্রিকেটের প্রথম দু' আসরের চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। টস জিতে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ যখন ৫০ ওভারে ২৭৫ রানের টার্গেট ছুড়ে দেয় তখন একটা সংশয় বেশ জোরালোই ছিল। এত রান তাড়া করে জয়ের কোন নজির বাংলাদেশের রেকর্ড বুকে ছিল না। এর আগে কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২৫০ রান তাড়া করে জয়ের ঘটনাটিই ছিল বাংলাদেশের জন্য রেকর্ড। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের নবগঠিত দলের ক্রিকেটাররা বাংলাদেশের নজির-গড়া জয়ে বাধা হতে পারেনি। সাবেক ও বর্তমান অধিনায়ক যদি ফর্মে থাকে তখন কঠিন লক্ষ্যও যে সহজ হয়ে যায় তার প্রমাণ মিললো ফের। সাবেক অধিনায়ক আশরাফুল আর বর্তমান অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের টানা দু' অর্ধশতকে বাংলাদেশ ৬ বল বাকি থাকতেই টানা দ্বিতীয় জয় পায়। দেশ ও দেশের বাইরে সব মিলিয়ে বাংলাদেশের এটি নবম ওয়ানডে সিরিজ জয়। আর দেশের বাইরে তৃতীয় সিরিজ জয়। টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে জিম্বাবুয়ের পর এটিই দ্বিতীয় কোন দেশের বিপক্ষে জয়। প্রথম ম্যাচের মতো দ্বিতীয়টিতেও সংযমী ছিলেন আশরাফুল আর সাকিব ছিলেন তুলনামূলক আগ্রাসী। টেস্ট ম্যাচে ব্যর্থতার পর প্রথম ম্যাচে ৫৭ রান করার পর মঙ্গলবার ৬৪ রান করেন আশরাফুল। আরেকটু সংযমী হলে ১৮তম ফিফটিটিকে সেঞ্চুরিতেও পরিণত করতে পারতেন তিনি। কিন্তু লুইসের বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে লং অফে ক্যাচ তুলে দেন রিচার্ডস-এর হাতে। বাংলাদেশ দল যদি হেরে যেতো তবে সমালোচনার হাত থেকে রেহাই পেতেন না তিনি। কারণ বাংলাদেশ দল তখনও ৮৫ রান দূরে যখন তিনি আউট হন। ২০০৬ সালের পর এই প্রথম আশরাফুল পরপর দু' ম্যাচে ফিফটি পেলেন। ৭৭ বলের ইনিংসে আউট হওয়ার আগে মাত্র ৩টি চার ও ১টি ছক্কা হাঁকালেও ব্যাটিংয়ে বেশ সাবলীল ছিলেন। একাদশ ওভারে ওপেনার তামিম স্বভাব বিরুদ্ধ (৪১ বলে ২৯, ৪৩) ইনিংস খেলে আউট হলে মাঠে নামেন আশরাফুল। দলের স্কোর ৪৬। এর ১৮ রান পর ৩৩ বলে ২৩ করে আউট হন জুনায়েদ। এরপর তৃতীয় উইকেটে আশরাফুল-রকিবুল ৭২ বলে ৫২ রান যোগ করেন। তখনও হাত খোলেননি সাবেক অধিনায়ক। ২৮তম ওভারে এসে বার্নার্ডের বলে প্রথম চার মারেন ৭০ বল খেলা আশরাফুল। রকিবুলের বিদায়ের পর চতুর্থ উইকেটে আশরাফুল-সাকিব ৭৪ রান যোগ করে ক্যারিবীয়দের ম্যাচে ফেরার রাস্তা কঠিন করে দেন। বাউন্ডারি তেমন না এলেও ৭৪ রান ওঠে ৬৩ বলে। পিচ স্েলা হয়ে যাওয়ায় বলকে সীমানার বাইরে পাঠানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। ২৩৮ রানের মাথায় সাকিব ৬১ বলে ৬৫ রান করেন। প্রথম ম্যাচে ৫৪ রান করা সাকিবের এটি ৬৪ ম্যাচে দ্বাদশ হাফ সেঞ্চুরি। এক-দু' রান করেই এগোন সাকিব। মাত্র ২টি চার ও ১টি ছক্কা হাঁকাতে পারেন তিনি। তারপরও স্ট্রাইক রেট ১০০ ভাগের বেশি রাখেন তিনি। শেষ ১০ ওভারে বাংলাদেশের টার্গেট দাঁড়ায় ৭১ রান। স্বাগতিকরা শেষ ১০ ওভারে তুলেছিল ৯৮ রান। উইকেটও বাংলাদেশের সমান ছিল। ওই সময় লুইসের বল হাঁকিয়ে আউট হতে যাচ্ছিলেন সাকিব। বল উঠে যায় লংঅফে। ক্যাচ ধরতে ছুটে আসেন বার্নার্ড ও সামি। দু'জনের সংঘর্ষে বলে পড়ে যায় মাটিতে। ৪৮ বলে যখন প্রয়োজন ৫৬ রান তখন পাওয়ার-প্ল্লে নেন সাকিব। কেমার রোচকে বল দেন রেইফার। আউট সাইডে ৫ ফিল্ডার রেখে রোচ হাফভলি বল দেন সাকিবকে। সুযোগটা হারাননি সাকিব। বল পাঠিয়ে দেন সীমানার বাইরে। পরেরটি আসে ফুলটস। সেটিও সীমানা পার করান সাকিব। পরের বলটি দেন কাঁধ সমান উঁচুতে। এবার আর গড়িয়ে নয়, উড়িয়ে সীমানার বাইরে (ছক্কা) পাঠান সাকিব। ওই বিমার দিয়ে বহিষ্কৃত হন রোচ। তার ওভারটি করেন উইকেটরক্ষক থমাস। ৪৪তম ওভারে সামির প্রথম বলেই রিচার্ডস-এর হাতে ধরা পড়েন আক্রমণাত্মক সাকিব। ৩৫ বলে দরকার তখন ৩৭ রান। টার্গেটটা সহজই ছিল। মুশফিক তখন বেশ ছন্দে। কিন্তু রিয়াদ ৫ বলে ৩ রান করে বিদায় নিলে শঙ্কা জাগে। ২৪ বলে দরকার ২৪। টমাসের করা ৪৬তম ওভারের শেষ বলে ৩০ বলে ৩১ রান করে মুশফিক আউট হলে ক্যারিবীয় শিবির খানিকটা চাঙ্গা হয়। কিন্তু ১৮ বলে ১৪ রানের পথকে আর কঠিন হতে দেননি স্পিনার রাজ্জাক। শেষ দিকে রোচের বিকল্প বোলার না থাকায় খেসারত দিতে হয় ক্যারিবীয়দের। ওই সময় হতাশায় খেই হারিয়ে ফেলেন তারা। রাজ্জাক ১০ বলে ১১ রান করলে ৬ বল বাকি থাকতেই বাংলাদেশ জয়ের লক্ষ্যে পেঁৗছে যায়। অনেকদিন পর বাংলাদেশ দলের শীর্ষ ৬ ব্যাটসম্যানই দু' অঙ্কের রান করেন। তবে ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানরাও মন্দ করেননি। তাদেরও ক্যাপ্টেন ছাড়া অন্যরা ভালই করেন। ডাওলিন টেস্টের মতো ওয়ানডেতেও দারুণ খেলে প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরিও করেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য ব্যর্থ হয়ে যায় শতরানটি। ৮৮ বলে ৫০ করা এ ব্যাটসম্যান ১০০ রান করেন ১১৬ বলে। ৪০ ওভারে ১৭৫ রান করা ওয়েস্ট ইন্ডিজ শেষ ১০ ওভারে ৯৮ রান তুলে বাংলাদেশ শিবিরে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিল। নাঈম ও সাকিব ছাড়া অন্য বোলাররা তেমন সমীহ আদায় করতে পারেননি। দু'টি রান আউট বোলারদের বোঝা খানিকটা লাঘব করে দেয়। সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি সেন্ট কিটসে হবে আগামীকাল। ওই ম্যাচটি জিতলে শতভাগ জয় নিয়ে প্রথমবারের মতো দেশে ফিরতে পারবেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা।

July 22, 2009

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

অভাবনীয় ও ঐতিহাসিক জয়। প্রথমে টেস্ট, পরে সিরিজ। বিদেশের মাটিতে একই সফরে দু'টি জয়ের ষোলকলা পূর্ণ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। সোমবার রাতে গ্রেনাডায় সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ৪ উইকেটে পরাস্ত করে এক সময়ের বিশ্বসেরা ক্রিকেট দল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। দেশের বাইরে প্রথম সিরিজ জয়ই নয় কেবল, কোন দেশের বিরুদ্ধে পর পর দু'টেস্টে জয়ের কৃতিত্বও এই প্রথম। ২০০০ সালে টেস্ট পরিবারের সদস্য হওয়ার পর থেকেই সংগ্রামের শুরু। কুলীন শ্রেণীর দলগুলোর কাছে একের পর এক সিরিজ পরাজয়ে বহুবার প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বাংলাদেশের টেস্ট স্ট্যাটাস। অনেক দেশ এখন আর বাংলাদেশকে টেস্ট খেলতে আমন্ত্রণ জানাতে চায় না। ব্যর্থতার ধারা অব্যাহত থাকায় বিশ্ব ক্রিকেট সংস্থা আইসিসিও ভাবছে দু'টি ভাগে বিভক্ত করে বাংলাদেশের টেস্ট পরিধি ছোট করে দেয়ার কথা। এমনি সময় এলো কাঙ্ক্ষিত সেই জয়। না, বিচ্ছিন্ন একটি ম্যাচ জয় নয়। ২০০৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ইতিহাসের প্রথমটা পাওয়ার পর বিজয়ের অনুভূতি ভুলতেই বসেছিল বাংলাদেশ। দীর্ঘ সাড়ে চার বছর পর সেই অনুভূতির দেখা মেলে গত সপ্তাহে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেন্ট ভিনসেন্ট দ্বীপে। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে সেই ম্যাচে ৯৫ রানে হারিয়ে আক্ষেপ দূর করে বাংলাদেশ। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে যা আসে দ্বিতীয়বারের মতো। আর বিদেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো বিজয়ী বেশে বাংলাদেশ। সেই জয়ের পর থেকেই দম বন্ধ করে অপেক্ষার শুরু। ইতিহাসে দ্বিতীয় সিরিজটা জিততে পারবে তো বাংলাদেশ? একরাশ শঙ্কা নিয়ে গ্রেনাডায় খেলতে নামে বাংলাদেশ- দলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ক্রিকেটার অধিনায়ক মাশরাফীকে ছাড়াই।

নেতৃত্বের অভিজ্ঞতাহীন সাকিব আল হাসানের কাঁধে ভর করে শুরু হয় লড়াই। প্রথম টেস্ট জিতে থাকায় অনেকেই আশায় ছিলেন গ্রেনাডা টেস্ট অন্ততপক্ষে ড্র করুক বাংলাদেশ। ক্রিকেট যারা বোঝেন না, কিংবা কালেভদ্রেও যারা ক্রিকেটের খোঁজ রাখেন না তারাও হাজার মাইল দূরে খেলতে নামা বাংলাদেশ দলের জন্য প্রার্থনা করেছেন। শেষ পর্যন্ত সব অপেক্ষার অবসান ঘটেছে। না, অতীতের মতো কোন আক্ষেপ দিয়ে নয়। কাঙ্ক্ষিত সিরিজটা জিতেছে বাংলাদেশই। ড্র করে নয়, বীরের মতো ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৪ উইকেটে হারিয়ে। যার ওপর হঠাৎ করেই এসে পড়েছিল দলের দায়িত্ব সেই সাকিব আল হাসান বলতে গেলে একাই বাংলাদেশের ক্রিকেটের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাফল্যটি এনে দিয়েছেন। প্রথম ইনিংসে দু'দলের ব্যবধান মাত্র ৫ রান হওয়ায় এক ইনিংসে পরিণত হওয়া ম্যাচে প্রথমে বল হাতে ৫ উইকেট শিকারের পর ব্যাট হাতে খেলেন ৯৭ বলে ৯৬ রানের ম্যাচ জয়ী ইনিংস। তার ইতিহাস গড়া ওই পারফরমেন্স ম্লান করে দেয় ড্যারেন সামির রুদ্রমূর্তি হয়ে ওঠাকে। একাই ৫ উইকেট নিয়ে রীতিমতো ভীতি ছড়িয়ে দিয়েছিলেন সামি। কিন্তু সাকিবের কাছে অন্যদের মতো সামিও ম্লান হয়েছেন। এ কারণে দলের এই জয়কে সর্বশ্রেষ্ঠ স্বীকৃতিটা দিয়েছেন খোদ সাকিবই।
'টেস্ট ক্রিকেটে পা রাখার নয় বছরে এটাই বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় অর্জন।' ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক হিসেবে কথা বলতে গিয়ে এভাবেই নিজের আবেগ প্রকাশ করেন সাকিব। নিজেকে সামলে নিয়েই বলেন, 'এ বিজয় আমাদের আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। যা আমাদের পরের ধাপে এগিয়ে যেতে সহায়তা দেবে। অবশ্যই ধন্যবাদ জানাচ্ছি স্রষ্টাকে। তার কৃপায় আমরা এখন আরও এগিয়ে যেতে চাই।' প্রথম ইনিংসে ৫ রানে এগিয়ে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ২০৯ রানে গুঁড়িয়ে দিতে সাকিবেরই ছিল সবচেয়ে বড় অবদান। ক্যারিয়ারে পঞ্চমবারের মতো ৫ উইকেট শিকার করে দলকে জয়ের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।

ব্যাটিং অর্ডারে নিজের অবস্থান যেহেতু ৬ নম্বরে সেহেতু দলের জয়ের বাকি আনুষ্ঠানিকতার দায়টা খুব বেশি হয়তো অনুভব করেননি দ্বিতীয় ইনিংস শুরুর আগে। কিন্তু মাত্র ৬৭ রানে উপর সারির ৪ ব্যাটসম্যান সাজঘরে ফিরে যাওয়ায় স্বভাবতই হারের শঙ্কা জেগে উঠেছিল সবার মনে। কিন্তু মাঠে নেমেই সাকিব পেয়ে যান সহযোদ্ধা রকিবুল হাসানকে। দু'জনে মিলে দেখিয়েছেন কিভাবে খাদের কিনার থেকে দলকে টেনে তুলতে হয়। আর ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে ১০৬ রানের জুটি গড়ে রকিবুল (৬৫) বিদায় নেয়ার পর সাকিব দেখিয়েছেন কিভাবে সব শঙ্কা দূর করে দলকে জেতাতে হয়। জয় থেকে দলকে ৪২ রান দূরে রেখে যখন ফিরে গেলেন রকিবুল তখন আবারও তীরে এসে তরী ডোবার ভয় পেয়ে বসে সবার মনে। জয় থেকে ১৪ রান দূরে থাকতে মুশফিক সাজঘরে ফিরে ভয়টা আরও বাড়িয়ে দেন। কিন্তু উইকেটে ছিলেন সাকিব। যে কেমার রোচের ভয়ে রীতিমতো কম্পমান ছিল বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানরা সেই রোচের এক ওভারে দু'টি চার ও ১টি ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে পাইয়ে দেন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়। ম্যাচ জয়ের পর জোর গলায়ই বলেন কোন রকম চাপ অনুভূত হয়নি তার। বলেন, 'আমরা কখনওই খুব বেশি চাপ অনুভব করিনি। বিশেষ করে আমার নিজের মধ্যে কোন চাপ ছিল না। নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলবো বলেই নেমেছিলাম। দলের সবাই দারুণ ক্রিকেট খেলেছে বলেই এমন একটা জয় এসেছে।'

প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকারের অভিনন্দন

বিদেশের মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয়ের জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রতি অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া পৃথক পৃথকভাবে জাতীয় সংসদের স্পিকার আবদুল হামিদ এডভোকেট, জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জাহিদ আহসান রাসেল এমপিও অভিনন্দন জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক বিবৃতিতে বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক জয়ের জন্য ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়, অধিনায়ক, কোচ, টিম ম্যানেজমেন্ট এবং ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ১৯৯৭ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মালয়েশিয়ায় আইসিসি ট্রফি জয়ের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটের নবযাত্রার সূচনা হয়। পরবতর্ীতে ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে প্রথম অংশ নিয়ে সম্মানজনক ফলাফল নিয়ে আসে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই ২০০০ সালে বাংলাদেশ টেস্ট মর্যাদা অর্জন করে। দীর্ঘদিন পর বিদেশের মাটিতে প্রথম টেস্ট জয় আমাদের ক্রিকেটকে আরও মর্যাদার আসনে অভিষিক্ত করেছে। তিনি এ জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান। স্পিকার আবদুল হামিদ তার অভিনন্দন বার্তায় বলেন, এ অবিস্মরণীয় জয় বাংলাদেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ক্রিকেট বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর করবে আশা প্রকাশ করে খেলোয়াড় ও বোর্ডের প্রতি এ জয়ের ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি। সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী বিজয়ের পেছনে অনন্য নৈপুণ্যের জন্য ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক সাকিবকে ধন্যবাদ জানান।

দেড় কোটি টাকা বোনাস

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশ করার পুরস্কার হিসেবে ক্রিকেটার এবং টিম ম্যানেজমেন্টকে দেড় কোটি টাকা বোনাস ঘোষণা করেছে। কোন সিরিজ জিতলে বিসিবি'র পক্ষ থেকে উইনিং বোনাস দেয়ার চল আগে থেকেই ছিল। তবে এবার বোনাসের পরিমাণ ক্রিকেটাররা বেশি পাচ্ছে জয়ের ব্যবধানটা ২-০ হওয়ায়। হোয়াইটওয়াশ করতে পারলে বিসিবি'র হিসাব অনুযায়ী ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা বোনাস দেয়ার কথা থাকলেও দলকে উৎসাহ দেয়ার জন্য আরও ২০ লাখ টাকা বাড়তি দেয়া হবে। গতকাল বিসিবি'র সভাপতি লেফটেন্যান্ট জেনারেল সিনা ইবনে জামালি দলকে অভিনন্দন জানিয়ে ওই বোনাস দেয়ার ঘোষণা দেন। বোনাসের অর্থ সমান ভাগে ভাগ করে দেয়া হবে টেস্ট দলের ২৩ সদস্যের মধ্যে। বিসিবি সভাপতি বলেন, 'আমি ক্রিকেটারদের পাশাপাশি টিম ম্যানেজমেন্ট ও ক্রিকেট অপারেশন্স ডিপার্টমেন্টের সকল কর্মকর্তাকে অভিনন্দন জানাই। এ বিজয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ দল তাদের এবং লাখো ক্রিকেটপ্রেমীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ করতে পারলো। ওদিকে বাংলাদেশ দলের এমন সাফল্যে অভিনন্দন জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার। তিনি বলেন, 'এ জয় কেবল জাতীয় ক্রিকেট দলের জয় নয়। এ জয় বাংলাদেশের চৌদ্দ কোটি ক্রিকেটপ্রেমী মানুষের জয়।' তিনি আজ ব্যক্তিগত উদ্যোগে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের বিদেশের মাটিতে প্রথম সিরিজ জয় নিয়ে একটি উন্মুক্ত আলোচনা সভার আয়োজন করছেন। এছাড়া বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়েছে বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন (বিওএ), ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব), বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে), হকি ফেডারেশন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

July 15, 2009

দেশের বাইরে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়

প্রথম টেস্ট জয়ে বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল প্রায় ৫ বছর। ২০০৫-এর জানুয়ারিতে বাংলাদেশ প্রথম জয়টি পায় জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে। তার সাড়ে ৪ বছর পর এলো দ্বিতীয় জয়টি। তবে ৬০ টেস্টে দেশের বাইরে এটিই বাংলাদেশ দলের প্রথম জয়। তবে প্রথমবারের মতো দলকে নেতৃত্বে দিতে এসেই মাশরাফী পেলেন চূড়ান্ত সাফল্য। অবশ্য ইতিহাস গড়া জয়ের কৃতিত্বের সিকি ভাগও দাবি করেননি নয়া অধিনায়ক। ম্যাচের তৃতীয় দিন সকালে হাঁটুর ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়ে মাঠ ছাড়ার পর আদতে নামেই অধিনায়ক ছিলেন মাশরাফী। গত পরশু কিছুক্ষণের জন্য ব্যাট হাতে নেমেছিলেন মাঠে। কোন রান না করেই বিদায় নিয়েছেন তিনি। প্রায় তিন দিন মাশরাফীর অনুপস্থিতিতে দলের দায়িত্ব পালন করেছেন অধিনায়কত্বের কোনরকম অভিজ্ঞতা ছাড়া সাকিব আল হাসান। আর প্রথম পরীক্ষায় লেটার মার্কসসহ পাস করেছেন সাকিবও। অন্তত মাশরাফীর চোখে বাংলাদেশের জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান সাকিবেরই। নিজের অনুপস্থিতিতে যেভাবে দলকে পরিচালনা করেছেন সাকিব_ তা দেখে অভিভূত মাশরাফী নিজেও। যে কারণে ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বারবারই সাকিবকে জানালেন 'স্পেশাল থ্যাঙ্কস'। সে সঙ্গে ধন্যবাদ জানাতে ভোলেননি ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট খেলতে নেমেই ৮ (প্রথম ইনিংসে ৩/৫৯ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৫/৫১) উইকেট নেয়া অফ স্পিনার মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ এবং প্রথম সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে দলকে লড়াইয়ের পুঁজি দেয়া তামিম ইকবালকে। তাদের কৃতিত্বেই যে ২৭৭ রানের টার্গেট দিয়ে বাংলাদেশ জিতেছে ৯৫ রানে।

দেশত্যাগের আগে ডেপুটি সাকিবের ওপর অগাধ আস্থার কথা জানিয়ে গিয়েছিলেন মাশরাফী। তবে সকলের মতো নিজেও ভাবেননি অধিনায়ক হিসাবে নিজের প্রথম ম্যাচেই সাকিবের ওপর নির্ভর করতে হবে তাকে। কিন্তু তা-ই হয়েছে। দলকে ঐতিহাসিক জয় পাইয়ে দেয়ার জন্য সাকিবকে ধন্যবাদ দিয়ে মাশরাফী বলেন, 'আমার অনুপস্থিতিতে দলকে যেভাবে ও পরিচালনা করেছে তার জন্য ওকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই। এমন একটা জয়ের পর ইনজুরির হতাশা অনেকটাই কেটে গেছে আমার।' ম্যাচ জয়ের দুই নায়ক রিয়াদ এবং তামিম সম্পর্কে মাশরাফী বলেন, 'ওদের দু'জনকে কেবল ধন্যবাদ দিয়ে খাটো করা যাবে না। ওরা যা করেছে তার ফলাফলই হচ্ছে এই জয়।' পঞ্চম দিনে দলের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানাতে গিয়ে মাশরাফী বলেন, 'আমাদের লক্ষ্য ছিল মধ্যাহ্ন বিরতি পর্যন্ত ব্যাটিং করে ৩০০ অথবা তারচেয়েও বেশি টার্গেট ওদের দিকে ছুড়ে দেয়া। কিন্তু দ্রুত ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলি আমরা। তারপরও আত্মবিশ্বাস ছিল দলে দু'জন নির্ভরযোগ্য স্পিনার থাকায়। সাকিব ও রিয়াদ দুর্দান্ত বোলিং করেছে। ওদের কৃতিত্ব দিচ্ছি এ কারণেই যে আমার ইনজুরির কারণে দল একজন বোলার কম নিয়ে খেলেছে। তারপরও আমরা জিতেছি।'


২৫২ রানের লিড নিয়ে চতুর্থ দিনে মাঠ ছেড়েছিল ৫ উইকেট হারানো বাংলাদেশ। আগের দিনের ৩২১ রানের সঙ্গে আর ২৪ রান যোগ করতেই শেষ বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস। মাত্র চার রান তুলতেই বাংলাদেশ হারিয়েছে শেষ ৪ উইকেট। ৩৪৫ রানে গুটিয়ে যাওয়ায় স্বাগতিকদের জন্য ২৭৭ রানের টার্গেট ছুড়ে দিতে পারে বাংলাদেশ। ৮০ ওভারে ওই লক্ষ্য ছোঁয়া যে অসম্ভব তা বলা যাবে না। উপরন্তু প্রতিপক্ষ দলের মূল বোলারই যেখানে ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়ে মাঠের বাইরে সেখানে কাজটা আরও সহজ। কিন্তু সেন্ট ভিনসেন্টের ব্যাটিং সহায়ক উইকেট পঞ্চম দিনে যে স্পিনসহায়ক হয়ে উঠবে তা কে-ই বা ভেবেছিল। তৃতীয় ওভারেই সরাসরি থ্রোতে রিচার্ডসকে রানআউট করে শুরুটা করেছিলেন রকিবুল হাসান। এরপর ষষ্ঠ ওভারে প্রথম ইনিংসের নায়ক ফিলিপসকে এলবিডবি্লউ'র ফাঁদে ফেলেন সাকিব। ৩৩ রানে ২ ওপেনারকে হারিয়ে স্বভাবতই খোলসে ঢুকে পড়েন উইন্ডিজ ব্যাটসম্যানরা। যে কারণে বাংলাদেশকে তৃতীয় সাফল্যের জন্য অপেক্ষা করতে হয় প্রায় ১ ঘণ্টা। কাপ্তান রেইফার (১৯)কে দিয়ে শুরু হয় রিয়াদের ধ্বংসযজ্ঞ। পরের ওভারেই তিনি পথ ধরান ডাউলিনকে। এর চার ওভার বাদে রিয়াদের শিকার সংখ্যা ৩ হয় ওয়ালটন (১০)কে এলবিডবি্লউ করে। তার বিদায়ের পর বেশ খানিকক্ষণের বিরতি। স্বাগতিকদের ড্রয়ের আশা জাগিয়ে রাখা বার্নার্ডের সঙ্গে থিতু হওয়ার চেষ্টা করছিলেন সামি। কিন্তু ৪২ বলে ১৯ রান করে তাকেও হার মানতে হয় সাকিবের কাছে। চা বিরতির আগে ৬ উইকেট তুলে নিয়ে স্বভাবতই উজ্জীবিত মনে হয়েছে বাংলাদেশকে। শেষ সেশনে তাদের প্রয়োজন আর ৪টি উইকেট। কিন্তু ওই চার উইকেট নিতেই কম লড়াই করতে হয়নি বাংলাদেশের স্পিনারদের। একদিকে দেয়াল হয়ে ছিলেন বার্নার্ড। অন্যদিকে মিলারের উইকেট অাঁকড়ে পড়ে থাকার চেষ্টা। মাত্র ৫ রান করলেও ৫৪ বল খরচ করে বার্নার্ডকে ভালই সহায়তা দেন মিলার। জুটিটা যখন জমে উঠছিল তখনই সাকিব বল তুলে দেন অভিজ্ঞ আশরাফুলের হাতে। ব্রেক থ্রু দিতে সিদ্ধহস্ত আশরাফুল এবার দলকে উৎসবে মাতালেন মিলারকে বিদায় করে। এরপর ২৪ বল খেলে রানের খাতা না খোলা অস্টিনকে এলবিডবি্লউ করে প্রথম ইনিংসের সাফল্যকেও ছাড়িয়ে যান রিয়াদ। পরের ওভারেই রোচকে মুশফিকের গ্লাভসবন্দি। ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্টেই ৫ উইকেটের কৃতিত্ব গড়েন রিয়াদ। তারপরও দুশ্চিন্তা পিছু ছাড়েনি বাংলাদেশের। একপ্রান্তে বার্নার্ড অবিচল ফিফটি হাঁকানোর পাশাপাশি ম্যাচটা ড্র করার ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন। কিন্তু দলকে জয়ের বন্দরে পেঁৗছে দেন সাকিব। শেষ ব্যাটসম্যান টিনো বেস্টকে ফুলটস বলে এলবিডবি্লউ করে বিদেশের মাটিতে প্রথম টেস্ট জয়ের স্বাদটা এনে দেন সাকিব। উইন্ডিজের ইনিংস গুটিয়ে যায় ১৮১ রানে।


সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ ২৩৮ এবং ৩৪৫/১০, ১২০.১ ওভার (তামিম ১২৮, জুনায়েদ ৭৮, মুশফিক ৩৭, সাকিব ৩০, ইমরুল ২৪, রকিবুল ১৮, রিয়াদ ৮, আশরাফুল ৩, রুবেল ১, মাশরাফী ০, শাহাদাত ০, সামি ৫/৭০, রোচ ৩/৬৭)। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩০৭ এবং ১৮১/১০, ৭০.১ ওভার (বার্নার্ড ৫২, সামি ১৯, ডাউলিন ১৯, রেইফার ১৯, রিচার্ডস ১৪, ফিলিপস ১৪, ওয়ালটন ১০, রিয়াদ ৫/৫১, সাকিব ৩/৩৯, আশরাফুল ১/৪)। ফল: বাংলাদেশ ৯৫ রানে জয়ী। সিরিজ: ২ ম্যাচ টেস্ট সিরিজ বাংলাদেশ ১-০ তে এগিয়ে। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: তামিম ইকবাল (বাংলাদেশ)।

Khoj Khobor